Date : 2020-10-29

‘খেলাশ্রী’ মঞ্চে কেন্দ্রকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর, জীবনকৃতি পেলেন সুকুমার ও জয়দীপ

কলকাতা: নাগরিকত্ব ইস্যু থেকে শুরু করে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি জগতে বিভিন্ন এজেন্সির উপদ্রপ, নেতাজি ইন্ডোরে খেলাশ্রী প্রদান মঞ্চ থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মমতার স্পষ্ট বক্তব্যে নতুন প্রজন্মকেও সজাগ থাকতে বলেছেন তিনি। তিনি বলেন, “নাগরিকত্ব কি ওঁরা বিচার করবে? ভোট এলেই এসব নাটক চলে। বিচারপতিরাও ছাড় পাচ্ছেন না। কেউ ফোনে কথা বললেই তা রেকর্ড করা হচ্ছে।” মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সোমবারই রাজ্যের ২২১টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে এক লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয় রাজ্য ক্রীড়া দফতরের তরফে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী এদিন কৃতি খেলোয়াড়দের পেনশন দেওয়ার কথা বলেন। বয়সকালে অনেক কৃতি খেলোয়াড় অর্থাভাবে ভোগেন। প্রায় ৪৩০০ নতুন ক্লাবকে পরিকাঠামো ও খেলাধুলোর উন্নতির জন্য দেওয়া হয়েছে দুই লক্ষ টাকা করে সাহায্য। তাঁদের কথা ভেবেই রাজ্যের এই ভাবনা। পাশাপাশি সিভিক ভলান্টিয়াররা ভাল খেললে তাঁদের চাকরি দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে খেলাশ্রী সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনটাই ইঙ্গিত করেন। পাশাপাশি কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “খেলো ইন্ডিয়া যেন ঘেল ইন্ডিয়া না হয়ে যায়। অনেককে দেখেছি দেশ জিতলেই টুইট করেন। ভোট এলে সাহায্য করে আবার সারা বছর খেলোয়াড়দের জন্য আর কিছু করতে দেখা যায় না। আমরা অনেক কিছু করি। কিন্তু পাবলিসিটি করি না। যেটা সারা বছর ধরে করি, সেটা আন্তরিকতা দিয়ে করি। পাঁচ বছরে একদিন করলে সেটা হয় না।” রাজ্যের ২৪ হাজার ক্লাবকে প্রথম ধাপে দু লক্ষ এবং পরে তিন লক্ষ টাকা দেয় রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী খেলাশ্রী প্রদান অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বলেন, “ক্রীড়াক্ষেত্রে আগের সরকারের তুলনায় সাত গুণ বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার সময় ক্রীড়াক্ষেত্রে বরাদ্দ ছিল ৭৩ কোটি টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৫১৫ কোটি টাকা। আমরা যতটা সম্ভব করার চেষ্টা করছি। প্রচুর ক্লাব আছে যেখান থেকে ভাল খেলোয়াড় তৈরি হয়। কিন্তু তাদের পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজন। আমরা তাঁদের কথা ভেবেই এই আর্থিক অনুদান চালু করেছি।” এজেন্সির ভয়ে ক্লাবগুলিকে টাকা দেওয়া থেকে সরে দাঁড়িয়েছে স্পনসর, সে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন কটাক্ষের সুরে বলেন, “স্পনসরের টাকাতেই তো ক্লাব চলে। কে কোথা থেকে টাকা দিচ্ছে, তা ক্লাব জানবে কী করে? কোনও ক্লাব বা খেলোয়াড়দের আগে স্পনসর করত একাধিক সংস্থা। কিন্তু এখন এজেন্সি-র জন্য করতে ভয় পাচ্ছে।” এদিন এনআরসি ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। পদবী কোন মানুষের পরিচয় নয়। বরং কোন মানুষের পরিচয় নির্ভর করে তার কাজের মধ্যে দিয়ে। বাংলার প্রতিভা নিয়ে গোটা বিশ্ব চলছে। বাংলার ক্রীড়া ও শিল্প জগৎ-কে খেলাশ্রীর মঞ্চ থেকে এভাবেই অনুপ্রেরণা যোগান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন জীবনকৃতী সম্মান দেওয়া হয় প্রাক্তন ফুটবলার সুকুমার সমাজপতি ও টেনিস খেলোয়াড় জয়দীপ মুখোপাধ্যায়কে। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রাজ্য সরকারের এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, পুরমন্ত্রী ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম, লক্ষ্মীরতন শুক্লা-সহ বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা।