Date : 2019-11-18

এক মাস ব্যাপী অনন্য দীপাবলি ইসকনে, জানুন দামোদর ব্রতের মাহাত্ম্য…

কলকাতা: সদ্য শেষ হয়েছে বাঙালির মহাপুজো। কোজাগরীতে লক্ষ্মীর আরাধনা করে একটু বিরতি নিতে না নিতেই দুয়ারে এসে হাজির হয় আলোর উৎসব দীপাবলি। কার্তিক মাস ঘোর কালো অমাবস্যার রাতেই একদিকে চলে অশুভের নিধন অন্যদিকে আলোর উৎসবের মধ্যে দিয়ে আহ্বান করা হয় শুভ শক্তির। কিন্তু এতো মাত্র একদিনের ব্যাপার। ভুত চতুর্দশী থেকে ভাইফোঁটা শেষ হতেই শেষ হয় দীপাবলির আনন্দ। কিন্তু মাস জুড়ে আলোর উৎসব চলে ইসকন মন্দিরে। সেখানে লক্ষ্মী পূর্ণিমার দিন থেকে শুরু হয়েছে দামোদর ব্রত, শেষ হয় রাস পূর্ণিমার দিন। ‘দাম’ কথার অর্থ দড়ি। ‘উদর’ অর্থাৎ পেট।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দামোদর লীলার মাধ্যমে বাৎসল্য রসের লীলা করেছেন। এই মাসে ভগবানকে দীপ দান করা হয়। শাস্ত্রে বলা আছে এই মাসে নাম জপের ফল হাজার গুন হয়।

তাই বৈষ্ণব মতে এই মাস মোক্ষ লাভের মাস। ভগবান শ্রী কৃষ্ণকে মাখন চুরি করার দণ্ড হিসাবে মা যশোদা তাঁর কোমরে দড়ি পারিয়ে বেঁধে রাখতে গিয়ে মহা সঙ্কটে পড়েছিলেন।

যত বড়ই দড়ি আনছিলেন ততবারই তা ছোট হচ্ছিল। অবশেষে মা যশোদা ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন দেখে ভগবান নিজেই সেই দড়িতে ধরা দেন। মায়ের কাছে শাস্তি পেয়েও নিজের কর্ম ও ধর্ম স্থাপনায় অবিচল ছিলেন তিনি। মায়ের বাঁধন এতই শক্ত ছিল যে সেই বাঁধন খুলতে গিয়ে সামনে থাকা দুটি গাছের সাহায্য নেন বালগোপাল। অভিশপ্ত হয়ে ওই গাছ রূপে দীর্ঘদিন মুক্তির আশায় ছিলেন দুই গন্ধর্ব।

দেখুন ভিডিও…

ছোট্ট গোপালের শক্তিতে সেই বিশাল দুই বৃক্ষ আছড়ে পড়ে মাটির উপর। মুক্তি লাভ করে দুই গন্ধর্ব। ভাগবানকে প্রনাম করে তারা ফিরে যান স্বর্গে। ভগবান শ্রী কৃষ্ণের এই বাৎসল্য লীলাকে বলা হয় দামোদর লীলা।

সেই উপলক্ষ্যে অ্যালবার্ট রোডে কলকাতা ইসকন ও মায়াপুর ইসকন সহ ইসকনের বিভিন্ন শাখায় কার্তিক মাসব্যাপী চলে দীপ দান অনুষ্ঠান।

শেষ হয় রাসপূর্ণিমার দিন। এই উপলক্ষ্যে দেশী বিদেশি ভক্তরা উপস্থিত হন ইসকন মন্দিরে। দীপ দান করেন ভগবান শ্রী কৃষ্ণের উদ্দেশ্যে। মনে মনে বিশ্বাস করেন, মোক্ষ লাভের দ্বিগুন ফল তাঁদের দান করবেন শ্রী কৃষ্ণ। দেখুন সেই দীপ দানের অপূর্ব ভিডিও….