Date : 2020-10-01

বিশ্বভারতী রাজনীতির কুস্তির আখড়া নয়, অশান্ত পরিবেশের অবসান চেয়ে শঙ্খ ঘোষদের খোলা আবেদন

বিশ্বভারতীতে পৌষমেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়াকে ঘিরে তপ্ত গোটা বাংলা। রং লেগেছে রাজনীতির। উঠেছে সিবিআই তদন্তের দাবি। উঠেছে ঐতিহ্যে আঘাতের কথা। বিবৃতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই একে অপরের দিকে তির ছুঁড়েছে তৃণমূল ও বিজেপি। এই প্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার বাংলার সংস্কৃতিমনস্কদের পক্ষ থেকে খোলা আবেদন জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। যার মূল কথা, অবিলম্বে এই বেদনাায়ক পরিবেশের অবসান হতে হবে। বিশ্বভারতীর মর্যাদা রক্ষায় সম্মিলিত শুভবুদ্ধির কথাও বলেছেন শঙ্খ ঘোষ-সহ বিশিষ্টরা।

খোলা আবেদনে বলা হয়েছে, “রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতী সাম্প্রতিক সময়ে যে কর্মকাণ্ড এবং ঘটনাবলীর মধ্য দিয়ে চলেছে, তা ক্রমাগত আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত করে তুলেছে। কিন্তু অতি সম্প্রতি উপযুক্ত ঐকমত্য ও সহযোগিতার প্রস্তুতি ছাড়াই কর্তৃপক্ষের বিশ্বভারতীর সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, তার ফলে এক অরাজক ভাঙচুর এবং পরবর্তী সময়ে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, বিশ্বকবির আশ্রম তাতে রাজনীতির কাদামাখা কুস্তির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এর ফলে শান্তিনিকেতনের সুষমা ও বিশ্বভারতীর শিক্ষা সবই সমূলে নষ্ট হতে চলেছে। এই দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি আমাদের গভীরভাবে বিচলিত করে তুলেছে। কোনও রাজনৈতিক দল অথবা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের দিকে আমরা আমাদের অসন্তোষ, অভিযোগ নির্দেশ করে অবস্থান আরও জটিল করে তুলতে চাইছি না। কিন্তু সুষ্পষ্টভাবে এই অনভিপ্রেত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কায়েমি কোনও পক্ষকেই সমর্থন করছি না, বরং সদর্থক ও সংবেদনশীল এক অবিচল পক্ষপাতহীনতা থেকে অবিলম্বে এই বেদনাদায়ক পরিবেশের অবসান চাইছি। সম্মিলিত শুভবোধ ও উদারতাই পারে বাংলা ও বাঙালির আবেগ জড়ানো বিশ্বভারতীর শান্তি ও মর্যাদা রক্ষা করতে।” এই আবেদনে নাম রয়েছে কবি শঙ্খ ঘোষ ছাড়াও তরুণ মজুমদার, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, বিভাস চক্রবর্তী, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, মনোজ মিত্র, শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়, অরুণ মুখোপাধ্যায়, অশোক মুখোপাধ্যায়, চন্দন সেন, পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অনীক দত্ত, সব্যসাচী চক্রবর্তী, মেঘনাদ ভট্টাচার্য, দেবজ্যোতি মিশ্র-সহ বহু বিশিষ্ট জনের।