Date : 2020-11-01

রিপোর্ট আসার আগেই স্ত্রীর মৃত্যু, রক্ত পরীক্ষার পরিকাঠামোর আবেদন স্বামীর

পশ্চিম বর্ধমান: রিপোর্ট হাতে আসার আগেই মৃত্যু। রিপোর্টে পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ করা আছে, এইচওয়ানএনওয়ান পসেটিভ। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ হয় গেছে প্রশান্ত বাবুর। বাঁচার দীর্ঘ লড়াই করে অবশেষে রণে ভঙ্গ দিয়েছেন তার স্ত্রী। সঠিক সময় রিপোর্ট এলে চিকিৎসা করা সম্ভব হতো, এমনভাবে কার্যত বিনা চিকিৎসায় মারা যেতে হত না তার স্ত্রীকে, শোকের মধ্যেও এই আক্ষেপ করে চলেছেন মৃতার স্বামী প্রশান্ত পাত্র। সরকারি হাসপাতালে এইচওয়ানএনওয়ান ভাইরাসের পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে মানবিক আবেদন জানালেন মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে। তিনি চান না এই অবস্থা আর কারোর প্রিয়জনের সঙ্গে হোক। প্রসঙ্গত, আসানসোল জেলা হাসপাতাল উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা মিলছে রাজ্যের জেলার মতোই। কিন্তু সোয়াইন ফ্লু টেস্টের জন্য ভরসা করে থাকতে হয় কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের ওপর। সেই পরিষেবা যদি জেলায় জেলায় পাওয়া যায় তবে আক্রান্ত রোগীর সঠিক চিকিৎসা সময়মতো মিলবে বলে দাবি মৃতার স্বামী প্রশান্ত পাত্রের। সঠিক সময় রিপোর্ট হাতে পেলে বেঁচে যেতে পারে রোগী। তাই জেলাতেও বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের মতো পরিষেবা চালু করার বিনীত অনুরোধ জনালেন তিনি। জানা গিয়েছে, কুলটির মিঠানি গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধূ মৌসুমি পাত্র গত ২২ জানুয়ারি তারিখ জ্বরে আক্রান্ত হন। ২৩ তারিখ স্থানীয় চিকিৎসক দেখিয়েও জ্বর কমানোর চেষ্টা হয়। ২৪ তারিখ মৌসুমিকে ভর্তি করা হয় ইসিএলের কালনা সেন্ট্রাল হাসপাতালে। হাসপাতাল থেকে সন্দেহ করা হয় অজানা ভাইরাসে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন। পরদিন ভোরেই দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখান থেকে জানানো হয় রোগ নির্নয় করা যাচ্ছে না। ততক্ষণে অজানা ভাইরাস ফুসফুস কিডনিকে অচল করে দিয়েছে। এরপর বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে তাঁর রক্তের নমুনা পাঠানো হয়। রক্ত পরীক্ষা হয়ে আসতে দুদিন কেটে যায়, ততক্ষণে মৌসুমি দেবীর অবস্থার অবনতি হয় ও মৃত্যু হয় তার। তাঁর একমাত্র ছেলে পিনাকি এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। মাতৃ বিয়োগের পর সেও কোনওরকমে পরীক্ষায় বসেছে। পরিবারের তরফে একটাই প্রার্থনা যেন দূরদূরান্তে রক্ত পরীক্ষা করতে ছুটে যেতে না হয়।