Date : 2021-10-19

KMC : তিলোত্তমার জল যন্ত্রণা থেকে মুক্তির আশার বাণী শোনাতেই পারল না কলকাতা পুরসভা।

স্নেহাশীষ চট্টোপাধ্যায় রিপোর্টার : শনিবার থেকে বঙ্গোপসাগরের উপর যে ঘূর্ণাবর্তটি ক্রমশ নিম্নচাপের রূপ নিয়েছে, সেটির মুখ ওড়িশা উপকূলের দিকে ঘুরে গিয়েছে। যে কারণে পূর্ব মেদিনীপুর ও উপকূলীয় জেলাগুলি ছাড়া অন্যত্র ভারী বৃষ্টি হবে না।কিন্তু প্রথম নিম্নচাপ প্রভাব বিস্তার করতে না পারলেও পরেরটি কিন্তু ক্রমশ শক্তি বাড়াবে বলেই মনে করছে আবহাওয়া দপ্তর। পূর্বাঞ্চলীয় আবহাওয়া অধিকর্তা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে পারে ২৬ সেপ্টেম্বর। এটি রাজ্যের উপকূলে এসে পৌঁছতে পারে ২৮ সেপ্টেম্বর। যার জেরে ওইদিন বৃষ্টির দাপট বাড়বে। ভারী বৃষ্টি হবে দুই মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা এবং বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রাম ও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলায়।

কলকাতা পুরসভা তাদের প্রস্তুতি সেরে রাখলেন।গোলাপ আছড়েপরার অপেক্ষা করতে চাইছে না পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর প্রধান ফিরহাদ হাকিম। জল জামার অপেক্ষা করবে না কলকাতা পুরসভা।আগে থেকেই পুরসভার কর্মী আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা জায়গা গুলিতে।

শনিবার ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন গুলাবের জন্য প্রস্তুত পুরসভা। শহর কলকাতার পুরোনো বাড়িগুলি জন্য অতিরিক্ত নজরদারি চলবে।পুরসভার স্কুল গুলি নেওয়া হয়েছে। সেখানে অস্থায়ী ক্যাম্প করে শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে।কারণ ৩০০০ হাজার বিপদজনক বাড়ি ছাড়াও এমন ১০০ বাড়ি আছে যেগুলো বিপদসীমার ওপর রয়েছে।আক্ষেপের সুরে ফিরহাদ জানান তাঁরা ২৭টি খাল সংস্কারের জন্য রাজ্যের সেচ দফতর ও মুখ্যসচিবকে আগেই চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল কলকাতা পুরসভা।

শহর কলকাতা মানুষকে এর জন্য সমস্ত রকম ভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করলো কলকাতা পুরসভা। স্পেশাল কমিশনার তাপস চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি বিপর্যয় মোকাবিলার রুপরেখা ঠিক করা হয়।  অতিরিক্ত জল জমা, গাছ ভেঙে পড়ে বা উপড়ে পড়লে যাতে দ্রুত তা সরিয়ে ফেলা হয় সে কারণে বিপর্যয় মোকাবিলা দল কে প্রতিটি বরোতে তৈরি রাখা হচ্ছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনার জন্য কলকাতার ৭৬ টি পাম্পিং স্টেশন কে আগাম সতর্ক থাকার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।অতিরিক্ত আর ৩০০০ পাম্পিং মেশিন ভাড়া করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। নিচু এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত ভ্রাম্যমান গাড়িতে পাম্পিং মেশিন থাকছে। পুরসভার নিজস্ব চিকিৎসক দল থাকছে। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশ,সিইএসসি সঙ্গে ও যোগাযোগ ও সমন্বয় রেখে যেকোনো ধরনের  অপারেশন করা যায়।  পুরসভা ও কলকাতা পুলিশের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনে যাতে দ্রুত বিদ্যুৎ বিছিন্ন হয়ে পড়লে বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেলে তা দ্রুত মেরামত হয়।এবং দুর্যোগের সময় যাতে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে কারোর কোনো ক্ষতি না হয় সে বিষয়টি নজর রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।