Date : 2020-09-21

মিড-ডে-মিলে ড্যামেজ কন্ট্রোলে হুড়োহুড়ি, রাতারাতি নুন-ভাত বদলে ডিম-ভাত….

হুগলী: মিড ডে মিলে নুন-ভাত খাওয়ানোর ছবি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়। টাকা বারাদ্দ হওয়া সত্ত্বেও মিড ডে মিলের খাওয়ার নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ঘটনার কথা সামনে আসতেই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাসপেন্ড করেন ওই স্কুলের মিড ডে মিলের দায়িত্বে থাকা দুইজন শিক্ষিকাকে। অবশেষে বদল হয় চুঁচুড়ার বাণী মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের মেনু। স্কুল পরিচালন সমিতির চেয়ারপার্সন গৌরীকান্ত মুখোপাধ্যায় উদ্যোগে আজ দুপুরেই স্কুলে পৌঁছায় ২৫০ টি ডিম, মশলা এবং রান্নার সামগ্রী।

আরও পড়ুন : মিড ডে মিলে নুন-ভাত, মুহুর্তেই ঘটনাস্থলে সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে এই স্কুলে মিড ডে মিলে খাওয়ানো হচ্ছিল ফ্যান-ভাত আর এক চিমটে নুন। দুর্নীতির খবর পেয়ে মঙ্গলবার স্কুলে হাজির হন স্থানীয় সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেন তিনি। দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। এত কিছুর পরেও আজ সকালেও স্কুলের বোর্ডে মিড ডে মিলের মেনুতে লেখা হয়েছিল ফ্যানভাত আর নুন।

এরপরই ব্যক্তিগত উদ্যোগে ডিম-মশলা কিনে নিয়ে স্কুলে পৌঁছান চেয়ারম্যান গৌরীকান্ত মুখোপাধ্যায়। মিড-ডে মিলে ডিম-ভাত রান্নার জন্য তিনি শিক্ষিকাদের নির্দেশ দেন। এখন রান্না করে খেতে দিতে গেলে ছাত্রীদের খাওয়ার দেরি হয়ে যাবে এই নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় শুরু হয় শিক্ষিকাদের। মুদির দোকান থেকে ঋণ করে কেনো কেনা হয়নি খাদ্য সামগ্রী , পাল্টা প্রশ্ন করেন চেয়ারম্যান। এরপর ছাত্রীদের জন্য ডিম সেদ্ধ করা হয় এবং ভাত ও নুন সহকারে পরিবেশন করা হয়।

: দু’মুঠো গরম ভাতের অভাবে স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি পরিবারের

আজকের মতো রান্নার সমস্যা মিটে গেলেও কাল কি হবে এই নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্কুল পরিচালন সমিতির চেয়ারম্যান বলেন, নির্দিষ্ট মুদির দোকান থেকেই রোজের সামগ্রী পৌঁছে যাবে স্কুলে।উল্লেখ্য, ২৫ হাজার টাকার ডিম কেনা হয়েছে, কিন্তু ছাত্রীরা পায়নি একটাও।

২৫৬ বস্তা চালের কোনো হদিশ নেই। গত কয়েক মাস ধরে মিড-ডে মিলে কখনও ফ্যানা ভাত, কখনও আলুসিদ্ধ ভাত খেয়েছে চুঁচুড়ার বালিকা বাণীমন্দির স্কুলের ছাত্রীরা। ঘটনা সংবাদ মাধ্যমের সামনে আসতেই রাতারাতি বদলে যায় গোটা পরিস্থিতি। আপাতত ঘটনার উপর প্রশাসনিক নজরদারি রয়েছে বলে সূত্রের খবর।