Date : 2022-10-01

রামপুরহাটের বগটুই কাণ্ডে CBI তদন্তের নির্দেশ দিলেন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, রিপোর্টার:-

শুক্রবার বীরভূমের রামপুরহাটের বগটুই কাণ্ডে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি রাজর্ষি ভারদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ রায় দিতে গিয়ে পর্যবেক্ষণে জানান রামপুরহাট এর ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং হৃদয়গ্রাহী। জনমানুষের যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে এই ঘটনা। মানুষের মনে আস্থা জোগাতে উপযুক্ত তদন্তের প্রয়োজন। যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয়। তাই আদালত জনমানুষের মনের প্রভাবের কথা মাথায় রেখে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিতে হলো।
আগামী ৭ই এপ্রিল সিবিআইকে প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট পেশ করবেন।এবং SIT যে তদন্ত করছিলেন যে নথিপত্র তাদের কাছে আছে তা সিবিআই আধিকারিকদের হাতে তুলে দিতে হবে বলেও এদিন নির্দেশ দিয়েছেন ডিভিশন বেঞ্চ।

বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি চলাকালীন সিপিএইএমের পক্ষের আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন
আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও এখনো সিসিটিভি লাগানো হয়নি।এবং যেখানে তদন্ত চলছে সেখানে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে প্যাকেজ ঘোষণা করে দিল । এটা সঠিক নয়।পাশাপাশি এর ফলে তদন্ত বিঘ্নিত হতে পারে।
আইনজীবী রবি শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বক্তব্য নন্দীগ্রামে গুলিচালনার ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল।
আইনজীবী শামিম আহমেদ বলেন মিহির লাল শেখ যার আত্মীয় মারা গেছে। তিনি আমাদের বলেছেন। রাত ৮.৩০ উপপ্রধান খুন হন। রাত ন’টা নাগাদ সমর্থকদের থানা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছিল। ৫০০ মিটারের মধ্যে রামপুরহাট পুলিশ স্টেশন থাকলেও তাদের ফোনে জানানো সত্ত্বেও তারা ব্যবস্থা নেয়নি।
এখনো পর্যন্ত তার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়নি।
কাল বিনা বিবির মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তার কোনো গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত দের পক্ষের আইনজীবী শামিম আহমেদ জানান এই ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ হচ্ছে অবৈধ বালি খাদান ও পাথর খাদানে তোলাবাজি।
এলাকার দখল নিয়ে শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তার থেকে এই ঘটনা।তদন্তকারী অফিসার জ্ঞানবন্ত সিং কে ED ২০২১ সালে নোটিশ দিয়েছিল কয়লা কাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে।
প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন কতজন এখনো পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি আছে।
উত্তরে আইনজীবী শামীম আহমেদ :– ৪ জন। প্রত্যক্ষদর্শী ওই ১৪ বছরের ছেলেকে পুলিশ ইতিমধ্যে কাস্টডিতে নিয়েছে কিন্তু সে কোথায় আছে তা জানা যাচ্ছে না।
আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় প্রশ্ন পুলিশ মন্ত্রীর অধীনে থাকা কোন সংস্থা কে দিয়ে এই ঘটনার তদন্ত করা উচিত নয়। কোনো নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থা দিয়ে এই ঘটনা তদন্ত করানো হোক।
ভাদু শেখের মৃত্যুর পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে। এই ঘটনার পেছনে তৃণমূলের জেলা সভাপতি জড়িত থাকার বিষয়টি কেউ একেবারে ফেলে দেওয়া যায় না। ইতিমধ্যে তাকে সিবিআই বারবার ডেকে পাঠিয়েছে।
কিছুক্ষণ আগে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন এই ঘটনার পেছনে ব্লক প্রেসিডেন্ট কে গ্রেপ্তার করার জন্য। তাহলে শাসকদলের সঙ্গে জড়িত আছে প্রমাণিত। মুখ্যমন্ত্রীর কথা থেকে পরিষ্কার ঘটনার পেছনে কারা জড়িত আছেন তিনি তা জানেন।
জাতীয় কংগ্রেসের আইনজীবী কৌস্তব বাগচীবলেন সুপ্রিম কোর্টের বহু নির্দেশে সিবিআই তদন্তের উল্লেখ রয়েছে। যেখানে দশ-বারোজন মারা গেছে সেখানে কেন সিবিআই তদন্ত হবে না।

