Date : 2022-06-30

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ক্রমশই চরমে উঠেছে রাজনৈতিক উত্তেজনা

রুমঝুম সামন্ত, নিউজ ডেস্ক; ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত কার্যনির্বাহী ক্ষমতা থাকে রাষ্ট্রপতির হাতে। তিনি লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্রমশই চরমে উঠেছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। দেশের রাজনীতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তত্পরতা তুঙ্গে। 18 জুলাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। সংবিধানের 62(ক) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিপদে যিনি থাকবেন তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে। 25 শে জুলাই বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কী সমীকরণ হতে চলেছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
1971 এর জনগণনা অনুসারে প্রতিটি রাজ্যের জনসংখ্যার অনুপাতে জনপ্রতিনিধিদের ভোটের মূল্য নির্ধারিত হয়। রাজ্যসভা ও লোকসভার প্রত্যেক সাংসদের ভোটের মূল্য ৭০০। দেশের সব রাজ্যের বিধায়ক ও সাংসদের ভোটে নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন 4,809 জন জনপ্রতিনিধি। দেশের মোট বিধায়ক সংখ্যা 4,033। তাঁদের সম্মিলিত ভোটের মূল্য 5,43,231। লোকসভার সাংসদ সংখ্যা 543। রাজ্যসভার সাংসদ সংখ্যা 233।

তাঁদের সম্মিলিত ভোটের মূল্য 5,43,200। বিধায়ক ও সাংসদদের সম্মিলিত ভোটের মূল্য 10,86,431।
25 শে জুলাই বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের 5 বছরের কার্যকালের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ভালো কাজ করার পরও আরও 5 বছরের জন্য তাঁকে রাখা হল না কেন তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যদিও অনেকের মতে সকলকেই সুযোগ দেওয়া উচিত। 5 বছর অন্তর রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন হলে অনেকেই সুযোগ পাবেন। তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে শাসকদল ও বিরোধীদল কার কতটা সুযোগ রয়েছে?
কার সুযোগ কতটা?
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রশ্নে কিছুটা পিছিয়ে বিজেপি। বিজেপি ও শরিকদলের হাতে মোট ভোটের 48.9 শতাংশ ভোট রয়েছে। সেখানে বিরোধীদের ভোট 51.1 শতাংশ। সেক্ষেত্রে বিরোধীরা এক হলে সমস্যায় পড়তে পারে শাসক দল। আবার বিরোধীদের ভোটের অঙ্ক সরকার পক্ষের থেকে বেশি হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল মনে করছে, অনেক বড় ব্যবধানেই এনডিএ রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী জয়ী হবেন। কেননা বিজেপি তথা এনডিএ মাত্র 2.2 শতাংশ ভোটে পিছিয়ে।
বিজেপি বিরোধী দলগুলির তরফে মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণার পর সেদিনই এনডিএ জোটের তরফেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদের প্রার্থী
সর্বসম্মত প্রার্থী করা হয়েছে যশবন্ত সিনহাকে। দিল্লিতে 18 টি বিরোধীদলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 27 জুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেবেন যশোবন্ত সিনহা। যশবন্ত সিনহার জন্য একটি প্রচার কমিটিও তৈরি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এনডিএ জোটের প্রার্থী
এনডিএ-র রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মু। 20 জনের নাম নিয়ে আলোচনার পর দ্রৌপদী মুর্মুকে মনোনীত করা হয়। দলিতের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এই প্রথম আদিবাসী প্রার্থী।
পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণার পরেই টুইট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন,
“দ্রৌপদী মুর্মু রাষ্ট্রপতি হলে দেশ লাভবান হবে। দ্রৌপদী মুর্মু গরীবদের প্রতি সমর্পিত। দ্রৌপদী মুর্মুকে দেখে শক্তিশালী হবেন দেশের গরিব মানুষ।”
এর আগে ভারতে প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন প্রতিভা পাতিল। আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেন দ্রৌপদী মুর্মুকে প্রার্থী করল এনডিএ? দ্রৌপদী মুর্মু শুধু মহিলাই নন, আদিবাসী জনজাতি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং ওড়িশার ভূমিকন্যা। তাই তাকে বাছার পিছনে জটিল রাজনৈতিক মাস্টার স্টোক রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। আদিবাসী ভোটারদের কথা ভেবে এবং 2.2 শতাংশ ব্যবধান কমাতেই হয়তো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাসক দল।