Date : 2019-09-19

মুভি রিভিউ: সাহো

ওয়েব ডেস্ক: “বাহুবলী-১” ও “বাহুবলী-২” মুক্তিকে ঘিরেও দর্শকের মধ্যে যেমন উত্তেজনার পারদ ছাড়িয়ে গিয়েছিল, ঠিক তেমনই ট্রেলার লঞ্চের পর থেকেই “সাহো”-তে প্রভাসকে ফের একবার রয়্যাল লুকে দেখতে তাঁর অনুরাগীদের অপেক্ষার প্রহর শেষ হল। শুক্রবার রূপোলী পর্দায় মুক্তি পেল “সাহো”। “বাহুবলী”-র পর আরও একটা ভিএফএক্স, স্পেশাল এফেক্ট, অ্যাকশনে বাজিমাত করা দৃশ্য, প্রভাস- শ্রদ্ধার রোম্যান্স, কোমর দেলানো নাচ সবই আছে কিন্তু গল্প কই?

গল্প ছাড়া ছবি তৈরির উদ্দেশ্য কি? প্রভাসের হিন্দি ছবিতে ডেবিউয়ের প্রথমেই কি ধাক্কা? এসব প্রশ্নই উঠবে ছবি দেখতে বসে। চলচ্চিত্র জগৎ-এর ট্রেন্ড অ্যানালিসিস্টদের অনুমান ছিল Avengers Endgame এর মতো হলিউডি অ্যাকশন থ্রিলার কাঁপিয়ে দিয়ে যেতে পারে “শাহ”, কিন্তু এত কসরতের পরেও চিত্র সমালোচকদের বক্তব্য গল্পের জন্য অল্প মার্কস পাবে “সাহো”।

পরিচালক- সুজিত

অভিনয়- প্রভাস, শ্রদ্ধা কাপুর, জ্যাকি শ্রফ, নীল নিতিন মুকেশ, মন্দিরা বেদী, চ্যাঙ্কি পাণ্ডে, অরুন বিজয়, মুরলি শর্মা

সময়- 2h 30min

ছবি- Action & Thriller

চোখ ধাঁধানো ভিএফএক্সের দাপটে সাড়ে তিনশো কোটি টাকা বাজেটের এই ছবির প্রচার করতে খামতি রাখেনি প্রযোজক। মোট পাঁচটি ভাষায় মুক্তি পেল “সাহো”। বলিউডে পা রাখার সময় দক্ষিণী ছবির “গড-ফাদার” রজনীকান্তকে ছাপিয়ে যেতে পারতো প্রভাস। কিন্তু সে আর হলো কই। তুমুল মিনিটে মিনিটে অ্যাকশন আর ভিএফএক্সের মাঝে খুঁজে পাওয়া গেল না ছবির আসল রসদ।

ছবির শুরুতেই ওয়াজি শহরে ‘রয় গ্রুপ অফ কোম্পানি’র কর্তার উত্থান নিয়ে মিনিটের মধ্যে একটা গল্প দর্শককের সামনে আসবে। যে গল্পের অর্ধেকটাই বেরিয়ে যাবে দর্শকের মাথার উপর দিয়ে। অবস্থা দেখলে মনে হবে পুরো প্রোডাকশন টিম যেন অপেক্ষা করছে কতক্ষণে ঝাঁপিয়ে পড়বে অ্যাকশন সিনে। চতুর্থ দৃশ্য থেকেই ধুন্ধুমার শুরু হবে পর্দায়।

মারপিট, ভাঙচুর, বোমাবাজি, গ্যাং ওয়ার, চোর-পুলিশের তাড়া দেখতে হবে প্রথমার্ধে। দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রাইম এজেন্সির খালি সিংহাসনে বসবে কে, তাই নিয়ে ষড়যন্ত্র, রেষারেষি। অন্য দিকে, মুম্বইয়ে ঘটে যাওয়া ২০০কোটি টাকার চুরির তদন্ত করতে নেমে মুম্বই পুলিশ দুনিয়ার সেরা ক্রাইম এজেন্সির দিকে হাত বাড়ায়।

একটা লকার আর তার পিছনে লুকিয়ে রাখা ২ লক্ষ কোটির মালিক হওয়ার জন্য নেমে পড়বে হিরো-ভিলেন সবাই। এরচেয়েও বড় বিষয় সিনেমার প্রথমার্ধে যে প্রভাসকে হিরো মনে হবে, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সে রাতারাতি “ব্যাড বয়” হয়ে যাবে, গল্পের মোচর বলতে ওই টুকুই। এরপর আগামী একঘন্টায় গল্প কোন দিকে এগোচ্ছে তা বুঝতে হিমশিম খেয়ে যাবেন। পর্দার ওপারে চলবে ব্ল্যাক বক্স খোঁজা নিয়ে চোর পুলিশ খেলা। দর্শকাসনে বসে আপনি খুঁজবেন গল্প। এর মাঝে একটু আধটু রোম্যান্সের দৃশ্যে আপনি একটু রিল্যাক্স করতে গেলেও পর মুহুর্তে গুলি, বোমাবাজিতে হলিউডের একনম্বর অ্যাকশন ট্রেনারদের কেরামতি দেখে লাফিয়ে উঠবেন।

একহাতে ১০০ ভিলেনের নিকেশ , হলিউডি হিরোর মতো প্রভাসের এন্ট্রিতে তাঁর অনুরাগীদের হৈহৈ করে ওঠা স্বাভাবিক। শ্রদ্ধা কাপুর ছবিতে মহিলা পুলিশ অফিসার, কিন্তু বুদ্ধিতে সে এতই কম যে প্রথম থেকেই মজার পাত্রী হয়ে আছেন গোটা ডিপার্টমন্টে। যতই ক্ষমতা থাকুক শেষ পর্যন্ত তাঁর রক্ষা কর্তা নায়ক প্রভাস। নারীর সমানাধীকার প্রতিষ্ঠার নামে অবজ্ঞা আর নায়িকাকে নায়িকা করে রাখার প্রচেষ্টা খোঁচা দেবে। হিন্দি ডেবিউয়ের স্ক্রিপটা আরও একটু মন দিয়ে পড়লে ভালো কতেন প্রভাস, কারণ ডায়লগ থ্রোয়িং-এ বেশ কিছু অসচ্ছলতা ধরা পড়েছে।

মন্দিরা বেদীকে তা-ও খানিকটা জায়গা দেওয়া হয়েছে স্ক্রিপ্টে। তবে আইটেম ডান্সে জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ় এবং অপ্রয়োজনীয় চরিত্রে ইভলিন শর্মাকে নেওয়া নেহাতই বাহুল্য।টিনু আনন্দ, প্রকাশ বেলাওয়াড়ি, মুরলী শর্মার মতো অভিনেতারা হারিয়ে গেছেন স্ক্রিপ্টের মধ্যে। কোথাও খুলে অভিনয় করতে পারেননি নীল নিতিন মুকেশ, চ্যাঙ্কি পান্ডের মতো অভিনেতারা।

যদিও টাকার অঙ্ক হিসেব করলে নিঃসন্দেহে এই ছবি প্রথম দিনেই ২৪ কোটি টাকার ব্যাবসা করে বক্স অফিস মাত করেছে। হল থেকে বেড়নোর আগে তবুও মনে হবে মন যেন ভরল না। কারণ ছবিতে গপ্পোই যে গায়েব!