আইনজীবী নীলাঞ্জন ভট্টাচার্য
ছোট আঙারিয়া ঘটনার সময় আদালতের নির্দেশ দিয়েছিল সে নির্দেশে উল্লেখ ছিল সিপিআইএম পার্টি সঙ্গে জড়িত লোকেরা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। সুতরাং শাসকদলের তদন্তকারী সংস্থা কি দিয়ে তদন্ত করানো সঠিক নয়। সেই সময়ের আদালতের নির্দেশ কি আমি তুলে ধরলাম।
বিজেপির আইনজীবী প্রিয়াঙ্কার তেব্রিওয়ালের প্রশ্ন হচ্ছে এখনো পর্যন্ত কোনো গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে কিনা।
ভাদু শেখ এবং তার সংগীতের সঙ্গে কি ব্যবহার হয়েছে তার বিস্তারিত চিঠি অনুব্রত মণ্ডল মুখ্যমন্ত্রী কে দিয়েছেন।
এরপরেও কি করে পুলিশ মন্ত্রী হিসাবে তার পুলিশ সঠিক তদন্ত করবে। সেই থেকেই বোঝা যাচ্ছে তদন্তের কিভাবে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী জানেন সেখানে কি হয়েছে।দমকল বাহিনী জল দিয়ে সমস্ত এভিডেন্স নষ্ট করার চেষ্টা করেছে।

রামপুরহাট কাণ্ডে হাই কোর্টে কেস ডায়েরি জমা দিলেন রাজ্যের এডভোকেট জেনারেল
এডভোকেট জেনারেল:— ১) সিসিটিভি ইতিমধ্যে লাগানো হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির ফের প্রশ্ন এজিকে কখন এটা লাগানো হয়েছে।
আজ কেই লাগানো হয়েছে। কারণ জেলা জজকে অন্য জেলা থেকে যোগাযোগ করে আনতে হয়েছে সেই সময়ের জন্য বিলম্বিত হয়।
২) ইতিমধ্যে সেন্ট্রাল ফরেনসিক ল্যাবরটরি সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আজ সকালে তাদের আনার কথা ছিল কিন্তু কেন আসেনি বলতে পারবোনা।
৩) ইতিমধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী বা সাক্ষীদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।
৪) ময়নাতদন্ত ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
এডভোকেট জেনারেল :– এবারের আদালত বলুক আদালতের নির্দেশ মানা হয়েছে কি হয়নি। আবেদনকারীরা অযথা আদালতের সামনে চিৎকার করছে।
এই ধরনের মামলায় দেখা যায় আবেদনকারীরা তাদের আবেদন পত্র নথিভূক্ত হয়নি এমন বিষয়ক মৌখিকভাবে আদালতের সামনে বলতে থাকেন। এটা জনস্বার্থ মামলার একটা হ্যাবিট হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা কে আমি সাধুবাদ জানিয়েছি।
সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি কি ওই গ্রামে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সিপিআইএম-এর মোঃ সেলিম গেছেন, বিজেপি গেছে, কংগ্রেসের বিষয়টা আমি খোঁজ নিয়ে বলতে পারবো।

রাজ্যের একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে যদি তিনি ঘটনাস্থলে যান সেখানেও অপরাধ কি। তিনিতো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘটনাস্থলে যেতে পারেন। এতে তদন্তের কোথায় ব্যাঘাত ঘটবে।
প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন এডভোকেট জেনারেলের উদ্দেশ্য মি AG , যারা মারা গেছেন তারা কি শিক্ষিত খুব?
মৃত্যকালীন জবানবন্দি গুলোতে একইরকমের লেখা এবং একই হাতের লেখা কেন মিঃ এজি???
এজি :– ডঃ উপস্থিতিতে এগুলো নেওয়া হয়েছে। কোনও একজন চিকিৎসক পর্যবেক্ষণে নেওয়া হয়েছে।
মামলাকারি আইনজীবী ফিরোজ এদুলজি :–
FIR উল্লেখ থাকতে হবে পুলিশ কখন গিয়ে পৌঁছে ছিল? ঘটনা কখন হয়েছিল? পুলিশ কখন খবর পেয়েছিল?
দমকল আগে পৌঁছেছে না পুলিশ আগে পৌঁছেছে।
তাহলেই বোঝা যাবে খবর পাওয়ার পর পুলিশের উদ্যগ কি রকম ছিল। সামগ্রিক বিষয়টি কেস ডাইরিতে উল্লেখ থাকতে হবে।
প্রধান বিচারপতি জানালেন,
উচ্চ আদালতের কার্য সময় শেষ হলেও এই মামলার শুনানি চলবে। কোনও আইনজীবীর অসুবিধা না থাকলে কোর্টের সময় পেরিয়ে গেলেও মামলা শোনা হবে।
সি জে :– mr AG আপনি কি বলেন?
এজি :— রাজ্য তদন্ত করছে। তদন্ত সংক্রান্ত বিষয়ে একটি রিপোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে ও পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাজ্যের রিপোর্টিং এখনো পর্যন্ত খুশি। তাই এই মুহূর্তে সিবিআই তদন্তের কোন প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। প্রধান বিচারপতি জিজ্ঞাস্য কেস ডায়েরি ফেরত দেওয়া হল প্রয়োজনে আবার যাওয়া হতে পারে।
রামপুরহাট কাণ্ডে হাইকোর্টে স্বতপ্রণোদিত মামলায় শুনানি শেষ রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চ