Date : 2022-10-03

ঝড়ের আশঙ্কায় আগাম প্রস্তুতি বৈঠক সারলেন মুখ্যসচিব। দিলেন কয়েক দফা নির্দেশিকা।

সঞ্জু সুর, সাংবাদিক:- আবার একটি ঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে রাজ্যে। দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গপোসাগরে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এখনো পর্যন্ত উত্তর পশ্চিম দিকে অভিমূখ রয়েছে এই নিম্নচাপের যা ৭ তারিখ সন্ধ্যা থেকে ৮ তারিখ সন্ধ্যার মধ্যে অতি গভীর নিম্নচাপ হয়ে স্থলভূমিতে প্রবেশ করতে পারে। আমাদের রাজ্যে সরাসরি এর কোনো প্রভাব হয়তো পড়বে না। কিন্তু ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ফলে নিজেদের প্রস্তুতি সেরে রাখতে চাইছে রাজ্য সরকার।

শুক্রবার নবান্নের বৈঠক থেকে মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী জেলাগুলোকে সতর্ক করে বেশকিছু ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। মূলতঃ দক্ষিণ বঙ্গের জেলা শাসকদের সঙ্গে এই বৈঠক করেন তিনি। নবান্ন সূত্রে খবর, বৈঠকে মুখ্যসচিব যা যা নির্দেশ দিয়েছেন তা এইরকম-
১) দুর্বল বাঁধগুলোকে মেরামত করতে হবে।
২) উপকূলবর্তী জেলার কন্ট্রোলরুম গুলোকে সচল রাখতে হবে।
৩) পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৪) সেনা, নৌ সেনা ও বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে তৈরি থাকার নির্দেশ।
৫) নিচু এলাকা থেকে প্রয়োজনে পরিস্থিতি অনুযায়ী মানুষকে নিরাপদ শেল্টারে সরিয়ে নিয়ে আসতে হবে।
৬) পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ।
৭) স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে।
এমনিতেই ঘূর্ণিঝড় এখন এরাজ্যে এক নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর নিয়ম করে একটা বা দুটো সুপার সাইক্লোন আছড়ে পড়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলোতে। ফলে রাজ্য সরকার‌ও এখন এই ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলায় অনেকটাই প্রস্তুত থাকে। ফসল,বাড়ি ঘরের ক্ষয়ক্ষতি হয়তো আটকানো যায় না। কিন্তু গত দুই বছরে রাজ্য সরকার আগাম প্রস্তুতি নেওয়ায় প্রাণহানি অনেকটাই আটকাতে পেরেছে। এবারের এই সাইক্লোনিক স্ট্রম সরাসরি আমাদের রাজ্যে তেমন প্রভাব ফেলুক বা না ফেলুক, রাজ্য সরকার নিজেদের প্রস্তুতি সেরে রাখতে চাইছে। সেই কারণেই শুক্রবার মুখ্যসচিব জেলাশাসকদের সাথে বিপর্যয় মোকাবিলার এই বৈঠক করলেন বলেই মনে করা হচ্ছে।