Date : 2020-10-25

ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়

নয়াদিল্লি: ভারতরত্নের তালিকায় এবার প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফ থেকে এই ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতরত্নের তালিকায় যুক্ত হল আরও এক বাঙালির নাম। প্রণব মুখোপাধ্যায় ছাড়াও ৭০ তম প্রজাতন্ত্র দিবসে মরনোত্তর ভারতরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হবে সঙ্গীত শিল্পী ভূপেন হাজারিকা ও সমাজকর্মী নানাজি দেশমুখকে। প্রজাতন্ত্র দিবসের সন্ধেবেলা রাইসিনা হিলসে এই সম্মান প্রদান করবেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। কেন্দ্রে ইউপিএ সরকারের আমলে প্রণববাবুকে পদ্মবিভূষণ উপাধিতে সম্মানিত করা হয়েছিল। সেরা সাংসদের পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। এর আগে আশির দশকে প্রণববাবু সেরা অর্থমন্ত্রীর পুরস্কারও পেয়েছিলেন। কিন্তু ভারত রত্ন তো ভারত রত্নই। সেরার সেরা। প্রণববাবুর রাজনৈতিক জীবন এবং প্রকৃত রাষ্ট্রনেতা হিসেবে তাঁর অবদানের জন্যই তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে বলে সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে ভারতরত্নের তালিকা তৈরী নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবের সমালোচনা সামনে আসছে। এবারও তার অন্যথা হয়নি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ভূপেন হাজারিকা অল্প সময়ের জন্য হলেও বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলেন। নানাজি দেশমুখ ছিলেন সঙ্ঘের নেতা। অনেকেই আবার বলছেন, প্রণব মুখোপাধ্যাকে ভারতরত্ন সম্মান প্রদান করে নরেন্দ্র মোদী বাঙালি আবেককে ধরে রাখতে চাইছেন। সূত্রের খবর, বেশ কিছুদিন আগে প্রণব মুখোপাধ্যায় আরএসএস-এর সদর দফতরে দেখা করতে গেছিলেন। তবে সরকারি সূত্রে বলা হচ্ছে এই সিদ্ধান্ত রাজনীতির উর্ধে। এই ঘোষণার পর নরেন্দ্র মোদী ট্যুইট করে তিনজনের ভূমিকার কথাই উল্লেখ করেছেন। প্রণব মুকোপাধ্যায় সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, ‘প্রণব দা, আমাদের সময়কার একজন অসাধারণ রাষ্ট্রনেতা। তিনি দশকের পর দশক অক্লান্ত ও নিঃস্বার্থভাবে দেশের সেবা করে গিয়েছেন। দেশের উন্নয়নে ওনার বড় ভুমিকা রয়েছে। তাঁর বুদ্ধি ও জ্ঞানের কোনও বিকল্প নেই।’ এছাড়া সঙ্গীশিল্পী ভূপেন হাজারিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘তাঁর গান প্রত্যেক প্রজন্মেই সমানভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তাঁর গানে ছড়িয়েছে সম্প্রীতিও ভ্রাতৃত্বের বার্তা। তিনি ভারতীয় সঙ্গিতে পরিচিতি দিয়েছেন বিশ্বে।’ নানাজি দেশমুখ সম্পর্কে মোদী লিখেছেন, ‘গ্রামোন্নয়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। গ্রামের মানুষের জন্য বিশেষ অবদান রয়েছে তাঁর। তিনি সত্যিই একজন ভারতরত্ন।’ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের দেশের উত্তর থেকে দক্ষিণের হিন্দু মুসলিম সবস্তরের মানুষের কাছে জনপ্রিয় এবং গ্রহণযোগ্য নেতা।কূটনৈতিক পরিসরে এবং সংসদীয় রাজনৈতিক জীবনেও অসামান্য ভূমিকা তাঁর। বর্তমানে প্রণববাবুর সমতুল্য নেতা নেই বললেই চলে। অতীতে যে কারণে অটলবিহারী বাজপেয়ীকে ভারতরত্ন দেওয়া হয়েছিল, সেই একই কারণে প্রণব মুখোপাধ্যায়কেও এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে বলে মত অনেকের। তাঁর সময়কালে তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ কার্যকর হয়। ফাঁসি হল আজমল কাসভ, আফজল গুরু ও ইয়াকুব মেমনের। কার্যত এই তিন মৃত্যুদণ্ডে নজির গড়েছিলেন তিনি। এছাড়াও একাধিক অপরাধীর শাস্তি মকুব করার আবেদন ফিরিয়ে দেন তিনি। যদিও এর আগে বাঙালি হিসেবে ভারতরত্ন পেয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়, বিধানচন্দ্র রায়, অমর্ত্য সেন ও রবিশঙ্কর।