Date : 2020-10-30

বড়মায়ের শেষযাত্রায় মৌন মিছিল মতুয়াদের

বনগাঁ: মতুয়া মহাসঙ্ঘের প্রধান বীণাপাণি দেবীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নিয়ে বুধবার সারাদিন পরিবারের অন্দরে নানা টানাপোড়েন চলতে থাকে। সেসব কাটিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে গাইঘাটায় মতুয়াদের ঠাকুরবাড়ি থেকে বড়মার শেষযাত্রা শুরু হয় ভক্তদের উপস্থিতিতে। শেষযাত্রা থেকে অন্ত্যেষ্টি পর্যন্ত সমস্ত কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার জন্য সকাল থেকেই উপস্থিত আছেন রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, সুজিত বসু ও সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। শান্তনু ঠাকুর সহ বীণাপাণি দেবীর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে শেষযাত্রায় পা মেলালেন তারা। ক্যাথলিক চার্চ, গাইঘাটা হাসপাতাল ঘুরিয়ে মরদেহ ফিরিয়ে আনা হয় ঠাকুরবাড়িতে। সেখানে ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে পুজোপাঠ ও অন্যান্য ধর্মীয় ক্রিয়া। সেখানেই গান স্যালুট দিয়ে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে মতুয়াদের সঙ্ঘ প্রধান উপদেষ্টা বড়মা-র। পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে বীণাপাণি দেবীর স্বামী প্রমথরঞ্জন ঠাকুরের সমাধিস্থলের পাশেই তাঁর সমাধিটি নির্মান করা হবে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার এসএসকেমএম হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হওয়ার পর বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায়, মতুয়াদের ঠাকুরবাড়িতে নিয়ে আসা হয় তাঁর দেহ। শেষকৃত্য নিয়ে পরিবারের অন্দরে চাপানউতোরের পর দফায় দফায় বৈঠক করে বড়মার নাতি ও মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুর জানিয়েছিলেন, আজ, বৃহস্পতিবার বিকেল চারটে নাগাদ শেষকৃত্য হবে বীণাপাণিদেবীর। এদিকে আবার মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছিলেন যে, মতুয়াদের দাবি মেনেই বৃহস্পতিবার দুপুর বারোটার মধ্যে সেরে ফেলা হবে শেষকৃত্য। ফলে বড়মার শেষযাত্রা নিয়ে পারিবারিক চাপানউতোরের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। বুধবার রাতভর বড়মার মরদেহ শায়িত ছিল ঠাকুরবাড়ির নাটমন্দিরে। সেখানেই অগনিত ভক্ত বড়মাকে শেষবারের মতো দর্শনের জন্য আসে। আবেগে উদ্বেলিত ছিলেন তারা। বৃহস্পতিবার বেলা দশটা বাজতেই বীণাপাণি দেবীর মরদেহ নিয়ে মৌন মিছিল বের করেন মতুয়ার।