Date : 2021-10-17

বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে আছে “মিনিস্ট্রি অফ হ্যাপিনেস”…

ওয়েব ডেস্ক: ভারত আর চীনের মাঝামাঝি হিমালয়ের কোলে এই ছোট্টো দেশটির নাম এখন প্রায় সকলের কাছেই পরিচিত। ধুম্রসম কুশায়াচ্ছন্ন বরফাবৃত শৃঙ্গের মায়াবী আলোয় ঘনীভূত মনোরম স্থানটি ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য বন্ধ ছিল।

পাহাড়ের কোলে অবস্থিত ছোট্টো ছোট্টো রাজ্যগুলির মধ্যে অন্যতম রহস্যপূর্ণ দেশ ভূটান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রহস্যের মতো এই দেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামোর আড়ালেও রয়েছে রহস্য। পৃথিবীতে এক একটি দেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো এক এক রকম। কোথাও বা গণতান্দ্রিক আবার কোথাও প্রজাতান্ত্রিক নিয়মে রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে।

মানুষের সাচ্ছন্দ্য সুখের কথা ভেবেই পছন্দের জননেতাকে দেশের মানুষ মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য নির্বাচিত করেন। কখনও বা পূরণ হয় সেই চাহিদা, আবার কখনও বা দুর্নীতি ব্যাভিচারে জড়িয়ে পড়েন দেশের নেতারা। কলঙ্কিত হয় দেশের শাসন ব্যবস্থা।

অনেকেই হয়েতো জানেন না, ভুটান এমন একটি দেশ যেখানে সব মানুষের সুখ-দুঃখের খবর রাখে সরকার। ভুটান পৃথিবীর এমন একটি দেশ যেখানে রয়েছে সুখ মন্ত্রক বা “মিনিস্ট্রি অফ হ্যাপিনেস”। ২০০৪ সালে দেশে অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখতে তৈরি হয় একটি কমিটি।

দেশের মানুষ শান্তিতে থাকলে অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় থাকে। এই শান্তির খোঁজ নিতে তৈরি হয় “গ্রস ন্যাশানাল হ্যাপিনেস” কমিটি। এই কমিটির সৌজন্য মানুষের কাছে পৌঁছে যায় একটি কলাম, যেখানে দেশের মানুষ লিখতে পারেন তাদের জীবনের সুখ দুঃখের কথা। এমনকি তারা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট কিনা তাও লিখতে পারেন।

দোকানের সামনে লম্বা লাইন, মাত্র ২৫ পয়সায় মিলছে কচুরি…

এই দেশে যেমন সম্পদের বৃদ্ধির হার নির্ণয় করা হয় জিডিপি-এর ভিত্তিতে, ভুটানে তেমন সুখমন্ত্রকালয়ের তথ্য সংযুক্ত হয় জিডিপি-র অংশ হিসাবে। দেশের মানুষের আর্থিক ও মানসিক মূল্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার পরিসংখ্যান নেওয়া হয়।

আগামী বছর উচ্চমাধ্যমিকে প্রশ্নপত্রেই উত্তর…

ভুটানে বেড়াতে গেলে আপনি কোনো মানুষকে রাস্তায় থাকতে দেখবেন না। কোনো কারণে এখানকার মানুষ গৃহহীন হলে রাজার কাছে দরবার করেন। রাজা তাদের থাকার জন্য জমি ও চাষবাসের জন্য ব্যবস্থা করে দেন। দেশের মানুষের সুখ পরিমাপের মাধ্যমে তাদের দৈনিক চাহিদা পূরণে এভাবেই সাহায্যে করে দেশের প্রশাসনিক বিভাগ।

পাহাড়ের বুকে অবস্থিত এই দেশ প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও এদেশের মানুষ কিন্তু সমতলের থেকে অনেক সুখেই আছেন। এমনকি এই দেশে আছে বিনামূল্যে চিকিৎসা ব্যবস্থা।