Date : 2020-01-24

মুম্বইয়ে ‘ফ্রি কাশ্মীর’ প্ল্যাকার্ড, তরুণীর বিরুদ্ধে এফআইআর

ওয়েব ডেস্ক : জেএনইউ-তে অশান্তি ও সংঘর্ষের প্রতিবাদে মুম্বইয়ের গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবাদ আন্দোলন #অকুপাই গেটওয়ে আপাতত থিতিয়ে গেলেও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ উঠল এক তরুণীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সন্ধেবেলা কোলাবা থানার পুলিশ মেহাক মির্জা প্রভু নামে এক তরুণীর বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে। ভারতীয় দণ্ডবিধি অর্থাৎ ইন্ডিয়ান পেনাল কোডের ১৫৩বি ধারা অনুসারে ওই তরুণীর বিরুদ্ধে জাতীয় সংহতির পক্ষে অবমাননাকর এবং জাতীয় সংহতি ভাঙার লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণ হলে সর্বাধিক পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল হাজত হতে পারে। #অকুপাই গেটওয়ে চলার সময় মেহাক মির্জা প্রভু জেএনইউ-র প্রতিবাদীদের সমর্থনে একটি ‘ফ্রি কাশ্মীর’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করছিলেন।

পরে এক ভিডিও ফুটেজে কৈফিয়ত হিসাবে মেহাক বলেন, তাঁর মনে হয়েছে তিনি ‘মূলগত সাংবিধানিক অধিকার’ এবং ‘মতপ্রকাশের অধিকার’ অনুযায়ী জম্মু-কাশ্মীরে ইন্টারনেট বন্ধের প্রতিবাদ করেছেন। তিনি নিজে একজন আর্টিস্ট। গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়ার নীচে অনেক আন্দোলনকারী নানা ধরনের পোস্টার এঁকে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। ‘ফ্রি কাশ্মীর’ লেখা প্ল্যাকার্ডটা পড়েছিল। তাঁর মনে হয়েছিল, একজন নেট ব্যবহারকারী হিসাবে তাঁরও জম্মু-কাশ্মীরে ইন্টারনেট বন্ধের ব্যাপারে প্রতিবাদ জানানো উচিত। তাই তিনি প্ল্যাকা্র্ডটা তুলে নিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন : জল খাওয়া বন্ধ করতে ১০ হাজার উটকে গুলি করা হবে অস্ট্রেলিয়ায়!

জম্মু-কাশ্মীরে নেট বন্ধের প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বুরহানউদ্দিন ওয়ানির মতো কট্টরপন্থী মুসলিম সন্ত্রাসবাদীদের সাইবার ক্রাইম ঠেকাতে। যে কারণে নিরাপত্তা বাহিনীর অপারেশনে বুরহানউদ্দিন ওয়ানি খতম হওয়ার পর ওই রাজ্যে পাকিস্তানি সামরিক গুপ্তচর বাহিনীর প্ররোচনায় মারাত্মক তাণ্ডব শুরু হয়। বুরহানউদ্দিন ওয়ানি নিহত হওয়ার পর তার সেকেন্ড ম্যান হিসাবে যে সাইবার ক্রাইমের দায়িত্ব নেয়, তাকেও বেশ কিছু দিনের মধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনী খতম করে। কিন্তু তাতেও যে বিপদ কাটেনি, সংবিধানের ৩৭০ ধারা অর্থাৎ জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহারের পাশাপাশি ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত থেকেই তা স্পষ্ট।

আরও পড়ুন :৯৪ বছর নতুন ব্যাবসা, ইন্টারনেটে ভাইরাল চণ্ডিগড়ের বৃদ্ধা

মঙ্গলবারই #অকুপাই গেটওয়ে আন্দোলন মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানে সরিয়ে দিয়েছিল পুলিশ। সাধারণত বাণিজ্য রাজধানীতে কোনও সভা-সমাবেশ হলে আজাদ ময়দানে হয়। স্বভাবতই মুম্বইবাসীদের মনে প্রশ্ন উঠেছে, শহরের অন্যতম প্রধান পর্যটনস্থল গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়ায় প্রতিবাদ জানানোর অনুমতি দিল কারা?

এই গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়াতেই ২০০৩ সালের ২৫ আগস্ট গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে বহু মানুষ হতাহত হয়। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর সমুদ্রপথে এই গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়ায় চুপিসাড়ে নেমে পাকিস্তানি সামরিক গুপ্তচর বিভাগ ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) মদতপুষ্ট আত্মঘাতী জঙ্গিরা বাণিজ্য রাজধানীতে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছিল। তাজ হোটেল, শাবাদ হাউস, ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাসে বহু মানুষকে তারা হত্যা করেছিল। সেই ঘটনার মূল চক্রীরা আজও অধরা।

গোটা অপারেশনের দায়িত্ব যার উপর ছিল, লস্কর-ই-তোইবা সুপ্রিমো হাফিজ মহম্মদ সইদের সেই লেফটেন্যান্ট লাকভি নাম-কা-ওয়াস্তে কিছুদিন পাকিস্তানের জেলে বন্দি ছিল। তার পর এক দিন সে উধাও হয়ে যায়। কারণ, জেলের চাবি তার হাতেই পাকিস্তানি সামরিক অফিসাররা তুলে দিয়েছিলেন। আরব সাগর পেরিয়ে আসা ২৬ নভেম্বরের ঘাতক বাহিনী যে গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়াকে কলঙ্কিত করেছিল, সেই জায়গায় কী করেই বা #অকুপাই গেটওয়ে-র মতো আন্দোলন সমাবেশের অনুমতি পুলিশ দিল আর কী করেই ‘ফ্রি কাশ্মীরে’র মতো প্ল্যাকার্ড সেখানে উদয় হল, তার উত্তর খুঁজছেন সাধারণ মুম্বইবাসী।