Date : 2020-10-29

চেনা ছন্দে অন্য প্রেমের “কীর্তন” শোনালো “নগর কীর্তন”

পরিচালক- কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়
অভিনয়ে- ঋত্বিক চক্রবর্তী, ঋদ্ধি সেন, বিদীপ্তা চক্রবর্তী, মানবী বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ
রেটিং- ৪/৫
ওয়েব ডেস্ক: মেকআপ, সাজগোজ পাশাপাশি উঠে এল নারীসুলভ পুরুষের গল্প। ছবির অভ্যন্তরে নিহিত পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের বলা কথা তবে অন্যরূপে অন্য ভাষায় তুলে ধরেছেন কৌশিক গাঙ্গুলি। ছবি মুক্তি পাওয়ার অনেক আগে থেকেই সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে “নগর কীর্তন”। সৌজন্যে অবশ্যই ৪ টি জাতীয় পুরস্কার। কান চলচ্চিত্র উৎসবে গত বছর হয়ে গেছে ছবির স্ক্রিনিং। পুরুষ থেকে ‘মহিলা’ হয়ে উঠতে যা কিছু প্রয়োজন- হাত পা নাড়া বা হাঁটাচলা থেকে শুরু করে কথাবার্তা বা মুখভঙ্গি, এমনকি মানসিক যন্ত্রণা- সমস্ত সূক্ষ্ম বিষয়গুলো নিখুঁতভাবে রপ্ত করে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন ঋদ্ধি সেন।

এই ছবিতে উঠে এল সমকামী প্রেমের গল্প। যদিও এটিকে সমকামী প্রেমের থেকে একটি বাঁশিওয়ালার সঙ্গে এক রূপান্তরকামীর প্রেমের গল্প বলাই ভালো। ছবিতে ফুটে উঠেছে নারীসুলভ পুরুষের মানসিক যন্ত্রণার কথা। অন্যদিকে বলতে হয় ঋত্বিক চক্রবর্তীর কথা। প্রথম থেকেই তিনি বলেছিলেন ‘মধু একজন প্রেমিক, সম না অসম সেটা বড় কথা নয়’। সিনেমা দেখতে দেখতে আপনার মনে হবে মধুর মতো এমন কত প্রেমিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আমাদের চারপাশে।মধু একজন স্বল্প রোজগারের ছেলে। চালচুলোহীন, তবু একরাশ স্বপ্ন বুকে বেঁধে রেখেছে সে। মধুর গা-ছাড়া ভাবটাই তাঁকে কোথাও যেন আকর্ষণীয় করে তুলেছে। মধুকে দেখে সমপ্রেমীর ভাবার আগে প্রতিটি মেয়ের জীবনের প্রথম প্রেমিকের কথা মনে পড়বে, হয়তো সেই প্রেম লুপ্ত হয়েছে জীবনে। প্রেম ভেঙে যাওয়ার পর আপনি হয়তো আজ জানেন না সে কোথায় হারিয়ে গিয়েছে। ছবিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা শঙ্করীর, পর্দায় আরতির চরিত্রে তাঁকে দেখা গিয়েছে।

সমাজের ‘রূপান্তরকামী’ যে সব মানুষদের এতদিন দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে, তাদের দুঃখ-কষ্টটা ফুটে উঠেছে ছবিতে। খুব সাধারণ ভাবে একটি অসাধারণ প্রেমিকের কথা বলেছেন পরিচালক। ছবির নামই ‘নগরকীর্তন’। সেখানে কীর্তন, রাধা কৃষ্ণ, চৈতন্যের প্রসঙ্গ ঘুরে ফিরে এসেছে বারবার। তবে কিছু কিছু জায়গায় যেমন মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়ের অংশটুকুতে যেন মনে হয়েছে পরিচালক প্রমাণ করতে চাইছেন গল্পটা শ্রী চৈতন্য ও রাধা কৃষ্ণের। আবার পরিমলের ছোটবেলার অংশটাও আর একটু ছোট করে দেখানো হলে হয়তো ভাল হত বলে মনে হয়েছে। গান, কীর্তন, বৈষ্ণব পদাবলী ও আবহ সঙ্গীতের ব্যবহার ছবিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। গল্পের অন্তিমভাগে পরিস্থিতির শিকার হয়ে মধু ও পুঁটির সঙ্গে যা ঘটে তা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেবে দর্শক মনে। প্রত্যেকের অনবদ্য অভিনয় ও ছবির পটভূমিকা অন্য মাত্রা যোগ করেছে।