Date : 2019-12-11

চাঁদের বুকে গাছের চারা সৃষ্টি করল চীন

চীন : চীনের মহাকাশ সংস্থা প্রেরিত চন্দ্রযানে এই প্রথম কোন জৈব বস্তু জন্ম হল। চাঁদের যে পৃষ্ঠ পৃথিবীর কাছে দৃশ্যমান নয় সেই পৃষ্ঠে চন্দ্রযান পাঠিয়েছে চীন।  চীনা যন্ত্রযান চ্যাং’অ – ৪ থেকে পাঠানো এক ছবিতে ধরা পড়েছে তুলোর বীজ থেকে গাছ গজানোর দৃশ্য। গত ৩ জানুয়ারি চাঁদে পা রেখেছে  চীনা চন্দ্রযান চ্যাং’অ – ৪। এই যানে ছিল চাঁদের ভূতাত্ত্বিক গঠন ও বিশ্লেষণের যন্ত্রপাতি ছাড়াও ছিল কিছু মাটি, তুলো এবং আলুর বীজ, ফ্রুট ফ্লাই নামে এক ধরনের মাছের ডিম। তুলোবীজ থেকে গজানো গাছের চারা রাখা হয়েছে চন্দ্রযানের ভেতর একটি বন্ধ কনটেইনারে। সেখানে একটি বায়োস্ফিয়ার তৈরী করা হয়েছে, যেখানে কৃত্রিম ভাবে তুলো গাছের জন্ম হয়েছে। এর অাগে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন কৃত্তিম উপায়ে গাছ জন্মের ঘটনার সাক্ষী আছে। তবে চন্দ্রযানে এই প্রথম তুলো গাছের জন্ম হল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাঁদের বুকে তাপমাত্রা অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। কখনো চরম ঠান্ডা আবার কখনো তীব্র গরম থাকে চন্দ্রপৃষ্ঠ। এই পরিবেশে আবদ্ধ অবস্থায় তাপমাত্রাকে ধরে রাখা সম্ভব নয়। চাঁদের বুকে গাছের চারা গজানোর বিষয়টা দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। মঙ্গলগ্রহে অভিযানের সময় লাগে প্রায় আড়াই বছর। তাই মঙ্গলে এই প্রক্রিয়া অনেকটাই সুবিধাজনক। আবদ্ধ পরিবেশে স্বাভাবিক তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, এবং মাটির পুষ্টিগুণ ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন কাজ। চাঁদে যদি গাছপালা গজানো সম্ভব হয় তবে নভোচারীরা হয়তো সেখানে খাদ্য উৎপাদন করতে পারবে। জৈব পদার্থ নিয়ে এসব পরীক্ষানিরীক্ষার ফলে কি চাঁদ দূষিত হয়ে পড়বে? বিশেষজ্ঞদের মতে এই সম্ভবনা খুব কম। এর আগে এ্যাপোলোর নভোচারীদের ফেলে আসা মলমূত্র ভর্তি পাত্র এখনও চাঁদের বুকে রয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে কোন দূষণ ছড়ায়নি।