Date : 2019-09-19

চাপা পড়ে মরতে হলেও রাজি বাসিন্দারা, বৈধ কাগজ না মেলায় বউবাজারে অবরোধ…

কলকাতা: ভেঙেছে বাড়ি, চোখে-মুখে শুধুই এখন আশঙ্কার ছাপ। এভাবেই প্রহর গুনছে কলকাতার বউবাজারের বাসিন্দারা। ৫ দিন কেটে গেলেও হয়নি সুরাহা, মেট্রো রেলওয়ের পক্ষ থেকে মিলেছে আশ্বাস বাণী। তবুও আশ্বস্ত নয় তারা। উপযুক্ত কাগজপত্র না মিললে, বা লিখিত ভাবে KMRCL গৃহ পুনঃনির্মানের আশ্বাস না দিলে কোন ভাবেই বাড়ি ছাড়তে রাজি হচ্ছেন না বউবাজারের বাসিন্দারা। বিপজ্জনক বাড়িতে প্রয়োজনে চাপা পড়ে মরতে রাজি আছেন বাসিন্দারা, বৈধ সরকারি কাগজ তাদের চাই। এই দাবীতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বউবাজার অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন : ফের বৌবাজারে ভাঙল বাড়ি, ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়ল মেয়ের বিয়ের স্বপ্ন

মেট্রোর সুরঙ্গে জল ঢুকে ধসে গিয়েছে ভিতের মাটি। ঠাঁইনাড়া হয়ে পড়েছেন দুর্গা পিতুরি লেন ও সংলগ্ন অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ। তাই মেট্রো কর্তৃপক্ষের কথামতো পুরনো, বিপজ্জনক বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন আশেপাশের হোটেলে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীও পড়ে ছিল বাড়িতেই। এভাবেই বিপদ থেকে নিরাপদে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল অন্তত ৫০০ বাসিন্দাকে। কিন্তু এবার মেট্রো কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত এবার একবাক্যে মেনে নিতে নারাজ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাই বৃহস্পতিবার সকালে স্যাঁকরা পাড়া লেন, দুর্গা পিতুরি লেনের দেখা গেল অন্য ছবি।

আরও পড়ুন : মেট্রোর কাজে বেনজির বিপর্যয়, সুরঙ্গে খুঁড়তে গিয়ে বৌবাজারের ১৮টি বাড়িতে ধস

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মাইকিং করে এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, বিপজ্জনক বাড়ি হলেও বৈধ কাগজপত্র না দিলে বাড়ি ছাড়বেন না। তাদের দাবি, মেট্রোর কাজের জন্য বাড়ি ভেঙেছে, অথচ মেট্রো কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্থ বাড়িগুলির ব্যবস্থা না করে সেখান থেকে বাসিন্দাদের বের করে ভাঙা বাড়ি পুনঃনির্মানের দীর্ঘ মেয়াদি আশ্বাস দিচ্ছে। এদিকে বাড়ি পুনঃনির্মানের জন্য এখনও পর্যন্ত KMRCL কোন কাগজপত্রও দেয়নি। এরফলে বাসিন্দাদের মধ্যে থেকে অনেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন। বিপজ্জনক বাড়িতেই থাকার সিদ্ধান্ত নিতে রাজি আছেন তারা।

ঘটনার পরেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এলাকা পরিদর্শন করে মেট্রো কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিপর্যয় মোকাবিলায় কয়েকটি পরামর্শ দেওয়া ছাড়াও মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি কোর গ্রুপ তৈরি করে দেন। শুধু তাই নয় বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের নির্দেশে বৃহস্পতিবার বসত বাড়ি ছেড়ে দিচ্ছেন রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী তাপস রায়। এ সত্ত্বেও লিখিত আশ্বাস না মেলা পর্যন্ত বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে চান না বাসিন্দারা।