Date : 2022-06-30

পুলিশের এলোপাথারি গুলিতে মৃত ১, আহত ২: আত্মঘাতী পুলিশ কর্মীও

সঞ্জনা লাহিড়ী, সাংবাদিক: ভর দুপুরে পার্ক সার্কাসের লোয়ার রেঞ্জ রোডে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু এক মহিলার। আহত আরও ২। গুলি চালানোর পর আত্মঘাতী হন কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল চোডুপ লেপচা। মানসিক অবসাদ থেকেই এই ঘটনা বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বেনিয়াপুকুর থানা।
শুক্রবার দুপুরে হঠাৎই গুলির শব্দে কেঁপে উঠে পার্ক সার্কাসের লোয়ার রেঞ্জ রোড। কলকাতা পুলিশের পঞ্চম ব্যাটালিয়নের এক কনস্টেবলের গুলিতে মৃত্যু হয় হাওড়ার বাসিন্দা রিমা সিং নামে ওই মহিলার। আহত হয় আরও দুজন। এরপরই নিজের সার্ভিস রাইফেল থেকে আত্মঘাতী হন চোডুপ লেপচা নামে ওই কনস্টেবল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছয় পুলিশবাহিনী। আহতদের নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এদিন বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে ডিউটি ছিল আত্মঘাতী কনস্টেবলের।

দুপুর নাগাদ সে কিয়স্ক থেকে বেরিয়ে এলোপাথারি গুলি চালাতে থাকে। সেই সময় ওই রাস্তা দিয়ে হাওড়ার দাসনগরের বাসিন্দা রিমা সিং একটি অ্যাপ বাইকে ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। কনস্টেবলের সার্ভিস রাইফেল থেকে ছোঁড়া গুলিতে মৃত্যু হয় তাঁর। গুলিবিদ্ধ হন অ্যাপ বাইকের চালকও। এরপর আরও কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় চোডুপ লেপচা। আহত হন এক পথিচারী। এরপরই নিজেকে গুলি করে সে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। উপস্থিত হন লালবাজারের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা। মৃতদেহ গুলি পাঠানো হয় ময়নাতদন্তে। এলাকা ঘিরে রাখে পুলিশ কর্মীরা। ঘটনাস্থলে পৌছয় হোমিসাইড শাখা ও সায়েন্টিফিক উইং। পৌছয় ফরেন্সিক দল। এলাকা পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

বাইক আরোহী মহিলাকে গুলি করার পর ঘটনাস্থলের একটি ফ্ল্যাটের ৪ তলায় উঠেছিল ওই কনস্টেবল, তারপর সেখান থেকে নেমেও যায় সে। তারপর আবারও গুলি চালানো শুরু করে মৃত কনস্টেবল। ঘটনাস্থলে যান কলকাতা পুলিশের নগরপাল বিনীত গোয়েল। কি কারণে গুলি তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশার মধ্যে তদন্তকারীরা। মানসিক অবসাদ থেকে এই ঘটনা কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কথা বলা হচ্ছে ওই কনস্টেবলের সহকর্মীদের সঙ্গে। যোগাযোগ করা হয়েছে তাঁর পরিবারের সঙ্গেও। লালবাজার সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার ওই কনস্টেবল সকালে বাড়ি থেকে ফিরে ডিউটিতে যোগ দেন। ডিউটি করেছিলেন লালবাজারের ইন গেটে। ওইদিন আবার ছিল লালবাজারে পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের গুরুত্বপূর্ণ প্রেস কনফারেন্স। একথা জানার পর আতঙ্কিত লালবাজারের পুলিশ কর্মীরাই। তাঁদের মতে, ওই কনস্টেবল যদি লালবাজারের মধ্যেই গুলি চালিয়ে দিতেন তাহলে আরও বড় ঘটনা ঘটে যেতে পারত। তবে লালবাজারে ডিউটির সময় তাঁর হাতে কোন আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না। থাকলে হয়তো গুলি চালিয়ে দিতেন বলে আশঙ্কা করছেন তার সঙ্গে বৃহস্পতিবার ডিউটি করা পুলিশকর্মীরা।

আত্মঘাতী কনস্টেবলের বাড়ি কালিম্পংয়ের দোকানদারা এলাকায়। বাবা সেরিন লেপচা ছিলেন কলকাতা পুলিশের সাউথ ডিভিশনের কনস্টেবল। ২০১৭ সালে বাবার মৃত্যু হয়। গতবছর কলকাতা পুলিশের চাকরিতে যোগদান করেন ওই আত্মঘাতী কনস্টেবল। মা অনেকদিন আগেই মারা গিয়েছেন। দেশের বাড়িতে শুধু রয়েছেন আত্মঘাতী কনস্টেবলের দাদা এবং বৌদি। গত মাসের ৩০ তারিখে দশ দিনের জন্য ছুটি নিয়ে তিনি বাড়িতে যান। ছুটি কাটিয়ে তিনি বৃহস্পতিবার সকালে লালবাজারের ডিউটিতে যোগ দেন।

তদন্তে জানা গিয়েছে, সেল্ফ লোডিং রাইফেলের মতো অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রে ৪০ রাউন্ড গুলি থাকে। কিন্তু শুক্রবার ওই কনস্টেবলের রাইফেলে ছিল ২০ রাউন্ড গুলি। ১৯ রাউন্ড গুলি তিনি চালান। কেন এই রকম ঘটনা ঘটালেন তিনি তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।