Date : 2020-10-26

জামিন পেলেও কুকুরকান্ডে যুক্ত দুই নার্সিং ছাত্রীর সাসপেন্ড হাসপাতালের তরফে…

কলকাতা: ডগ লাভার্সদের আন্দোলনের হুঁশিয়ারীর জেরে এনআরএস-এ কুকুর কান্ডে ধৃত অভিযুক্ত দুই নার্সিং ছাত্রী সোমা বর্মন এবং মৌটুসি মন্ডলকে জামিন দিল শিয়ালদহ কোর্ট। লোকাল বন্ড না মেলায় তাদের মুক্তি ঘিরে জটিলতা দেখা দেয়। তবে মুক্তি পেলেও হাসপাতালের তরফে ওই দুই নার্সিং ছাত্রীকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদেরকে আর নার্সিং পড়ার সুযোগ দেবে না এনআরএস হাসপাতাল। এদিন ওই দুই নার্সিং পড়ুয়ার জামিন মেলায়, আদালতের সামনে বিক্ষোভ দেখায় পশুপ্রেমীরা। প্রসঙ্গত, একসঙ্গে ১৬ টি কুকুরছানার মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় এনআরএস হাসপাতাল চত্বরে পশুপ্রেমীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছিল পরিস্থিতি। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, রবিবার দুপুর একটা নাগাদ হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের পিছনে বর্জ্য ফেলার স্থানে একটি বস্তা ফেলে যায় বাইরের কোনও ব্যক্তি। বস্তার মধ্যে একটি কুকুরেরছানাকে উঁকি মারতে দেখে মানুষজন। কৌতুহল বশত তারা বস্তা খুলে দেখেন , বস্তার মধ্যে একটি কালো প্লাস্টিকে মোড়া আরও বেশ কয়েকটি কুকুরের ছানা রয়েছে। বস্তাটি সম্পূর্ণ খোলার পর দেখা যায়, একে একে ১৭টি কুকুরছানা ও একটি বড় কুকুর ছাড়া সবকটি মৃত। জীবিত শাবকটিকে উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে একটি পশুপ্রেমী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেখানে শুরু হয় তার প্রাথমিক চিকিৎসা। রবিবার, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ দেখেও ছুটির দিনে হাসপাতাল চত্বর ফাঁকা থাকার সুযোগে কে বা কারা এই নৃসংশ কাজটি করে গেছে তা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। বস্তাটির মধ্যে খাবারের প্যাকেট থাকায় প্রথমিক ভাবে অনুমান করা হয়েছে, কুকুরছানাগুলিকে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছিল। ঘটনার খবর সামনে আসতেই সোমবার ডগ লাভার্সদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে কলকাতা। সোমবার সন্ধ্যায় এন্টালি থানার সামনে প্রতিবাদে সামিল হন পশুপ্রেমীরা। পশুপ্রেমীদের তরফে দাবি, যারা এই অপরাধ করেছে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে তারা। এরপর ময়না তদন্তের রিপোর্টে জানা যায়, কুকুর শাবকদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে৷ ঘটনার কথা সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পুলিশের তরফে প্রিভেনশন অফ ক্রুয়েলটি টু অ্যানিমেল অ্যাক্টে মামলা রজু করা হয়। এছাড়া পশুহত্যা ও প্রমাণ লোপাটের জন্য ৪২৯ ও ২০১ ধারা যুক্ত করা হয়৷ অন্যদিকে এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডেপুটি সুপার দ্বৈপায়ন বিশ্বাসের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করে৷ এরপরেই এনআরএস হাসপাতালের হস্টেলে গিয়ে বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করে পুলিশ। হস্টেলের দুই ছাত্রীকে তলব করা হয়। রবিবারের ঘটনার পর সোমবার সকালে প্রকাশ্যে আসে শিয়ালদহের আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজের আবাসিকদের তোলা একটি ভিডিও ক্লিপ৷ সেই ভিডিওতে দেখা যায় নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে দুই মহিলা লাঠি হাতে একটি বড় কুকুরকে বেধড়ক পেটাচ্ছে৷ লাঠির মার থেকে রেহাই পাচ্ছে না কুকুরছানাগুলোও৷ ঘটনার সঙ্গে এনআরএস হাসপাতালের বস্তাবন্দি কুকুরছানাগুলির মিল পাওয়া যায়। এই দৃশ্য দেখে পশুপ্রেমীরা আরও গর্জে ওঠেন৷ অন্যদিকে সোমবার বেলগাছিয়া পশু হাসপাতালে মৃত কুকুরগুলোর ময়না তদন্ত করা হয়েছে৷ প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, কুকুর শাবকদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে৷ পশুপ্রেমীদের অভিযোগ, ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজ দেখেও পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করছে না। হাসপাতালের বিন ব্যাগে কুকুকদের মৃতদেহগুলো পাওয়া গিয়েছে৷ হাসপাতালের বর্জ্য ফেলার কর্মীরাই একমাত্র ওই প্লাস্টিকের প্যাকেট হাসপাতাল থেকে নিতে পারে৷ সাধারন মানুষের কাছে ওই ব্যাগ থাকার কথা নয়৷ ছাত্রীদের জড়িত থাকা আরও জোরাল করেছে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি৷ এরপর মঙ্গলবার ওই ভিডিও ফুটেজের সাপেক্ষে এন্টালি থানার সামনে অভিযুক্তদের ১২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে পশুপ্রেমীরা। আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন, শ্রীলেখা মিত্র সহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্টজন। পরিস্থিতি সামলাতে ভিডিওর প্রমানের ভিত্তিতে সোমা বর্মন ও মৌটুসি মন্ডল নামে দুই ছাত্রীকে গ্রেফতার করে এন্টালি থানার পুলিশ।