Date : 2020-01-24

পৃথিবীর কাছেই আর এক পৃথিবী!

ওয়েব ডেস্ক : সৌরজগতের বাইরে নতুন গ্রহের সন্ধানে বেরিয়েছিল ‘টেস’। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি আর একটা পৃথিবীর সন্ধান সে যে পেয়ে যাবে, তা বোধহয় নাসা-র বিজ্ঞানীরাও ভাবতে পারেননি। সূর্যের থেকে পৃথিবীর দূরত্ব যা, নিজস্ব নক্ষত্রের থেকে ওই গ্রহের দূরত্বও মোটামুটি তা-ই।

বিজ্ঞানীদের আশা, ওই গ্রহে পৃথিবীর মতো জলের সন্ধান মিলবে। এমন একটা গ্রহ পেল প্ল্যানেট হান্টার স্যাটেলাইট ‘টেস’, যার থেকে পৃথিবীর দূরত্বও বেশি নয়। সৌরজগতের বাইরের অন্যান্য গ্রহের চাইতে এই গ্রহ অনেক কাছে। মাত্র ১০০ আলোকবর্ষ! বিজ্ঞানীরা এই গ্রহের নাম দিয়েছেন টিওআই ৭০০ডি। পৃথিবীর থেকে এর বপু ২০ শতাংশ বড়। যদিও আমাদের সূর্যের থেকে তার সূর্য ৪০ শতাংশ ছোট।

হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের হনলুলু-তে আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির বার্ষিক বৈঠক ছিল। সোমবার সেখানেই সৌরজগতের বাইরে এই নতুন পৃথিবীর সন্ধান মেলার কথা ঘোষণা করেন নাসার জেট প্রপালশান ল্যাবরেটরির মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। নাসা-র অ্যাস্ট্রোফিজিক্স ডিভিশনের ডিরেক্টর পল হার্টজ জানিয়েছেন, আমাদের সৌরজগতের কাছাকাছি যেসব নক্ষত্র, পৃথিবীর মতো বসবাসযোগ্য কোনও গ্রহ তাদের প্রদক্ষিণ করছে কি না তা খুঁজে বের করার জন্যই ‘টেস’-কে বানানো হয়েছিল এবং মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল।

Source – NASA

গোড়ার দিকে ‘টেসে’র হিসাবে কিছু গণ্ডগোল হচ্ছিল। গ্রহগুলির আসল আকার আর উষ্ণতা যা, ‘টেসে’র পাঠানো খবর অনুযায়ী সেগুলিকে তুলনায় বড় এবং উষ্ণতায় বসবাসের অযোগ্য বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু বেশ কয়েকজন অপেশাদার অ্যাস্ট্রোনমার অর্থাৎ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ভুলটা ধরিয়ে দেন। তাঁদের মধ্যে এক কিশোরও ছিল। হাইস্কুলের ছাত্র অ্যালটন স্পেনসার। অ্যালটন এখন অবশ্য টেসের টিমেই কাজ করছে। ভুলটা তাঁরা ধরলেন কীভাবে? শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এমিলি গিলবার্ট জানিয়েছেন, “আমরা যখন তারা-র প্যারামিটার অর্থাৎ স্থিতিমাপের হিসাবটা শুধরে নিলাম তখন গ্রহের আকারগুলিও ঠিকঠাক ধরা পড়ল। দেখতে পেলাম, পৃথিবীর কাছাকাছি এমন একটা গ্রহ আছে, যার আকার প্রায় পৃথিবীরই সমান। অবস্থানও এমন, যেখানে বসবাস করা যায়।”

পরে, স্পিটজার স্পেস টেলিস্কোপ টিওআই ৭০০ডি-র আবিষ্কার অভ্রান্ত বলে জানিয়ে দেয়।

আগেও এই ধরনের বেশ কয়েকটা গ্রহের সন্ধান মিলেছিল। কেপলার স্পেস টেলিস্কোপের মাধ্যমে সেগুলি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু টিওআই ৭০০ডি-র মতো আবিষ্কার আগে হয়নি। ২০১৮ সালে ‘টেস’-কে মহাকাশে পাঠানো হয়। মাত্র দুই বছরেই সে তাক লাগিয়ে দিল।

সূর্যের তুলনায় টিওআই ৭০০ নক্ষত্রটি ছোট। সূ্র্যের তুলনায় আকারে ৪০ শতাংশ ছোট। সূ্র্যের মতো গরমও সে নয়। সূর্যের তুলনায় তার উষ্ণতা অর্ধেক। টিওআই ৭০০-র কক্ষপথে ‘টেস’ তিনটি গ্রহ খুঁজে পায়। টিওআই ৭০০বি, ৭০০সি আর ৭০০ডি। এর মধ্যে একমাত্র ‘ডি’-কেই পৃথিবীর মতো বসবাসের উপযোগী বলে বিজ্ঞানীদের মনে হচ্ছে। সূর্যের থেকে পৃথিবীর যা দূরত্ব, প্রায় সেই অবস্থান থেকে নিজস্ব নক্ষত্রকে ‘ডি’ প্রদক্ষিণ করছে।

ডি-র থেকে টিওআই ৭০০ খুব দূরেও নয়, খুব কাছেও নয়। পৃথিবীর তুলনায় টিওআই ৭০০ডি ২০ শতাংশ বড়। টিওআই ৭০০-কে সে প্রদক্ষিণ করে মাত্র ৩৭ দিনে। সূর্যের থেকে পৃথিবী যত আলো আর প্রাণশক্তি পায়, টিওআই ৭০০ থেকে ‘ডি’ পায় তার ৮৬ শতাংশ। ডি-র পরিমণ্ডলের গঠন উপাদান এবং ভূত্বকের উত্তাপ মাপতে গবেষকরা কিছু মডেল তৈরি করেছেন। টিওআই ৭০০ নক্ষত্রের সাইজ আর টাইপের ওপর ভিত্তি করে। একটা হিসাব অনুসারে নাসা দেখছে, ডি-র আবহাওয়া ঘোলাটে, কার্বন ডাই-অক্সাইডে পূর্ণ। সেখানে একাধিক সমুদ্র আছে।

তবে টিওআই ৭০০ডি নিয়ে সবে গবেষণার শুরু। আরও অত্যাধুনিক সামগ্রীর সহায়তা নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সদ্য-আবিষ্কৃত এই গ্রহকে পর্যবেক্ষণ করবেন। নাসা-র মডেলের সঙ্গে মানানসই নতুন ডেটা মেলে কি না, দেখবেন।