Date : 2020-10-22

কথা মতো তাড়াতাড়ি ফিরলেন সুদীপ, জাতীয় পতাকায় ঢাকা কফিনে

নদিয়া: ভয়াবহ জঙ্গি নাশকতায় উপত্যকা রক্তাক্ত হয়ে ওঠার ২৪ ঘন্টার মধ্যে শহিদ জওয়ানদের তালিকায় জায়গা করে নিলেন রাজ্যের দুই বীর সন্তান। হাওড়ার বাবলু সাঁতরার পর নদিয়ার তেহট্টে সুদীপ বিশ্বাসের বাড়িতে এসে পৌঁছাল মৃত্যু সংবাদ। ছোট থেকেই দেশরক্ষার স্বপ্ন ছিল তাদের মধ্যে। আর সেই স্বপ্ন বুকে চেপে ধরেই সেনা বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন বছর সাতাশের সুদীপ বিশ্বাস। সিআরপিএফ-এর ৯৮ নম্বর ব্যটেলিয়নের জওয়ান ছিলেন তিনি। গ্রামের ছেলের দেশ সেবায় গর্বিত ছিল গোটা গ্রাম। কিন্তু দেশের জন্য আত্মবলিদান? বৃহস্পতিবার দুপুরে তার মৃত্যু সংবাদে শোকস্তব্ধ করে দিল গোটা। কান্নায় ভেঙে পড়লেন আত্মীয় পরিজনরা। বুকে পাথর চাপা দিলেও মেনে নেওয়া সম্ভব নয় যে তাদের ২৭ বছরের ছেলেটি আর কখনো ফিরবে না। কাশ্মীরের মাটিতে দেশের জন্য প্রাণ সপে দিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুর ৩ টে নাগাদ শেষ বারের মতো ফোন আসে সুদীপের। ফোনে কথা বলার সময়ও বিন্দুমাত্র অনুমান করতে পারেননি তাঁর মা বাবা, বাড়ি ফিরবে ছেলে। তবে ছেলে নয় তার কফিন বন্দি দেহ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাড়ে ৩টে নাগাদ পুলওয়ামার অবন্তীপোরায় সিআরপিএফ কনভয়ে ফিঁদায়ে হামলা চালায় জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি আদিল। ৩৫০ কেজি বিস্ফোরকবোঝাই এসইউভি নিয়ে এসে ধাক্কা মারে কনভয়ের একটি গাড়িতে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় পুড়ে খাক হয়ে যায় কনভয়ের সেই গাড়িটি। সেই কনভয়েই ছিল তেহট্টের সুদীপ। বৃহস্পতিবারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই আশঙ্কায় ভুগছিল তার পরিবার। যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না সুদীপের সঙ্গে। শুক্রবার সকাল থেকেই সুদীপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে সিআরপিএফ-এর তরফে একের পর এক ফোন আসতে থাকে। উৎকন্ঠার পারদ চড়তে শুরু করে। বেলা বাড়তেই আশঙ্কা সত্যি করে আবিশ্বাস্য সত্যির সম্মুখীন হতে হল পরিবারকে। ছোট বোনের বিয়ের দ্বায়িত্ব ছিল তার কাঁধে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনে সক্ষম মানুষ ছিলেন সুদীপ। পৌষ কালী পুজোয় ২০ দিনের ছুটি কাটিয়ে কাজে যোগ দিতে ফিরেছিলেন তিনি। ৪ বছর ধরে শ্রীনগরেই তাঁর পোস্টিং ছিল। মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর বাক্ রুদ্ধ হয়ে গেছে গোটা গ্রাম। বৃদ্ধ, অসহায় বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনও ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না তাঁরা। এখনো পর্যন্ত ৪৪ জন জওয়ানের মৃত্যুর খবর আসলেও হামলার ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বহু সেনা।