Date : 2019-07-23

হালখাতা আর ঐতিহ্য মেনে শুরু বাংলার নববর্ষ ১৪২৬, শুভেচ্ছাবার্তা মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর

কলকাতা : “এসো হে বৈশাখ।” ১৪২৫কে চির বিদায় জানিয়ে ১৪২৬ বঙ্গাব্দের আবাহনে সেজে উঠেছে গোটা বাংলা। পয়লা বৈশাখ মানেই বাঙালির মিষ্টি, নতুন জামা-কাপড়, ব্যবসায়ীদের হালখাতা আর মন্দিরে মন্দিরে ইষ্টের কাছে অভিষ্ট লাভের প্রার্থনা। বাঙালির নববর্ষের আমেজ কিন্তু ইংরাজী নিউ ইয়ারের থেকে অনেকটাই আলাদা। রাত বারোটা বাজলে যে বাঙালি হ্যাপি নিউ ইয়ার বলতে অভ্যস্ত পয়লা বৈশাখ সকালে সেই বাঙালির দিন শুরু হয় ঐতিহ্যের হাত ধরে।

ইন্টারনেটের যুগে অনেকটাই ফিকে হয়েছে বাঙালির নববর্ষের ঐতিহ্য। সাচ্ছন্দ হারিয়েছে সাবেকিয়ানা। তবে বাঙালি উৎসব প্রিয় তাই নববর্ষের দিনেই বা উৎসবের উন্মাদনায় ভাটা পড়ে কি করে। এদিন সকাল থেকেই ঠাসাঠাসি ভিড় ছিল কালিঘাট মন্দিরে।

হালখাতা তৈরি করতে ভক্তের ঢল ছিল দক্ষিণেশ্বর মন্দিরেও। সাধারণ দিনের থেকেও বেশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল মন্দিরগুলিতে। কেউ বা এসেছেন সংসার,প্রিয়জনের জন্য প্রার্থনা করে মায়ের আর্শিবাদ লাভে, কেউ বা ব্যবসায় শ্রীবৃদ্ধি করতে ঝুড়ি কোলে লহ্মী-গনেশ নিয়ে বৈশাখের কড়া রোদে দীর্ঘ প্রতিক্ষা দাঁড়িয়ে আছেন।

সকাল থেকে এটাই ছিল বিভিন্ন মন্দিরের ছবি। হালখাতায় সিদ্ধিদাতার আর্শিবাদ নিয়ে এদিনই শুরু হয় বাঙালির বারোমাসের ক্যালেন্ডার, শুরু হয় একে একে সব উৎসবের প্রহর গোনা। এদিকে দেশ জুড়ে চলছে গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উৎসব লোকসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যে প্রথম দফার নির্বাচন শেষ হয়েছে। চলছে দ্বিতীয় দফার প্রস্তুতি।

উৎসবের দিনে জনসংযোগের সুযোগ হাতছাড়া না করতে ও পুজোর দিতে সকাল থেকে মন্দিরে হাজির হয়েছেন প্রার্থীরা। এদিন কালিঘাট মন্দিরে পুজো দেন দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মালা রায়। ট্যুইটারে সারা বাঙলা ও বাঙালিদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী ট্যুইট করে বলেন, ‘‘শুভ নববর্ষে সকলকে আমার শ্রদ্ধা, প্রণাম, ভালোবাসা, শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ। সকলের আশীর্বাদ, শুভেচ্ছা প্রার্থনা করি৷ সকলে ভালো থাকুন, সুন্দর থাকুন।’’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ট্যুইটারের মাধ্যমে বাংলার মানুষকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।