Date : 2024-02-25

দীর্ঘ আইনি লড়াই লড়ে ২৭ বছর পর চাকরি মিলল কলকাতা পুরসভায়।

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়,সাংবাদিক : ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু হয়েছিল লড়াই সমাধান মিললো ২০২৪ সালে। দীর্ঘ ২৭ বছর কখনো কলকাতা পুরসভা আবার বা কখনো কলকাতা হাইকোর্টের বারান্দাতেই কেটে গিয়েছে উত্তম নায়েকের সময়।

মামলার বয়ান অনুযায়ী তিলজলা চৌভাগা এলাকার বাসিন্দা হরেন্দ্র নাথ নায়েক কলকাতা পুরসভার ট্যাক্স কালেক্টর ছিলেন। ১৯৯৬ সালে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৫ ই জুলাই ১৯৯৭ সালে কলকাতা পুরসভার মেডিকেল বোর্ড তাকে সম্পূর্ণ শারীরিক অক্ষম বলেই ঘোষণা করেন।

তৎকালীন কলকাতা পুরসভার আইন অনুযায়ী চাকরিগত কোন ব্যক্তি যদি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তার চাকরিতে ফিরে আসার যদি কোন জায়গা না থাকে সেক্ষেত্রে তার পরিবারের একজন চাকরি পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে স্পেশাল গ্রাউন্ডে।

কলকাতা পুরসভার তৎকালীন আইন অনুযায়ী হরেন্দ্রলাল নায়েকের বড় ছেলে উত্তম নায়ক চাকরি পাওয়ার জন্য আবেদন জানান। কলকাতা পুরসভা তাকে চাকরিতে নিযুক্ত করার আগেই ১৯৯৭সালের ২০ জানুয়ারি হরেন্দ্র নাথ নায়েক মারা যান। ওই বছরই উত্তম নায়েক যে চাকরি পাওয়ার যোগ্য তা কলকাতা পুরসভার ডেপুটি পার্সোনাল ম্যানেজারের নেতৃত্ব কমিটি সুপারিশ করে কলকাতা পৌরসভাকে। অভিযোগ কিন্তু কোন এক অজ্ঞাত কারণে ওই পরিবারকে কোন পেনশন বা কোন রকম সুযোগ-সুবিধা না দিয়েই শুধুমাত্র পরিবারের হাতে ৪৪ হাজার ৯৭ টাকা এককালীন হিসাবেই তুলে দেয় কলকাতা পৌরসভা।

বহু দরবার করেও মেলেনি কোন সুরাহা, অবশেষে ২০১৪ সালে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন উত্তম নায়েক। কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রাক্তন বিচারপতি সৌমিত্র পাল কলকাতা পুরসভা কে বিষয়টি বিবেচনা করা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে আগস্ট মাসে কলকাতা পুরসভা উত্তম নায়েকের আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর হাইকোর্টে আসেন উত্তমবাবু।

মামলার শুনানি পর্বে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য কলকাতা পুরসভার নোটিশ খারিজের বিষয় উসমাত প্রকাশ করেন পাশাপাশি তিনি বলেন যখন তিনি চাকরি পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হন তাহলে কলকাতা পুরসভা নিজেই নিজেদের সেই নোটিশ কিভাবে খারিজ করে দিল।

মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী জানান চাকরির জন্য আবেদন করেন ১৯৯৭ সালের ৪ঠা জানুয়ারি। কলকাতা পুরসভার কমিটি চাকরি পাওয়ার যোগ্য হিসেবে নাম পাঠানো হয়। অথচ ২০০৯ সালের বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে ২০১৪ সালে কিভাবে খারিজ হয়। যেখানে কলকাতা পুরসভার তৎকালীন আইন অনুযায়ী যে চাকুরি পাওয়ার যোগ্য। অথচ দেখা যাচ্ছে তৎকালীন আইন অনুযায়ী বহু ব্যক্তিদের চাকরি দেওয়া হয়েছে অথচ মামলাকারীকে বঞ্চিত করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

কলকাতা পুরসভার পক্ষের আইনজীবী অরিজিৎ দে চাকরির না পাওয়ার পক্ষে একাধিক সাবাল করলেও বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য ২০১৪ সালের কলকাতা পুরসভার যে নির্দেশ তা খারিজ করে দেন এবং আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে উত্তম নায়েককে চাকরি নিয়োগের নির্দেশ দেন।