Date : 2020-11-01

কার্জন পার্কের একুশের উদ্যানে মাতৃভাষার বন্দনা

কলকাতা: ২১ মানেই উদ্বীপ্ত যৌবন। ঢাকার রাস্তা দিয়ে বয়ে যাওয়া রক্তের ভাষায় লেখা গান ” আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি”। মাতৃভাষার সম্মানে এই দিনে দুই বাংলা হাতে হাত রেখে পালন করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণ করেই ২৬ বছর আগে শহরের বুকে তৈরি করা হয়েছিল ২১ শে উদ্যান। ২১ শে-র শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে আজ এই উদ্যানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল দশা হয়েছে এই উদ্যানের। চুরি হয়ে গিয়েছে পার্কের অধিকাংশ গ্রিল। অথচ এই উদ্যানেই প্রতি বছর ঘটা করে পালিত হয় মাতৃভাষা দিবস।

কিন্তু সারা বছর ধরে এই উদ্যানের বিষয়ে উদাসীন থাকে প্রশাসন। আর প্লাস নিউজের একটি বিশেষ প্রতিবেদনের মাধ্যমে এই খবর পৌঁছায় কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদের দেবাশিস কুমারের কাছে। তিনি জানান, কার্জন পার্কের এই উদ্যান দায়িত্ব সহকারে রক্ষণাবেক্ষণ করবে কলকাতা পুরসভা।

বাঙালি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজের মাতৃভাষার ও নিজের সত্ত্বাকে তুলে ধরেন এই আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে প্রাণ দেন রফিক, সালাম, বরকত, শফিউর, জব্বররা। বাংলাদেশ স্বাধীনতার জন্য মুক্তি যুদ্ধের আগুনের বারুদ ভাষা দিবসের শহিদের রক্তেই ছিল।

২১ ফেব্রুয়ারির সেই সংগ্রামের ইতিহাসকে চির প্রেরণার প্রতীকে পরিণত করে রেখেছে বাঙালি। মৌলবাদী শক্তি যখন সারা দেশে মাথা তুলে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছে তখন জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে ভাষা দিবসের সামিয়ানায় এক সাথেই শহিদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাচ্ছে দুই বাংলার মানুষ।

কাঁটা তারের সীমানায় ভাগ হয়েছে মাতৃভূমির সীমানা। কিন্তু বাংলা মায়ের দুই সন্তান বদলাতে পারেনি তার মাতৃভাষা। তাই শহরের বুকে ২১ শে উদ্যান আজও ভাষা শহিদের শ্রদ্ধার্ঘ্যে মুখরিত হয়।