Date : 2022-12-03

আন্দোলনের ৬০০দিন। চাকরীর অপেক্ষায় কাটছে প্রহর।

নাজিয়া রহমান, সাংবাদিক:- পোস্টার, মোমবাতি ও মোবাইলের ফ্লাশ লাইট জ্বালিয়ে ৬০০ তম দিন নিজেদের মতো করে পালন করলেন এস এল এস টি চাকরি প্রার্থীরা। গত ৬০০ দিন ধরে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে এই সমস্ত চাকরিপ্রার্থীরা আন্দোলন চালাচ্ছেন। ২০১৬ সালে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় বসেন এরা। পাশ করে মেধাতালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত নিয়োগপত্র হাতে পাননি তারা। আর সেই নিয়ে চলছে তাদের আন্দোলন। আন্দোলনের পাশাপাশি একাধিকবার প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন তারা। তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বরা। তবুও সমাধান সূত্র এখনো অধরা। তাই চলছে তাদের আন্দোলন। কিভাবে নিয়োগ জট কাটবে, কিভাবে সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসবে তা এখনও জানা নেই এই চাকরিপ্রার্থীদের।

শুক্রবার ছিল এই আন্দোলনের ৬০০ তম দিন। পোস্টার, ফেস্টুনে চাকরিপ্রার্থীরা তুলে ধরেছেন তাদের বঞ্চনার কথা। লেখা রয়েছে ৬০০এই সংখ্যাটি। ইতিহাসের পাতায় নিজেদের এই আন্দোলনকে স্মরণীয় করে রাখতে এদিন এই ধর্ণা মঞ্চের নামকরণ ও করেন তারা। ‘বঙ্গীয় ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা মঞ্চ” এই নামেই এখন পরিচিত হবে এই মঞ্চ। হবু শিক্ষকরা দীর্ঘ ৬০০ দিন ধরে যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, ইতিহাসের পাতায় এত দীর্ঘ দিন ধরে চালিয়ে যাওয়া নেই বলেই দাবি এই সমস্ত চাকরিপ্রার্থীদের।

প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মাথায় নিয়েই চলেছে তাদের এই আন্দোলন। প্রকৃতি বিরূপ হলেও আন্দোলন থেকে সরে আসেননি এই সমস্ত চাকুরী প্রার্থীরা। একের পর এক উৎসব মুখর দিন কাটিয়েছেন এই ধর্ণা মঞ্চে বসেই। আর কতদিন এই ধর্ণা মঞ্চে এভাবে বসে থাকবেন তাই এবার স্কুলে ফিরতে চান তারা। তবে তাদের আশা যেভাবে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত চলছে, যেভাবে একের পর এক নিয়োগ দূর্নীতিতে অভিযুক্ত শিক্ষা দফতরের আধিকারিককে গ্রেফতার করা হচ্ছে তাতে বেশি দিন তাদের অপেক্ষা করতে হবে না। খুব দ্রুতই তারা নিয়োগ পত্র হাতে পাবেন বলে আশাবাদী এই চাকুরিপ্রার্থীরা। কিন্তু যতদিন না নিয়োগ পত্র হাতে পাচ্ছেন ততদিন চলবে তাদের আন্দোলন এমনই বক্তব্য আন্দোলনকারীদের।