Date : 2019-09-19

মুভি রিভিউঃ ‘লুজার’ তকমা জীবন যুদ্ধে হেরে যাওয়ার রসদ নয়, শেখাল “ছিছোড়ে”…

ওয়েব ডেস্ক: “পরীক্ষায় হেরে যাওয়া মানেই জীবনে হেরে যাওয়া নয়”-এই পাঠ পড়াল “ছিছোড়ে”। ‘তোকে ওর থেকে বেশি নম্বর পেতে হবে’, ‘এই পরীক্ষায় যদি সবার থেকে বেশি নম্বর না পাস তাহলে কিন্তু কপালে দুঃখ আছে’ এর মাঝেই মা-বাবারা অজান্তেই যে তাদের সন্তানের প্রতি কতটা চাপের সৃষ্টি করেন তার খোঁজ তাঁরা নিজেরাই রাখেন না। ‘লুজার’ তকমাতেও যে জীবন যুদ্ধে জেতা যায় তারই নিদর্শন এই ছবি। রোজ খবরের কাগজ খুললেই নজরে আসে, কোনো না কোনো দেশে নতুন প্রজন্ম কেবল একটি পরীক্ষায় সফল হতে না পেরেই এক নিমেষে মুছে ফেলছে নিজের জীবনের আলো। ভেবে বসছে যে, সে জীবনেও আর কখন সফতার সোনালী আলোর উষ্ণতা অনুভব করতে পারবে না। এই চিন্তাভাবনার গন্ডি থেকে আজকের প্রজন্মকে হাত ধরে তুলে আনতে চেয়েছেন পরিচালক নিতেশ তিওয়ারী। তাহলে এবার ছবির গল্পে আসা যাক।

অনিরুদ্ধ ও মায়ার (সুশান্ত সিং রাজপুত ও শ্রদ্ধা কপুর) একমাত্র ছেলে রাঘব (মোহাম্মদ সামাদ) এন্ট্রান্স পরীক্ষায় সফল হতে না পেরে, নিজেকে লুজার ভেবে, জীবন যুদ্ধে সে হেরে যাওয়র ভয় ও মা-বাবাকে মুখ দেখানোর লজ্জা-ঘেন্নায় আত্মঘাতী হয়। প্রচন্ড সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। কিন্তু ডাক্তার জানান যে সে নিজেই বাঁচতে চাইছে না, আর সেই কারণেই রাঘবের শরীর কোনো চিকিৎসাতেই সাড়া দিচ্ছে না। তার মাথায় ‘হেরো’র তকমা লেগে যাওয়ার আশঙ্কাতেই এতটা নিরাশা ঘিরে ধরেছে তাকে।

ছেলেকে আসল জীবনের স্বাদ বোঝাতেই অনিরুদ্ধ তার কলেজের পুরোনো বন্ধুদের ডেকে ছেলেকে তাদের কলেজের গল্প শোনাতে থাকে। সেই গল্পের সিড়ি বেয়ে ওঠার প্রতি মুহুর্তেই ওঠা-পড়া, কষ্ট-দুঃখ, তিনটে বছরের হোস্টেলের সারাজীবন মণিকোঠায় বন্দি করে রাখার মত স্মৃতি ও বন্ধুরা, সবাই মিলে হইহুল্লোড়, সবটার সঙ্গেই প্রতিটা মানুষ যে ভিষণরকম নিজেকে খুঁজে পেয়েছে তা সিনেমাহলে বসে বেশ বোঝা যায়। চিত্রনাট্যের গতিতেই সবার মনের ভিতর বুনতে থাকবে বেঁচে থাকার আশা, বন্ধুত্ব উদযাপনের অনাবিল আনন্দ ও চোখ ভিজবে মা-বাবা ও সন্তানের সম্পর্কের মেলবন্ধনকে ঘিরেও।

নিতেশ তিওয়ারির এই ছবিতে প্রধান চরিত্রই আসলে কেউ নন। প্রত্যেকেই এক একটি ভিন্ন চরিত্র হয়ে উঠেছে যেন। সুশান্ত ও শ্রদ্ধা চিরকালই ভালো অভিনয় করেন। তবে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হবে নবাগত নবীন পলিশেট্টির কথা। পর্দায় যতজন দক্ষ অভিনেতা ছিলেন, তাঁদের কারোর চেয়ে কোনো অংশে কম মনে হয়নি তাঁকে। সেটা নিজেই প্রতিটি দৃশ্যে প্রমাণ করেছেন দাপটের সঙ্গে। এছাড়াও বরুন শর্মা, তুষাড় পাণ্ডে, তাহির রাজ বাসিন, শরশ কুমার শুক্লার অভিনয়ও নজর কাড়বে।

দ্বিতীয়ার্ধে ছবির দীর্ঘতা কিছুটা বিরক্ত লাগলেও, স্পোর্টস ইভেন্টটি শুরু হওয়ার পর পরিচালক নিতেশ তিওয়ারি ওনার স্বভাব মতই কাউকে নিশ্বাস ফেলারও সময় দেননি। তবে ছবিতে কখন ছাত্ররা পড়াশোনা করল তার খোঁজ মেলেনি যদিও। সবথেকে মনে রাখার মত বিষয়, গোটা ছবি জুড়েই পরিচালক কোনো দৃশ্যেকেই অতিরঞ্জিত করেননি। যেহেতু ওদের নিয়েই সিনেমা, তাই ওরা জিতবেই, বা এই গল্প শুনেই অসুস্থ ছেলেটি সুস্থ হয়ে গেল, এরকম ধরনের কোনো মিরাকেলও দেখাননি পরিচালক। সেই কারণেই এই ছবির গল্পের সত্যতাই যেন সবকিছুকে ছাড়িয়ে বড় হয়ে উঠেছে। সবার হৃদয়ের কোণা ছুঁয়ে যেতে পেরেছে।