Date : 2019-12-15

ছবি তৈরি করার পর মুনাফার জন্য রিলিজ না করা প্রযোজকদের অত্যন্ত অন্যায়: বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত….

ওয়েব ডেস্ক:- কবিতা আর চলচ্চিত্র কখনওই তাঁর কাছে আলাদা ছিল না। ছবির মধ্যে কিভাবে কবিতা এসে পড়ে তার ব্যাখ্যা তিনিও দিতে পারলেন না। কিছুটা যেন স্বপ্নের মতো। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের ছবি ‘উড়োজাহাজ’-এর স্ক্রিনিং ছিল কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। তার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সিনেমায় ‘স্বপ্নের ফেরিওয়ালা’ তাঁর স্বপ্নের ‘উড়োজাহাজ’ নিয়ে দু-চার কথা বলতে। জানালেন এতো অল্প টাকায় কলকাতায় বসে ছবি তৈরি করার অভিজ্ঞতার কথা। অসুস্থতা নিয়েও ছবির জন্য অসম্ভব পরিশ্রম করেছেন তিনি। এর আগে মুম্বই ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, কেরালা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মাদ্রিদ, নিউ ইর্য়ক ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দেখানো হয়েছে ‘উড়োজাহাজ’। জেনে নিন কি বলল পরিচালক,

প্রশ্ন:- ছবির মূল কাহিনী প্রসঙ্গে….

বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত:- ছবি তৈরির ক্ষেত্রে মূল সমস্যা ছিল একটি উড়োজাহাজ জোগাড় করা। ছবির আর্ট ডিরেক্টর আনন্দকে আমি ধন্যবাদ জানাই। ও ইন্ডাস্ট্রি এমনকি কলকাতার গর্ব। স্বল্প খরচে এইভাবে কাজ করা সত্যিই প্রশংসনীয়। আর ছবির প্রসঙ্গে বলতে গেলে বলব, এটা একজন স্বপ্নতাড়িত মানুষের গল্প। রাষ্ট্র আমাদের স্বপ্নের গলা টিপে ধরে। এদেশে এখনও স্বাধীনচেতা মানুষের অবস্থা খুব স্বাভাবিক নয়। সংঘাতের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় শেষমেশ স্বপ্নকে সে হারায়। ছবিটি অনেকটাই সত্যঘটনার প্রেক্ষাপটে নির্মিত।

ছবির কলাকুশলী ও অভিনেতাকে নিয়েও তিনি প্রশংসা করেন। টোপ ছবিতে চন্দন রায়, পর্ণো মিত্র অসামান্য দক্ষতার প্রকাশ করেছেন। পরিচালক হিসাবে তিনি ছবির প্রতিটি কলাকুশলীকে তাঁদের যোগ্য প্রশংসা করলেন।

প্রশ্ন:- ছবি ও প্রযোজক সম্পর্ক অবশ্যই বানিজ্যিক। ছবিকে বানিজ্যিক মুনাফার পণ্য করা প্রযোজকদের সম্পর্কেও পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের কন্ঠে প্রতিবাদের সুর…..

বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত:- ছবি তৈরির পর অনেক সময় প্রযোজক ১০ টাকার জায়গায় ২০ টাকা দাবি করে। এই কারণে অনেক সময় তৈরি ছবি রিলিজ করেন না তাঁরা। প্রযোজকদের এটা রীতিমতো অন্যায় কাজ। এমন অনেক ছবি আমার ফেল্টিভ্যেলে দেখানো হয়েছে তবুও ছবি রিলিজ করতে পারিনি। টোপ মুক্তি পেয়েছিল বারুইপুরের একটি হলে। প্রায় প্রতিদিনই হাউসফুল গিয়েছিল। তবুও শহরের একাধিক বড় হলে রিলিজ করতে পারিনি। ছবির বানিজ্যিক দিক দেখলেই হয় না। ভালো ছবি হলে সেটা দেখার দায়িত্ব কিছুটা দর্সকের উপরও বর্তায়।

প্রশ্ন:- নতুনদের নিয়ে কাজ করা ও নতুন গল্পের ছবি পরিচালনা কেন?

বুদ্ধদেব দাসশগুপ্ত:- নতুনদের নিয়ে কাজ করতে অবশ্যই ভালোবাসি। অনেক সময়ই মনে হয় নতুন মুখ দরকার হয়। তাই চন্দনকে নিয়েছিলাম। উড়োজাহাজ সত্যি ঘটনার উপর নির্মিত। এমন একটি উড়োজাহাজ সত্যি পাওয়া গিয়েছিল। মানুষ এমন স্বপ্ন দেখে। নতুন একটি উড়ো জাহাজ তৈরি করব এবং স্বপ্নের উড়ানে পারি দেব। বাকিটা জানতে গেলে ছবিটা দেখতে হবে।”

প্রশ্ন:- রাজ চক্রবর্তীকে কেমন লাগে?

বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত:- রাজ সত্যি ভালো ছেলে। ওর সঙ্গে যেটুকু আলাপ হয়েছে তাতেই ভালো লেগেছে।

প্রশ্ন:- প্রসঙ্গ যখন ছবির বাজার ও মুনাফা…

বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত:- “বিদেশে আমার ছবির একটা বাজার তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে বিশাল কিছু টাকা না পেলেও যথেষ্ট পেয়েছি। কলকাতার দর্শকদের কথা অবশ্যই ভাবি। তাদের কথা মাথায় রেখে ছবি করি।”

প্রশ্ন:- কবিতা ও ছবি কে কখনও আলাদা করে দেখেননি কিভাবে ছবিতে কবিতাকে নিয়ে আসেন?

বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত:- ছবি করতে গিয়ে কবিতা কিভাবে আসে আমি নিজেও জানি না। এই ঘরানা অনেকেই অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন অথচ পারেননি। কবিতার সঙ্গে অবশ্যই ছবির একটা সমতা তৈরি হয়ে যায়। সুস্থ থাকলে আগামী দিনেও ছবি করব।