Date : 2024-06-24

কলকাতা থেকে আশা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শিল্পীদের যন্ত্রাংশ সহ তাদেরকে আটকে রাখার প্রতিবাদে পূর্ব মেদিনীপুরের মেছাদা বাইপাসে অবরোধ বিক্ষোভ চলছে কলকাতা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রায় দুই শতাধিক শিল্পীদের।

সেলিম আহমেদ,সাংবাদিক:- সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী দেবশ্রী রায় তিনি আসেননি, সেই রাগে ছদিন ধরে আটক করে রেখেছে মিউজিসিয়ান্সদের ২৫ লক্ষ টাকার ইন্সট্রুমেন্ট সহ। যে কারণে মিউজিশিয়ান্সরাও কাঁথিতে ছ দিন ধরে আটকে পড়েছেন। হেনস্থা ঠেলা ঠেলি কলকাতা থেকে আসা মিউসিসিয়ান্সদের। অপরদিকে জানা গেছে দেবশ্রী রায় যথারীতি কাঁথি পর্যন্ত এসেছিলেন।অর্গানাইজার কাঁথির ছেলে সুমিত মাইতি বা উৎসব কমিটিকে প্রায় দু ঘন্টা ধরে ফোনে যোগাযোগ করে পাননি। শুধু তাই নয়, ওই অনুষ্ঠানে কোন পারমিশন ছিল না এছাড়াও চুক্তি মত সমূহ টাকা পেমেন্টও করেনি উৎসব কমিটি। যে কারণে তিনি কাঁথি থানার পুলিশকে জানিয়ে কলকাতা ফিরে যান। ছ দিন অন্যায় ভাবে অন্যান্য মিউজিসিয়ানদের যন্ত্রাংশ আটকে রাখার প্রতিবাদে কাঁথিতে চলছে তুমুল বিক্ষোভ। পুলিশ কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন (৩/৪/২৩) দিঘাতে সফরে এলেন ঐদিন পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুট কোস্টাল থানা এলাকার বকশিসপুরে একটি সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল। ওই অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী দেবশ্রী রায় আসার কথা ছিল।তিনি এসেছিলেন কাঁথিতে প্রায় দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। অর্গানাইজার বা কমিটির লোকের সঙ্গে যোগাযোগে করেও ফোনে পাওয়া যায়নি। অবশেষে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের সময় চলে যাওয়ায় তিনি কলকাতার উদ্দেশ্যে ব্যাক করে যান। সর্বোপরি দেবশ্রী রায় পরে বুঝতে পারেন ওই প্রোগ্রামের কোন পারমিশন ছিল না। সেজন্য ও তিনি ফিরে যান। আরো একটি কারণ ওই প্রোগ্রামের জন্য যে পরিমাণ টাকা চুক্তি হয়েছিল সেই টাকাও মেটায়নি কমিটি। এরপর প্রোগ্রামের জন্য গভীর রাতে খোঁজ পরে দেবশ্রী রায় কে। দেবশ্রী রায় স্টেজ পর্যন্ত পৌঁছাননি বলে, স্টেজ এর কাছে যারা পৌঁছেছিলেন ইন্সট্রুমেন্ট ও অন্যান্য মিউজিসিয়ান তাদেরকে আটকে দেয় ঠেলাঠেলি করে চরম হেনস্থা করে মিউজিসিয়ানদের এমনটাই অভিযোগ বকশিশপুরের ওই উৎসব কমিটির দিকে। বকশিশপুর স্পোর্টস এন্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে এসেছে।একদিন মিউজিসিয়ানদের আটকে রাখার পর তাদের প্রায় পঁচিশ লক্ষাধিক টাকার যন্ত্রাংশ আটকে রেখে তাদেরকে ছেড়ে দেয়। তাদেরকে বলা হয় অর্গানাইজার কে হাজির করাতে হবে, না হলে তাদের মুক্তি নেই। অর্গানাইজার সুমিত মাইতি কাঁথির ছেলে তাকে না ধরে অযথা কলকাতার এই মিউজিসিয়ান্সদের হেনস্থা করছে। তাছাড়া দেবশ্রী রায় আসেননি তার জন্য দায়ী এই মিউজিসিয়ান্সরা কেন হবে? তারা অন্য প্রোগ্রামের জন্য এসেছিলেন।তাদের যন্ত্রাংশ ছাড়া হবে না কেন!!এরপর জুনফুট কোস্টাল থানায় তারা অভিযোগ জানালেও কোন পদক্ষেপ পুলিশ নেয়নি এমনটাই জানিয়েছেন মিউজিসিয়ান রা।
ইতিমধ্যে অন্যায় ভাবে এইসব মিউজিসিয়ানদের হেনস্থা করা এবং তাদের যন্ত্রাংশ আটকে রাখার প্রতিবাদে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সভাধিপতি উত্তম বারিকের কাছে গেলে তিনি প্রায় তিন দফায় মিউচালের জন্য বসেন। তাতে মোটা অংকের টাকা দাবি করে অভিযুক্ত উৎসব কমিটির লোকজন। ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকার চুক্তি হলেও কমিটি পেমেন্ট করেছিল এক লক্ষ ষাট হাজার টাকা। সেই এক লক্ষ ষাট হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন সভাধিপতি উত্তম বারিক, তাতে উৎসব কমিটি না মানায় তাদের যন্ত্রাংশ এখনো আটক রয়েছে।
অভিযোগ প্রাক্তন সভাধিপতি মধুরিমা মন্ডলের স্বামী অর্থাৎ তৃণমূল নেতা মানবেন্দ্র মন্ডল তার নেতৃত্বে এই ধরনের অন্যায় কাজ চলছে। যদিও মানবেন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন আটকে রাখার কথা ঠিক নয় তিনি ক্লাবের একজন সদস্য মাত্র তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও ঠিক নয়।

আজ ৬ দিনে পড়েছে শিল্পীদের যন্ত্রাংশ আটকে রাখা।হাজার হাজার টাকা লোকসান করছেন বিভিন্ন জায়গায় তাদের আরো প্রোগ্রাম ধরা ছিল। সেইসব অনুষ্ঠান করতে না পেরে। মিউজিসিয়ানদের অভিযোগ তাদের সঙ্গে যা কথা হয়েছিল তারা যথারীতি হাজির হয়েছিলেন এবার কে আসেনি কে আসবে এটা অর্গানাইজার বলতে পারবে। তাদেরকে হেনস্থা করা হচ্ছে কেন? শেষমেষ প্রতিবাদ জানিয়ে আজকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সমস্ত শিল্পী এবং কলকাতা থেকে এসেছেন বহু শিল্পী ও মিউজিসিয়ান্স এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত শিল্পীরা একজোট হয়ে কাঁথি সেন্টাল বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। ডেপুটেশন দেবেন জেলা শাসকের কাছে। থানাতেও ডেপুটেশন দেবেন। কোন সূরাহ না হলে পথ অবরোধ সহ বিভিন্ন কর্মসূচি করবেন তারা। উল্লেখ্য সায়ন মজুমদার বিকাশ পাত্র তন্ময় দাস সহ প্রায় পাঁচজনের মিউজিসিয়ান টিম কলকাতা থেকে এসেছিলেন বকশিশপুরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য। তাদের যে মূলধন যন্ত্রাংশ সেটা না পেলে তারা দিশেহারা হয়ে যাচ্ছেন এবং তাদের রুজি রোজগার বন্ধ বন্ধ হয়ে গেছে বলে বলছেন। এই আন্দোলনে যোগ দিতে আসছেন কলকাতা থেকে চিত্র অভিনেতা সুমিত গাঙ্গুলী।