Date : 2020-10-23

সাঁঝ নামলে অভিশপ্ত খাজুরাহো মন্দিরে পা রাখেনা কেউ

ওয়েব ডেস্ক: সারা বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গে ভারতবর্ষেও ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালনের প্রবনতা কয়েক দশক ধরে বেড়েছে। প্রেম থেকে আকর্ষন ও তা থেকে যৌনতার সম্পর্ক খুব স্বাভাবিক ঘটনা। তবে প্রেম নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুললেও যৌনতা নিয়ে এখনো আড়ালেই আলোচনা হয় সাধারণ মানুষের মধ্যে। যদিও তাদের মধ্যেও ব্যতিক্রমী মানুষের অভাব নেই। কিন্তু এখনো যে দেশে খোলামেলা দৃশ্যের চলচ্চিত্রে A তকমা পেতে হয় সেই দেশেই অবস্থিত মধ্য প্রদেশের খাজুরাহো ঘুরে আসলে অবাক হবেন। মধ্যপ্রদেশের এই খাজুরাহো গ্রামে অবস্থিত ২২ টি প্রাচীন মন্দিরকে দেখলে মনেই হবে না এই দেশে কোনদিন যৌনতা নিয়ে আদৌ কোন গোপনীয়তা ছিল।

বরং বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের মধ্যে এটি একটি। সনাতন ভারতের ইতিহাসে খাজুরাহো নিয়ে যে কাহিনী আছে তা অনেকেরই জানা। মন্দিরের আনাচে কানাচে রয়েছে নানা ঐতিহাসিক কাহিনী। তার একটি যেমন পাপমোচনের অন্যটি অভিশাপের গল্প। বারানসীর ব্রাহ্মণ কন্যা হেতম্বীর রূপে মুগ্ধ হয়ে চন্দ্রদেব আকৃষ্ট হন। যৌনক্রিয়ার ফলে তাদের ঔরসজাত সন্তানই ছিলেন এই অঞ্চলে প্রথম চান্দেল রাজ বংশের প্রথম রাজা চন্দ্রবর্মন। প্রচলিত কাহিনী অনুসারে চন্দ্রের সঙ্গে সহবাসের পাপবোধে হেতম্বী ভুগছিলেন। তাঁর পাপস্খলনের জন্যই নাকি চান্দেল রাজা চন্দ্রবর্মন কামমূর্তি খচিত মোট ৮৫ টি মন্দির নির্মান করেন চন্দ্রদেবের নির্দেশে। এই মুর্তিগুলি সবই দেব দেবীদের উদ্দেশ্যে নির্মিত।

কিন্তু এই মন্দিরের ইতিহাসের আড়ালে রয়েছে অন্য এক রহস্যপূর্ণ কাহিনী। যে মন্দির কিনা নির্মান হয়েছিল কারোর পাপ মোচনের জন্য সেই ফের অভিশপ্ত হয়! এমনই এক লোককথা শোনা যায় এই অঞ্চলের মানুষের মুখে। খাজুরাহো গ্রামে নাকি কোন এক সময় এসেছিলেন এক সাধু। সাধু সেখানেই তাঁর শিষ্যদের রেখে যাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন শিষ্যরা। কিন্তু অসুস্থ শিষ্যদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেননি গ্রামের কেউই। একটু জলও তাদের কেউ এগিয়ে দিতে আসেনি। এই অবস্থা দেখে সেই সাধু ফিরে এসে নাকি গ্রামের মানুষদেরকে অভিশাপ দেন। পাষাণ হৃদয়ের অধিকারী গ্রামবাসীরা তাই তারা চিরতরে পাষাণ হয়ে যাক এমন অভিশাপ দেওয়ার পরেই নাকি এই সব মানুষেরা পাথর হয়ে যায় এবং এই মন্দিরের গায়ে যৌনক্রিড়ারত মুর্তিগুলি নাকি তাদেরই।

এই জল্পনাকে উষ্কে দিয়েছে খাজুরাহো গ্রামের দু কিলোমিটার দুরে একই পাথরে নির্মিত এক কন্যার মুর্তি । লোককথা অনুসারে এই মহিলা নাকি একমাত্র যিনি অল্পক্ষনের জন্য হলেও সাহায্যের হাত এগিয়ে দিয়েছিলেন শিষ্যদের জন্য। সাধু প্রসন্ন হয়ে ওই গ্রামে একমাত্র মহিলাকে আশীর্বাদ করে পিছু না তাকিয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সাধুর অভিশাপ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে সেই মহিলা পিছু ফিরে খাজুরাহো মন্দির দর্শন করেছিলেন। আর তাতেই যত বিপত্তি, সেই মহিলাও পাষাণে পরিনত হয়েছিলেন কিছুটা দূরে পৌঁছানোর পরেই। সেই থেকে এখনো সন্ধ্যে নামার পর এই মন্দিরে কেউ থাকেনা পাষাণ হয়ে যাওয়ার ভয়ে। ভালোবাসার দিনে কামের সাক্ষ্য বহনকারী খাজুরাহো মন্দির বয়ে চলেছে অভিশাপের আতঙ্ক।