Date : 2022-10-05

কলেজস্ট্রিটে পুরনো বইয়ের সংগ্রহশালা, যেখানে আনাগোনা রয়েছে নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেনেরও

শাহিনা ইয়াসমিন, রিপোর্টার : কেউ বই পড়তে ভালোবাসেন। কেউ ভালোবাসেন পড়াতে। এমন দুই বই প্রেমিকদেরই আনাগোনা রয়েছে কলেজস্ট্রিট বইপাড়ায়। বইপাড়া জুড়ে রয়েছে বহু গল্প, ইতিহাস। তেমনি এক ইতিহাসের সন্ধান খুঁজে পাওয়া গেল। একটি পুরনো বইয়ের দোকান। যাকে বই সংগ্রহশালা বলা যেতেই পারে। যেখানে আজও নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেনের আনাগোনা রয়েছে।

লেখাপড়া হোক কিংবা আড্ডা- কলেজস্ট্রিটের সঙ্গে বাঙালির এক অলিখিত আত্মিক সম্পর্ক রয়ে গিয়েছে। বাঙালির রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে বইয়ের গন্ধ, আর এই বইয়ের খনি হল আমাদের কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়া। বলা যেতেই পারে ভারতের বৃহত্তম বইয়ের বাজার এটি। কলেজ স্ট্রিটের ইতিহাস প্রায় ২০০ বছরের পুরনো। সেই সময় হাতে গোনা কয়েকটি বইয়ের দোকান ছিল কলেজ স্ট্রিট বইপাড়ায়। সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত সব থেকে পুরনো ও সচল বইয়ের দোকানের মধ্যে একটি হল দাশগুপ্ত অ্যান্ড কোম্পানি। যশোর থেকে আসা শিক্ষাবিদ গিরিশচন্দ্র দাশগুপ্তর হাতে ১৮৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই বইয়ের দোকান। ৫৪/ ৩ নং কলেজ স্ট্রিটে গেলেই দেখা যাবে হাজারো বইয়ের দোকানের মাঝে আজও স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে দাশগুপ্ত অ্যান্ড কোম্পানি। দোকানের বর্তমান মালিক হলেন অরবিন্দ দাশগুপ্ত। যিনি চতুর্থ পুরুষ। আজও ইতিহাস নিজের কাঁধে বয়ে নিয়ে চলেছেন তিনি।
দাশগুপ্ত অ্যান্ড কোম্পানি ২০১২ সালে হেরিটেজ তকমা পেয়েছে। ২০০ বছর পুরনো এই বইয়ের দোকানটির তিনতলা জুড়ে বইয়ে ঠাসা। গিরিশচন্দ্রবাবু ৫০ টি বই নিয়ে দোকান খোলেন। বর্তমানে বইয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০ হাজার। পড়াশোনার বই ছাড়া গল্পের বই, উপন্যাস, সাহিত্য সবই আছে একই ছাদের তলায়। বিদেশি বই আনার ব্যাপারে খুব উতসাহী ছিলেন গিরিশচন্দ্রবাবু। যার চল আজও সমান রয়েছে।

সত্তরোর্ধ্ব অরবিন্দবাবু জানান এই বইয়ের দোকানে ডঃ রাধাকৃষ্ণন, সুখময় চক্রবর্তী, সুকুমার সেন, মেঘনাথ সাহা সহ বহু মহান ব্যক্তিত্বরা পায়ের ধুলো দিয়েছেন। এমনকি নোবেল পুরস্কার জয়ী অমর্ত্য সেন আজও আসেন এই বইয়ের দোকানে। অরবিন্দবাবু জানান তাঁর বাবা অমূল্য দাশগুপ্ত সেইসময় কলেজস্ট্রিটে বইওয়ালা নামে পরিচিত ছিলেন।

প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেখেছে দাশগুপ্ত অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড। আগে ৩০০ থেকে ৪০০ ক্রেতা বই কিনতে এই দোকানে ভিড় জমত। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাঠক-পাঠিকার সংখ্যা কমলেও আজও দাশগুপ্ত অ্যান্ড কোম্পানিতে বই কিনতে দুরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসেন। তবে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চল থেকে আসা বইপ্রেমির সংখ্যা বেড়েছে বলেই জানান অরবিন্দবাবু।