Date : 2019-11-18

পথে আটকে গিয়েছিল জমিদারের গাড়ি, তারপরেই স্বপ্নাদেশ…

উত্তর দিনাজপুর:- রায়গঞ্জের দেবী নগরের রাস্তার ধার দিয়ে যেতে যেতে আপনার চোখে পড়বে একটি মন্দির। দূর থেকে দেখলে মনে হবে মন্দিরের কাজ সমাপ্ত হয়নি। কারণ মন্দিরের মাথায় নেই কোন ছাদ। ভিতরে নেই কোন মূর্তি। চার দেওয়ালের মধ্যে রয়েছে শুধু একটি শূন্য বেদী। নিত্যদিন সেই বেদীর উপর হয় দীপান্বিতা কালীর আরাধনা। রায়গঞ্জের বাসিন্দাদের বিশ্বাস এই মন্দিরে বিরাজ করছেন জাগ্রত দেবী। শুধু কালী পুজোর দিনেই এখানে মূর্তি তৈরি করে পুজো করা হয়। তবে সেই মূর্তি তৈরি করার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু নিয়ম আছে।

স্বপ্নে এখনও আসেন মা, কথা বলেন, স্বীকার করলেন পুরোহিত

রাতের অন্ধকারেই এখানে মূর্তি তৈরি হয়। আবার দিনের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় মূর্তি তৈরির কাজ। এই পুজোর সঙ্গে জড়িত রয়েছে ভূপালপুরের জমিদারের এক অলৌকিক অভিজ্ঞতার কাহিনী। দেবী নগরের পথ দিয়ে ফেরার সময় হঠাৎ-ই তাঁর গাড়ি আটকে যায়। যে স্থানে তাঁর গাড়ি খারাপ হয় বর্তমানে সেই স্থানেই তৈরি হয়েছে মন্দির। সেই রাতে জমিদারকে স্বপ্নাদেশ দিয়ে দেবী তাঁকে ওই স্থানে মন্দির প্রতিষ্ঠা করে দেওয়ার আদেশ দেন। এমনকি ওই মন্দিরের মাথায় আচ্ছাদন যাতে না দেওয়া হয় সেই আদেশও করেন।

টোল থেকে ফেরার পথে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু আসতেন এই কালী মন্দিরে

আগে পুজোর সময় বলি দেওয়ার প্রথা চালু ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গিয়েছে সেই নিয়ম। এখন লুচি, সুজি ও মিষ্টি ভোগ হিসাবে দেওয়া হয়। কালীপুজোর রাতে এই মন্দিরের বেদীতে বসানো হয় মূর্তি। রাতেই শেষ করা হয় পুজো। আগে ভূপালের রাজ পরিবারের উপরেই ছিল এই মন্দিরের ব্যায় ভার। এখন অবশ্য মন্দির কমিটির উপরেই রয়েছে এই ব্যায় ভার।