Date : 2020-10-27

জানেন কি, প্রথম ভারতীয় বিমানযাত্রী নারী কে?

ওয়েব ডেস্ক: উনিশ শতকের গোড়ার দিকের কথা। নারী তো দূরের কথা, এদেশের পুরুষরাও তখন বিমানযাত্রী হওয়ার কথা স্বপ্নেও কল্পণা করতে পারত না। বহু লড়াই করার পরেও লেখাপড়ারও অধিকার থেকেও বঞ্চিত ছিল ভারতীয় নারী সমাজের একটি বড় সংখ্যক অংশ। কেউ হয়তো ভাবতেও পারবেনা, তখন বিমানে চড়ে আকাশ পথে রীতিমতো ঘুরে বেড়িযেছেন এক ভারতীয় নারী। তার নাম ইতিহাসের পাতায় উজ্বল হয়ে থাকলেও শুধু মিসেস সেন নামেই তার পরিচয় সীমাবদ্ধ থেকে গিয়েছে। এখন নিশ্চই সবার মনে একটাই প্রশ্ন আসছে কে এই মিসেস সেন? বনলতা সেন থেকে সুস্মিতা সেন, রোম্যান্টিকতায় ভারতীয়দের প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আবিষ্ট করে রেখেছেন মিসেস সেন-রা। এবার আরও একজন ‘মিসেস সেন’-এর নাম উঠে এল, যে অবিভক্ত বাংলা তথা সম্পূর্ণ ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসেই দারুণ ঘটনার অংশ হয়ে আছেন। তিনি ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম নারী বিমানযাত্রী। তথ্য সাপেক্ষে জানা গিয়েছে, ১৯১০ সালের ১৯ বা ২০শে ডিসেম্বর কলকাতার টলি ক্লাব গ্রাউন্ড থেকে উড়েছিল ভারতের প্রথম শখের বিমান। আর সেই প্রথম উড়ানের যাত্রীদের মধ্যেই একজন ছিলেন ‘মিসেস সেন’। বিভিন্ন দেশের অসংখ্য নথি ঘেঁটে এই তথ্য জানিয়েছেন এভিয়েশন গবেষক দেবাশিস চক্রবর্তী। তবে কে এই মিসেম সেন? ফরাসি সংবাদপত্র ও গবেষক দেবাশিস চক্রবর্তী তাঁর নিজস্ব গবেষণার তথ্যে বলেছেন, টলি ক্লাবের প্রথম মহিলা বিমানযাত্রী ‘মিসেস সেন’ আসলে আর কেউ নন, তিনি কেশব চন্দ্র সেনের পুত্রবধু নির্মলা নেলি সেন। অবশ্য বেশিরভাগ তথ্যই দাবি করেছে, ‘মিসেস সেন’ ছিলেন কেশব চন্দ্র সেনের কন্যা ও কোচবিহারের মহারানী সুনীতি দেবী| ‘মিসেম সেন’-র আসল পরিচয় নিয়ে সংশয় থাকলেও, কলকাতা যখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীন ছিল তখন এই ‘মিসেস সেন’ ভারতের স্বপ্ন বিমানের প্রথম মহিলাযাত্রী ছিলেন। এর থেকেও পঁচিশ বছর পরে বাঙালীর মিথ জীবনানন্দের ‘বনলতা সেন’লেখা হয়। আর অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান সেই সময় থেকেও আরো চল্লিশ বছর পর! তবে কি ভারতীয়দের স্বপ্ন বিমানেরযাত্রী ‘মিসস সেন’-কে নিছক কাল্পনিক বলতে পারি? তবে সেই সময়ের ভারতীয় সমাজে কীভাবে সম্ভব হয়েছিল এই ঐতিহাসিক বিমানযাত্রা তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন আসতে পারে। উনিশ শতকের শুরুতেই আমেরিকায় রাইট ব্রাদার্স যখন প্রথম তাদের আবিষ্কৃত বিমান নিয়ে আকাশে ওড়েন তখন থেকেই সারা বিশ্বের অভিজাতদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল বিমান নিয়ে তুমুল আগ্রহ। ব্যারন পিয়ের দ্য ক্যাটার্স ও জুল টিক নামে ওই দুই বেলজিয়ানের উদ্দেশ্য ছিল মুম্বাইতে এসে সেখানকার ধনী ইউরোপীয়ান আর ভারতের সম্ভ্রান্ত এলিট বা রাজা-মহারাজাদের বিমানে চড়ার স্বাদ পাইয়ে দেওয়ার। কিন্তু মুম্বাই নগর কতৃপক্ষ তখন শহরে সেই বিমান ওড়ানোর অনুমতি দেয়নি। দুই বেলজিয়ান ভ্রাতৃদ্বয় তখন তাদের সরঞ্জাম নিয়ে কলকাতায় এসে হাজির হন। টলি ক্লাবের বিরাট প্রশস্ত মাঠে বিমান চালানোর অনুমতি পান তারা। এবং সেই বিমানেরই প্রথম মহিলাযাত্রী ছিলেন ‘মিসেস সেন’। ১৯১০ সালের ২৮শে ডিসেম্বর জুল টিক টলি ক্লাব থেকে নিজের হেনরি ফারমান বাইপ্লেন নিয়ে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে কলকাতার আকাশে উড়ে বেড়ান। সেটাকেই পরে ‘ফ্লাইট’ ম্যাগাজিনে ‘ভারতের প্রথম পাবলিক ফ্লাইট’ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। ইতিহাস বলছে ওই ট্রায়াল রানেই নাকি প্রথম মহিলাযাত্রী ছিলেন ‘মিসেস সেন’।