Date : 2021-11-27

চন্দ্রপৃষ্ঠে মজুত বিপুল অক্সিজেন, যা দিয়ে ৮০০ কোটি মানুষ ১ লক্ষ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারেন

মাম্পি রায়, নিউজ ডেস্ক : করোনা আবহে অক্সিজেনের জন্য হাহাকার, একের পর এক মৃত্যুর সাক্ষী থেকেছে দেশ তথা গোটা বিশ্ব। একেবারে নতুন এই ভাইরাসের দাপটে প্রবল শ্বাসকষ্ট সহ একাধিক লক্ষ্মণে ভুগেছেন কোটি কোটি মানুষ। অক্সিজেনের যথাযথ যোগান দিতে ব্যর্থ হয়েছে বহু হাসপাতাল। আবার পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুও হয়েছে অনেকের। বর্তমানে সেই পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। তবে দূষণ যে হারে বাড়ছে, আগামীদিনে শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন থাকবে কিনা, তা ভাবাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের।
এই পরিস্থিতিতে একদল বিশেষজ্ঞের গবেষণায় উঠে এসেছে চমৎকার তথ্য। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, চন্দ্রপৃষ্ঠে যে পরিমাণ অক্সিজেন আছে, তা যদি ঠিকঠাক সংগ্রহ করা যায়, তবে তা দিয়ে ৮০০ কোটি মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে ১ লক্ষ বছর কাটিয়ে দিতে পারবেন। তবে সেই অক্সিজেন বায়বীয় রূপে নেই। চাঁদের একেবারে উপরের স্তরে পাথরের মধ্যে রয়েছে সেই অক্সিজেন। যার নাম রেগোলিথ। সেই রেগোলিথ থেকে কীভাবে অক্সিজেন সংগ্রহ করা সম্ভব, সেই পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পৃথিবীর বাইরে অন্য কোনো গ্রহে প্রাণধারণ সম্ভব কিনা, এই নিয়ে ইতিমধ্যে গবেষণা শুরু করেছে বিভিন্ন দেশ। এই গবেষণা দারুণ কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে। চাঁদের উপরের স্তর থেকে ওই অক্সিজেন সংগ্রহ করা গেলে, তা দিয়ে মানুষের প্রাণ বাঁচানো যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার একটি নন প্রফিট ওয়েবসাইটে এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে উল্কা নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। সেই তথ্য অনুযায়ী চাঁদের রেগোলিথের ৪১ থেকে ৪৫ শতাংশই অক্সিজেন। কিন্তু সেটা সিলিকা, অ্যালুমিনিয়াম, লোহা এবং ম্যাগনেশিয়াম অক্সাইড দিয়ে তৈরি রেগোলিথের নীচে জমে রয়েছে। রেগোলিথ থেকে ওই অক্সিজেন সংগ্রহ করতে গেলে ইলেক্ট্রোলাইসিস প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে বিজ্ঞানীদের। এই পদ্ধতিতে অক্সিজেন থেকে অ্যালুমিনিয়ামকে আলাদা করা যেতে পারে। তারপরই ওই অক্সিজেন ব্যবহারযোগ্য হতে পারে।
এই প্রক্রিয়াটি সহজ মনে হলেও, চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে অক্সিজেন বের করাটা কঠিন হবে। রেগোলিথ থেকে টেকসই এবং কার্যকরী অক্সিজেন বের করার প্রক্রিয়া অর্থাৎ ইলেক্ট্রোলাইসিস করতে গেলে প্রচুর শক্তির প্রয়োজন। যা সূর্য কিংবা চাঁদে থাকা কোনো শক্তির উৎস দিয়েই সংগ্রহ করা যেতে পারে। সেজন্য ভারী শিল্প সরঞ্জাম নিয়ে যেতে হবে চাঁদে, যা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। যদিও এই নিয়ে কাজ করতে শুরু করে দিয়েছেন বহু মানুষ।
বেলজিয়ামের একটি স্টার্টআপ স্পেস অ্যাপলিকেশনস সার্ভিসেস তিনটি পরীক্ষামূলক চুল্লি বা রিঅ্যাক্টর তৈরির কথা ঘোষণা করেছে। যেগুলো ইলেক্ট্রোলাইসিস প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের উৎপাদন বাড়াতে পারে। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির অভিযানের অংশ হিসেবে ২০২৫ সাল নাগাদ এই রিঅ্যাক্টরগুলো চাঁদে পাঠানো হতে পারে। একটি রিপোর্ট বলছে চন্দ্রপৃষ্ঠের উপরের ১০ মিটারের মধ্যে বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন রয়েছে। এই পদ্ধতি যদি কার্যকর করা যায়, তাহলে পৃথিবীর বাসিন্দাদের জন্য সেই অক্সিজেন যোগান দেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ।