Date : 2020-08-04

মেহতাবের সঙ্গে যা হয়েছে সবই জানি, মন থেকে বিজেপিকে মোছা যাবে না, বললেন দিলীপ

২০২১ সালের ভোটে বিধানসভায় টার্গেট দুশো নাকি দুশোর বেশি? বদল না বদলা ? হিংসা থেকে গণতন্ত্র, মুকুল থেকে তৃণমূল, বিভিন্ন ইস্যুতে বৃহস্পতিবার আর প্লাস নিউজের স্টুডিওতে ঝড় তুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আর প্লাস নিউজের এডিটর ইন চিফ সুজিত চট্টোপাধ্যায়কে দেওয়া এক ঘণ্টার সাক্ষাৎকারে দিলীপবাবুর সাফ কথা, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন করতে যা করার করবেন। অর্থাৎ বার্তা স্পষ্ট, পরের বছরের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখেই লড়তে চান বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা বাড়ছে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে কি তা আরও বাড়বে। এই প্রশ্নের জবাবে দিলীপবাবু বলেন, “রাজ্যে রোজ আমরা লাশ গুণছি, আমাদের কর্মীরা খুন হচ্ছেন, অথচ রাজ্য সরকার বলছে সবই নাকি আত্মহত্যা। তাই পরিবর্তন করতে হলে যা করার তাই করব। মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন, শান্তির জন্যও যুদ্ধের প্রয়োজন। তাই যা বলব তাই করব, যা করব আগে বলেই করব।” পরের বিধানসভা ভোটে বিজেপি যে রাজ্যে ক্ষমতায় আসবে তা নিয়ে নিশ্চিত দিলীপবাবু। একইসঙ্গে তাঁর প্রতিশ্রুতি, শুধু ক্ষমতায় আসবে না দুর্নীতিমুক্ত সরকারও গড়বে বিজেপি। তৃণমূলের সঙ্গে তাঁদের লড়াই নীতির লড়াই বলেও দাবি দিলীপবাবুর।

প্রাক্তন ফুটবলার মেহতাব হোসেন বিজেপিতে যোগদানের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজনীতি ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। কেন? দিলীপবাবুর খেদোক্তি “রাজ্যজুড়েই এমনটা চলছে। আসল ভিতরের ঘটনা আমরা জানি। এসব চলতেই থাকে। কাউকে চমকিয়ে বসিয়ে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তাদের মন থেকে বিজেপিকে মুছে দেওয়া যাবে না।”

২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, গুজরাট নয়, বহিরাগতরাও নয়, বাংলাকে শাসন করবে বাংলাই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন এর মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথাই তুলে ধরতে চেয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এই প্রশ্নে দিলীপবাবুর বক্তব্য, “বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রশ্নটাই অবান্তর। যারা সঙ্কীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে সবকিছু দেখেন তারাই এমনটা ভাবেন। যা বাঙালি জাতীয়তাবাদ তাই ভারতীয় জাতীয়তাবাদ, আবার যা ভারতীয় জাতীয়তাবাদ তাই বাঙালি জাতীয়তাবাদ।”