Date : 2019-07-21

১ লক্ষ কোটি চারাগাছই রুখে দেবে গ্লোবাল ওয়ার্মিং! বলছে গবেষণা….

ওয়েব ডেস্ক: পৃথিবীর তিনভাগ জল আর মাত্র একভাগে স্থলভাগ। উষ্ণায়নের গ্রাসে সেই স্থলভাগে সমুদ্রে মিলিয়ে যেতে আর বেশী সময় নেবে না। তবে বেঁচে থাকার পথও আছে, ১০০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ফুরফুরে বাতাস পেতে এখন প্রয়োজন অন্তত ১ লক্ষ কোটি গাছের।

অর্থাৎ একটি বিস্তৃত গহন অরণ্যের প্রয়োজন, নাহলে বিপদ আসতে আর বেশি সময় নেবে না। সমুদ্রপৃষ্ঠের তপমাত্রা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গলে যাচ্ছে দুই মেরুর বরফ।

প্রতি সেকেণ্ডে সেখানে ভেঙে পড়ছে বিশাল বিশাল বরফের পর্বত। জল হয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে সমুদ্রে। বাড়তে শুরু করছে সমুদ্রের জল।

আরও পড়ুন: ডেনমার্কে রক্তাক্ত সমুদ্র

আর এক পা এক পা করে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে চলেছি আমরা। সুইৎজারল্যান্ডের জুরিখে সুইস ফেডারাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (ইটিএইচ জুরিখ) হালের একটি গবেষণা জানাচ্ছে এক লক্ষ কোটি গাছ একমাত্র আমাদের এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘সায়েন্স’-এ। প্রশ্ন এই বিপুল পরিমান গাছ লাগানোর জায়গা কি আদৌ আছে! ভূ বিজ্ঞানীদের দাবি সেই জায়গা এখনই আছে পৃথিবীর ভূ-ভাগে। অথচ সেই কাজ করার মতো ইচ্ছে নেই আমাদের।

আরও পড়ুন: ৪২ ডিগ্রিতে পুড়ছে সুমেরু সংলগ্ন আলাস্কা! বিপন্ন ভারসাম্য

গবেষকদের দাবী, শহর, নগরী গড়ে উঠতে যতটা জায়গা নেওয়া হয়েছে তার পরেও প্রায় ৯৫ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার অঞ্চল পরে আছে। সেই অংশে এই বিপুল সংখ্যক বৃক্ষ লাগানোর কাজে মানুষ হাত লাগালে গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেতে পারেন তারা। গাছ লাগানোর ফলে বায়ুমণ্ডলে যে গ্রিণহাউস গ্যাস বিষের মতো ছড়িয়ে রয়েছে, তার ২৫ শতাংশই সরে যাবে।

আরও পড়ুন: তীব্র দহনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছল ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে!

যত বেশি গাছ লাগানো যাবে তত বেশি কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমান বাতাস থেকে কমতে থাকবে। ফলে শুদ্ধ অক্সিজেনের পরিমান বাড়বে। কার্বন জমে থাকবে গাছের কাণ্ডে,পাতায়, শাখা-প্রশাখায়।

১ লক্ষ কোটি গাছ বসানো যাবে কোথায় কোথায় তাও বলে দিয়েছে গবেষকরা। পৃথিবীর একটি বড় অংশ রয়েছে রাশিয়ায়। রাশিয়ায় পতিত জমির পরিমান ৫ লক্ষ ৮৩ হাজার বর্গ মাইল বা ১৫ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার। গাছ বসানোর জমির নিরিখে তার পরেই রয়েছে আমেরিকা। রয়েছে ৩ লক্ষ ৯৭ হাজার ৭০০ বর্গ মাইল বা ১০ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার।

তার পর রয়েছে কানাডা। বিশেষজ্ঞরা বলছে এই পরিমান গাছ এই সব জায়গায় লাগাতে পারলে কমে যাবে গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর ভয়। এই পরিমান গাছ থাবা বসাবে না শহরাঞ্চল বা চাষযোগ্য জমিতে। এর ফলে পৃথিবীতে বাড়বে ৩ গুণ বনাঞ্চল। যদিও এতেও সমস্যা পুরোপুরি মেটার নয়। চারা গাছ বড় হতে হতে মৃত্যু হবে। যেগুলো বাঁচবে একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর তাদেরও তলিয়ে যেতে হবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে। ফের চারা গাছ পুঁতে তা বড় করতে যা সময় লাগবে তাতে বায়ু দূষণ আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে।