Date : 2024-02-24

মাথা মুড়িয়ে প্রতিবাদ মহিলা চাকুরিপ্রার্থীর।

নাজিয়া রহমান, সাংবাদিক : কেটে গেল ১০০০টা দিন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত মেলেনি নিয়োগপত্র। কবে মিলবে নিয়োগপত্র সেই প্রশ্নই এখন গান্ধীমূর্তী তথা মেয়োরোড জুড়ে। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে টানাপোড়নের জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। তার মাঝে মিলেছে আশ্বাস। ধর্ণার হাজার দিনে অভিনব প্রতিবাদ দেখালো গান্ধীমূর্তির পাদদেশে অবস্থানরত চাকুরিপ্রার্থীরা।

এদিন মাথা মুড়িয়ে প্রতিবাদ দেখালেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, সংসার পরিজন ছেড়ে তাদের ঠিকানা হয়ে উঠেছে এই গান্ধীমূর্তি। তাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। কোনও উপায় নেই। তাই তারা এই কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের মনের যন্ত্রনাকে তুলে ধরলেন।

এদিন প্রতিবাদী মহিলা চাকুরিপ্রার্থী রাসমণি পাত্র তার মস্তক মুণ্ডন করেন। তার পাশাপাশি পলাশ মণ্ডল সহ আরও দুজন পুরুষ চাকুরিপ্রার্থীও তাদের মাথা ন্যাড়া করেন। আরও তিনজন মহিলা চাকুরিপ্রার্থী তাদের চুল বার ইঞ্চি করে কেটে দেন। এই চুল ক্যান্সার আক্রান্তদের দান করা হবে। শুধু মাথা ন্যাড়া বা চুল কাটা নয়। পুরুষ চাকুরিপ্রার্থীরা অর্ধনগ্ন হয়ে প্রতিবাদ জানান।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল। এসএলএসটি নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় পাশ করেও চাকরি পাননি অনেকেই। যার নেপথ্যে বিপুল দুর্নীতি বলেই দাবি আন্দোলনকারীদের। নিয়োগের দাবিতে ঘরবাড়ি ছেড়ে এক হাজার দিন ধরে রাস্তায় রয়েছেন এই চাকরিপ্রার্থীরা। কখনও মুখে কালি মেখে, আবার কখনও খালি গায়ে প্রতিবাদে বসেছেন আন্দোলনকারীরা। এমনকী, মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে রক্ত দিয়ে চিঠিও লেখেন। এবার মাথা মুড়িয়ে প্রতিবাদ জানালেন মহিলা চাকরিপ্রার্থী। তাদের করুণ আবেদন এবার তাদের দেওয়া হোক নিয়োগপত্র।

১০০০ দিনের প্রতিবাদ সভায় আন্দোলনকারীদের সহানুভূতি জানাতে ধর্ণা মঞ্চে আসেন বিজেপি, কংগ্রেস, বাম প্রতিনিধিরা। এদিনের মঞ্চে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা আসেন নিজেদের পতাকা বা ব্যানার ছাড়াই। এদিন আন্দোলনকারীদের ধর্ণা মঞ্চে আসেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে।