Date : 2020-06-02

বিয়ের মাস বৈশাখে করোনার থাবা, প্রজাপতি ঋষির অফিসে তালা!

চৈত্র পেরিয়ে বৈশাখ। ১৪২৬-কে বিদায় জানিয়ে এসেছে ১৪২৭ বঙ্গাব্দ। নতুন বছর নতুন আশা নিয়ে এলেও আপাতত তা শিকেয় তোলা। নোভেল করোনা ভাইরাসের হাত এত লম্বা যে তালা ঝুলিয়েছে খোদ প্রজাপতি ঋষির অফিসেও।

রাজ্যে দেড় হাজার ম্যারেজ রেজিস্ট্রার রয়েছেন। এরা রাজ্য সরকার নিয়োজিত হলেও কেউই সরকারি কর্মী নন। ম্যারেজ রেজিস্ট্রি করার জন্য পারিশ্রমিক বাবদ যে টাকা পান তার একটা অংশ রাজ্য সরকারকে তুলে দেন তাঁরা। করোনার জেরে এখন সঙ্কটে এই ম্যারেজ রেজিস্ট্রাররাও। লকডাউনে পড়ে তাঁরাও এখন রোজগারহীন। বন্ধ ম্যারেজ রেজিস্ট্রি অফিস। বর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী পাত্রপাত্রীকে বিবাহের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হয়। ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের কাছে সশরীরে উপস্থিত থেকে রেজিস্ট্রি খাতায় সই করতে হয়। রেজিস্ট্রির সময় বর-কনে ছাড়াও সাক্ষী হিসাবে তিনজনের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। লকডাউনের সময় যা কোনওমতেই সম্ভব নয়। একে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম। সঙ্গে রয়েছে করোনা সংক্রমণের আতঙ্ক। দুয়ে মিলে সমস্যায় পড়েছে পাত্রপাত্রী ও তাদের পরিবার। ফলে বিয়ের দিক ঠিক হয়ে গেলেও, সব আয়োজন সারা হয়ে গেলেও দুয়ে দুয়ে চার হচ্ছে না।

চলতি এপ্রিলেই বেশ কয়েকটি বিয়ের দিন রয়েছে। ১৪ এপ্রিল, ১৫ এপ্রিল, ১৬ এপ্রিল, ১৭ এপ্রিল কিংবা পরের মাসের ৫ মে, সবই পাঁজি অনুযায়ী বিয়ের শুভদিন। কিন্তু বৈশাখ এলেও পাত্রপাত্রীর পরিবারে সুখ নেই। অনেকেই তদ্বির করছেন ম্যারেজ রেজিস্ট্রারদের কাছে। যাতে বিয়ের অনুষ্ঠানটা বাদ দিলেও বিয়েটা চুকে যায়। কিন্তু শত অনুরোধেও জল গরম হচ্ছে না। ম্যারেজ রেজিস্ট্রাররা তাদের অপারগতার কথা জানাচ্ছেন। আসলে তারাও নিরুপায়। লকডাউনের ফলে তাদেরও যে অফিস বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

বিয়ের ফুল ফুটলেও আপাতত তাই প্রতীক্ষা।