Date : 2024-04-23

রাজবাড়ীর আংটি রহস্যে ২১ বছর পর সাজা

সঞ্জনা লাহিড়ী, সাংবাদিক – ২০০২ সালে ছিনতাই হওয়া হীরের আংটির ঘটনায় প্রায় ২১ বছর পর সাজা পেল মূল অভিযুক্ত ইন্দ্রজিৎ তপাদার। ঘটনার সূত্রপাত, ২০০২ সালের ২৫ শে জুন। পোস্তা রাজবাড়ীর বর্তমান উত্তরসূরী প্রণব রায় পৈতৃক সম্পত্তির উত্তরাধিকার সূত্রে হায়দরাবাদের গোলকোন্ডা দুর্গ থেকে একটি হীরের আংটি পায়। আংটির মূল্য জানার জন্য প্রাচীন দ্রব্য বিশেষজ্ঞের খোঁজ করেন তিনি। খবর পেয়ে ইন্দ্রজিৎ তপাদার নামে এক ব্যক্তি বিশেষজ্ঞের ছদ্মবেশে তাঁর কাছে যায়। আংটি দেখার অছিলায় পকেট থেকে বন্দুক বের করে ভয় দেখিয়ে হীরের আংটি নিয়ে চম্পট দেয় অভিযুক্ত। তড়িঘড়ি প্রণব রায় পোস্তা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তৎকালীন সেন্ট্রাল ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার জুলফিকার হাসানের তত্ত্বাবধানে চলে এই ঘটনার তদন্ত।

তদন্তে উঠে আসে, সেদিনের বন্দুকটি ছিল খেলনা বন্দুক। অভিযুক্ত ইন্দ্রজিৎ তপাদারকে তাঁর বিক্রমগড়ের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেন ঘটনার তদন্তকারী আধিকারিক। বাড়ির সুইচ বোর্ডের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয় হীরের আংটি। সেই সময়ের নিরিখে ওই হীরের আংটির দাম ছিল আনুমানিক ২ কোটি টাকা। অভিযুক্ত ইন্দ্রজিৎ তপাদারকে গ্রেফতার করা হলেও প্রমাণের অভাবে ২০১১ সালের ৩০ তারিখ বেকসুর খালাস করা হয় ইন্দ্রজিতকে। ওই বছরই হীরের আংটির দাবি করে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে আবেদন করেন ইন্দ্রজিৎ। আবেদন গ্রহণ না হওয়ায় সে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়। তৎকালীন বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগের এজলাসে একই আবেদন করা হলে বিচারপতি বাগ পুনরায় এই মামলার ট্রায়ালের নির্দেশ দেন। সেই ঘটনার দীর্ঘ ২১ বছর পর বুধবার ব্যাঙ্কশাল আদালত মূল অভিযুক্ত ইন্দ্রজিৎ তপাদারকে ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেয়। জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের বাড়তি কারাবাসের নির্দেশ দেয় আদালত।