Date : 2024-06-25

‘কাকাবাবু’ নামে কর্মী ও নেতাদের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। আজ তাঁর ১৩৫ তম জন্মদিবস।

শাহিনা ইয়াসমিন, সাংবাদিক:- ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মুজাফফর আহমদ। ১৮৮৯ সালের ৫ আগস্ট সন্দ্বীপে যা বর্তমানে বাংলাদেশে আছে, সেখানে এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।২০২৩ সালে ৫ অগাস্ট ১৩৫ তম জন্মদিবস। সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদানের আগে মুজাফফর আহমদ একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বাংলা সরকারের ছাপাখানায় মাসিক ত্রিশটাকা বেতনে তিনি চাকরি করেছিলেন। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষকতা এবং গৃহ শিক্ষকতাও করেছিলেন।

কিশোর জীবনে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ না করলেও ১৯১৬ সাল থেকে মুজাফফর আহমদ বন্ধুদের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক আলোচনা, সভা-সেমিনার-মিছিল যোগদান করেন। ১৯২০ সালের শুরুতে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে রাজনীতিই হবে তার জীবনের মূল পেশা। ১৯২০ সালে কাজী নজরুল ইসলামের সাথে দৈনিক নবযুগ পত্রিকায় কাজ করেছিলেন তিনি। এছাড়া বন্ধু ও কমরেড আব্দুল হালিমের সাথে জাতীয় আন্দোলনের অভ্যন্তরে কমিউনিস্ট কাজ শুরু করেন। ১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের সাফল্য তাঁকে উদ্দীপ্ত করে। তারপর ১৯২১ সাল থেকে তিনি মার্কসবাদ চর্চা ও মার্কসবাদী রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯২৬-২৭ বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির সদস্য এবং ১৯২৭-২৯ সালে সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯২৩ সালে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে যোগদান করেন। কলকাতা এবং এর আশেপাশে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। রাজনৈতিক ও ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমের জন্য কয়েকবার কারাবরণ করেছেন। ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত করেন সারা ভারত কৃষক সভা। এমনকি গণশক্তি প্রেস প্রতিষ্ঠাতাও তিনিই। ১৯৬৪ সালে পার্টি ভাগ হলে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-র সাথে যুক্ত হন।

৪০ বছর ধরে ভারতে কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, ন্যাশনাল বুক এজেন্সির একজন প্রধান সংগঠক ছিলেন। ‘কাকাবাবু’ নামে তিনি কর্মী ও নেতাদের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন।
তার লেখা কিছু গ্রন্থ যেমন – ‘নজরুল স্মৃতিকথা’, ‘ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের ইতিহাস’, ‘মাইসেল অ্যান্ড দ্য কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ সহ প্রভৃতি।
১৯৭৩ সালে কলকাতায় মারা যান, তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৮৪ বছর।
পশ্চিমবঙ্গে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) এর সদর দফতর তাঁর নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়াও, কলকাতার রিপন স্ট্রিটের নামকরণ করা হয়েছে “মুজফ্‌ফর আহমদ স্ট্রিট” নামে।