Date : 2024-02-24

২২ ডিসেম্বর ফের বৈঠক। সোমবারের বৈঠকে খুশি চাকুরিপ্রার্থীরা।

নাজিয়া রহমান, সাংবাদিক : হাজার দিনেরও বেশি সময় ধরে রাস্তায় ওরা। মেলিনি এখনও নিয়োগপত্র। তবে এবার নিয়োগপত্র মেলার ইঙ্গিত দিলেন শিক্ষামন্ত্রী। সোমবার এসএলএসটি নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর মেধা তালিকাভুক্ত সাতজন প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব মানিস জৈন, তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় ও এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার।

২০১৯ সাল থেকে আন্দোলনে নামেন এসএলএসটি মেধা তালিকাভুক্ত চাকরি প্রার্থীরা। ৫৫৭৮ জন প্রার্থীকেই নিয়োগ পত্র দিতে হবে এই দাবিকে কেন্দ্র করে হাজার দিনেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালাচ্ছেন তারা। আন্দোলনের মাঝে তারা দেখা করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, দেখা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এমনকি মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গেও তাদের কথা হয়েছে কিন্তু নিয়োগ পত্র তারা এখনো হাতে পাননি। গত বছর আগস্ট মাসে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন এই সমস্ত চাকরিপ্রার্থীরা। ১৬ মাস পর সোমবার ফের বৈঠকে বসলেন তারা। তবে এই বৈঠক ইতিবাচক বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। আর এই বৈঠক শেষে খুশি বলে জানান চাকুরিপ্রার্থীরাও।

বৈঠক শেষে চাকরিপ্রার্থী রাসমণি পাত্র জানান, কোথায় জট সেটা তারা জানতে পেরেছেন। খুব দ্রুত তাদের নিয়োগ করে বাড়ি পাঠানো হবে। বাইশে ডিসেম্বর ফের শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তাদের বৈঠক। সেদিন তারা কবে নিয়োগ জানতে পারবেন। তাদের আশা খুব দ্রুত স্কুলে ফিরতে পারবেন তারা। অন্যান্য চাকরিপ্রার্থীরা বলেন, ‘‘কিছু দিন আগে অবধি  বিভিন্ন দফতরের মধ্যে যোগাযোগের সমস্যা হচ্ছিল। আজকের  বৈঠকে বুঝলাম দফতরগুলির মধ্যে সংযোগ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আইনি জট কাটিয়ে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন। আলোচনায় বলা হয়েছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে কতদূর অগ্রগতি হয়েছে, তার রিপোর্ট দিতে হবে। আপাতত ২২ ডিসেম্বর সেই রিপোর্ট পেশের দিন ঠিক হয়েছে। ওই দিন মিটিংয়েই আমরা এ বিষয়ে জানতে পারবো।’’ 

বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী ও সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান, আইনি জটিলতা দ্রুত কাটবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরি দিতে পারবেন। উনিই চাকরি দেবেন। জট কাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালত যা বলবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে নিয়োগ দিতে শুরু করা হবে।

সোমবারের ইতিবাচক বৈঠক শেষে খুশি হলেও আন্দোলন চলবে বলে জানান চাকুরিপ্রার্থীরা। যতদিন না ১৯৭৮ জন চাকরিপ্রার্থী চাকরি হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে বলেই জানান তারা।