Date : 2020-10-23

মুখ খুললেন ভূমিপুত্র সুরজিৎ…

ওয়েব ডেস্ক: বীরভুম থেকে শুরু হয়েছিল তাঁর যাত্রা। তারপর আকাশ ছোঁয়া সাফল্য। সঙ্গীতই তাঁর পরিচয়। এখনও তাঁর বিখ্যাত একটা গানই দর্শকদের মাতোয়ারা করতে যথেষ্ট। একসময় সেই গানই ছিল আট থেকে আশির ঠোটস্থ। আজও ‘বারান্দায় রোদ্দুর’ বেজে উঠলে শ্রোতাদের মধ্যে দেখা যায় একই রকম উন্মাদনা। এতক্ষণে বোধহয় বুঝতে বাকি নেই কার কথা বলা হচ্ছে। বীরভূমের ভূমিপুত্র সঙ্গীত শিল্পী সুরজিৎ।

আরপ্লাস ওয়েব: বীরভূমের ভূমিপুত্র, কিন্তু কলকাতার কবিয়াল। কোন সুরজিৎ আপনার কাছে বেশি প্রিয়?
সুরজিৎ: দুটোর মাঝখানে কেমন একটা আটকে গিয়েছি। কারণ বীরভূমে আমার ছোটবেলা কেটেছে। আর কলকাতায় এসে স্কুল, কলেজ, বন্ধু-বান্ধব, গানবাজনার জগৎ সব পাওয়া। তবে গান লিখতে বসলেই বীরভূম আমার মনে পড়ে। তাই দুটোর মাঝে রয়েছি আমি।
আরপ্লাস ওয়েব: নাগরিক জীবনে বাংলা লোকগানকে নতুন ভাবে প্রকাশ। এতে কি বাংলা লোকগানের সমৃদ্ধি হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
সুরজিৎ: হ্যাঁ, অবশ্যই হয়েছে। কারণ ইয়ং জেনারেশন এখন নিজেদের মতো করে লোকসঙ্গীতকে রূপ দিচ্ছে। আর সেখানে লোকসঙ্গীত অবশ্যই এগোচ্ছে। আমার মনে হয়, অথেন্টিক্যালি সারা জীবন কিছু মানুষ লোকসঙ্গীত করে যাবে। এরমধ্যেই থাকবে নিয়ম ভাঙা-গড়া। এভাবেই এগিয়ে যআবে লোকসঙ্গীত।
আরপ্লাস ওয়েব: ভূমির সুরজিৎ থেকে সুরজিৎ ও বন্ধুরা। দলের নানান ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে আজকের সুরজিৎ কতটা সমৃদ্ধ?
সুরজিৎ: গানবাজনা আমার কাছে অন গোয়িং একটা লার্নিং প্রসেস। গানবাজনা সারা জীবনের সাধনা। তবে সমৃদ্ধ-র কথা বলতে গেলে সমৃদ্ধ হতে হতেই এগোচ্ছি। পুরোপুরি সমৃদ্ধ কখনওই হওয়া সম্ভব হয় নয়। ভূমি ব্যান্ডে থাকাকালীন নতুন গান বানাবো, নতুন যন্ত্র কিনবো এসব মাথায় থাকত। তখন নতুন যন্ত্র কিনতাম সেগুলো বাজাতে শিখতাম। আবার সুরজিৎ ও বন্ধুরায় সেই জায়গাটা পেরিয়ে এসেছি। এখন অভি়জ্ঞতা থেকে অনুষ্ঠান করতে গেলে বুঝতে পারি কোথায় কি গান দিয়ে শুরু করলে ভালো আবার কোথায় কোন ধরনের গান প্রয়োজন। এভাবেই সমৃদ্ধ হওয়া। যতদিন যাচ্ছে তত সমৃদ্ধ হচ্ছি।
আরপ্লাস ওয়েব: এই প্রজন্মের বাংলা গানের জনপ্রিয়তার স্থায়িত্ব কম। এর নেপথ্যে কি কারণ মনে হয়?
সুরজিৎ: না, এতে আমি একেবারেই সহমত নই। আমার মনে হয় আগেকার দিনের এমন অনেক গান আছে যা আমরা এখনও শুনি। যেগুলো অবশ্যই উচ্চমানের। নিজের গানের উদাহরণ দিয়ে বলতে গেলে যেমন বারান্দায় রোদ্দুর বা কান্দে শুধু মন কেন কান্দে রে প্রায় ২০ বছর হয়ে গেলো। কিন্তু এখনও এই গানগুলো আমি গেয়ে যাচ্ছি। গ্রামে শহরে বিভিন্ন জায়গায় এই গানের অনুরোধও আসে। তবে নিশ্চয়ই সব গান চিরকাল থাকে না। কিছু গান থাকবে কিছু গান মুছে যাবে এটাই নিয়ম। আমি ছোটবেলাতে শুনতাম আগেকার মতো গান নেই এখন। এখনও শুনি, ভবিষ্যতেও শুনবো। তবে গান থাকবে।

আরপ্লাস ওয়েব: ট্যালেন্টহান্টের মধ্যে দিয়ে কি আদৌ বাংলা গানের প্রসার ও উত্থান সম্ভব?
সুরজিৎ: এই বিষয়টা নিয়ে আমরা একটা দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে গেছি। ট্যালেন্টহান্টের মধ্যে আমরা বেশ কিছু ভালো গায়ক-গায়িকা পাচ্ছি। সে বিষয়ে কোনও দ্বিমত নেই। কিন্ত ট্যালেন্টহান্টে যেসব গায়ক-গায়িকারা আসছেন তাদের নির্দিষ্ট একটা ধারায় গ্রুম করা হয়। অনেকক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে ট্যালেন্টহান্টে পুরনো দিনের গান বেশি প্রাধান্য হয়। সেই তুলনায় নতুন প্রজন্মের গান কোথাও একটু পিছিয়ে থাকে। তবে এই ক্ষেত্রে সমস্যা বলতে পপুলার হয়ে দুবছর শো পাওযা গেল। কিন্তু তারপর আর নেই এটা একেবারে কাম্য নয়। শিখতে হবে কিভাবে লম্বা রেসের ঘোড়া হওয়া যায়।
আরপ্লাস ওয়েব: কলেজ ফেস্ট থেকে জেলার মেলা… বাংলার নব প্রজন্ম কোন গান চাইছে?
সুরজিৎ: বাংলা নব প্রজন্ম ঠিক কি গান চাইছে সেটা বলা মুসকিল। আসলে বিভিন্ন মানুষের থেকে তারা বিভিন্ন রকম গান চাইছে। তারা যেমন আমার থেকে রূপমের মতো গান চাইছে না আবার রূপম যখন স্টেজে উঠছে রূপমের থেকে আমার মতো গান চাইছে না। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি আমি। কিন্তু কোনও পার্টিকুলার জাজমেন্ট দিতে পারব না। আমার মনে হয়, যারা শিল্পী আনেন তারা নিজেরা জানেন সেই শিল্পীকে কেন আনা হচ্ছে আর কিভাবে তারা এনজয় করতে চান।
আরপ্লাস ওয়েব: সঙ্গীত সুরজিৎ সফলতার শীর্ষে। পারিবারিক সুরজিৎ কতটা সফল?
সুরজিৎ: পারিবারিক ভাবে কতটা সফল সেটা আমার বউ ভালো বলতে পারবে (হাসি)। আমি এমনিতে খুব পারিবারিক লোক। আমি যে প্রফেশনাল জগত নিয়ে ব্যস্ত থাকি তা নয়। আমার স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে বেশি আড্ডা হয়। তাছাড়া আমি একেবারে ফ্যামিলি ম্যান।
আরপ্লাস ওয়েব: আরপ্লাস ওয়েবের পাঠকদের জন্য একটা বার্তা…
সুরজিৎ: আরপ্লাস দর্শকদের সবার আগে ধন্যবাদ জানাতে হয়। দর্শকরা সঙ্গে না থাকলে কিছুই সম্ভব নয়। আরপ্লাসের সুখ-দুঃখে যেন সর্বদা এভাবেই পাশে থাকেন তাঁরা। তাঁদের কাছে এটাই অনুরোধ।