Date : 2019-09-19

গতবছরই রদ হয়েছে ৩৭৭ ধারা, গোটা বছরে আদৌ কি কিছু বদলেছে LBGTQদের অবস্থা?…

ওয়েব ডেস্ক: কেটেছে গোটা একটা বছর। আগের বছর ঠিক এরকমই একটি দিনে বড় বড় অক্ষরে টেলিভিশনের পর্দায় ভেসে উঠেছিল কয়েকটি শব্দ। সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে সেকশন ৩৭৭ রদ করা হয়েছে। এবার থেকে ভারতবর্ষে সমলিঙ্গ সম্পর্ক কোনো অপরাধ নয়। #Loveis Love হ্যাসট্যাগে মেতেছিল সেই সময় সারা ভারত, রাস্তায় বেরিয়েছিল প্রাইডমার্চ। এত বছর পর এবার শান্তিতে নিঃশ্বাস নিতে শিখেছিল যেন তারা। কারণ ছোটো থেকেই তাদের এটাই শেখানো হয়েছে যে মেয়ে হলে তার সম্পর্ক তৈরির অধিকার আছে কেবল একটি ছেলের সঙ্গেই, আর ছেলে হলে ঠিক বিপরীতটা। কিন্তু যারা আর পাঁচজনের মত গতেবাধা নিয়মের লাল সুতোয় বাঁধায় পড়তে রাজি নয় তারা? তারা কি তবে বেমানান?

তাদের এই সমাজ মানতে পারে না? মা-বাবা লজ্জায় আত্মীয়-স্বজনদের মুখোমুখি হতে পারে না! কেন? কারণ তাঁদের ছেলে/মেয়ে যে সমলিঙ্গের একজনকে ভালোবেসে ফেলেছে। আর এ যে ঘোর পাপ! এটা আবার হয় নাকি। তার ফলশ্রুত কোনো বাবাজি বা জাক্তারের কাছে “আমার ছেলে/মেয়েটাকে বাঁচিয়ে দিন” আর্জি নিয়ে স্বরণাপন্ন মা-বাবা। গত বছর সেই আইনটি তুলে দেওয়ার দরুণ আজ যারা নিজেদের ঘরে বন্দি বানিয়ে রাখত “লোকে কি বলবে”র ভয়, তারাও দরজা খুলে সুন্দর সকালের বুকে পা রেখেছে। তারা আর প্রতি মুহুর্তে সমাজকে নিজেদের ভালোবাসার সঙ্গীর কথা বুক চিতিয়ে বলতে পিছপা হচ্ছে না। তবুও এতকিছুর মাঝে এটাই প্রশ্ন যেন ঘুরেফিরে এসে বারেবারে ধাওয় করে, যে এই একটা বছরে আদৌ কি কিছু বদলেছে? বোধহয় না।

কারণ আজও এমন বহু ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে সামনে আসে, যা পরিচয় দেয় মানুষের নিম্ন মানসিকতার। তার কিছু উদাহরণ উল্লেখ করা হল।

১. সমলিঙ্গ সম্পর্কে আছে বলে দুটি মেয়েকে তাদের ভাড়া বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

২. ‘লেডিস’ বলে উপেক্ষা করা হয় এবং ছেলেদের প্রতি আকর্ষিত বলে একটি ছেলেকে এতটাই মানসিক অত্যাচার করা হয় যে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সে আত্মহত্যার পথকেই সহজে বলে বেছে নেয়।

এরকম বহু ঘটনারই সম্মুখিন হত হয়েছে তাদের। তবে মানুষ যে বদলায়ওনি তা বললে ভুল হবে।

১. দেশের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যত দ্যুতি চাঁদ প্রথম তাঁর সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণের কথা স্বিকার করে লোকসমক্ষে।

২. দুজন সমলিঙ্গের মহিলা উকিলও সেকশন ৩৭৭ সুপ্রিম কোর্টে লড়েছিলেন নিজেদের সেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। এবং পেয়েছেন সফলতাও।

৩. রক্ষণশীল পরিবার থেকে হওয়া সত্বেও নিজের ছেলের সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণকে মেনে নিয়েছে এক বাবা-মা।

৪. কেরালায় প্রথম এক ট্রান্সজেন্ডার মহিলা নিযুক্ত হয়েছেন সঞ্চালিকা হিসেবে।

যেকোনো পরিবর্তনই মন্থর হয়। তবে বিলম্বিত হলেও তা হোক, সেটাই কাম্য।