Date : 2020-10-31

প্রেম চিত্তে চায়ে চুমুক

ওয়েব ডেস্ক: এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই- রাজনীতি থেকে খেলা, চাকরি থেকে বিনোদন, বাঙালির হাতে গরম চায়ের পেয়ালা মানেই তর্ক অথবা আলোচনায় মশগুল। বাঙালির চায়ে পে চর্চা কবে থেকে শুরু হয়েছে তার সাল তারিখ অবশ্য কারোর জানা নেই। জানা নেই মহানগরীর আনাচে কানাচে শত শত প্রাচীন চায়ের দোকানের ইতিহাস। তবে বাঙালির মনে আছে ডেকার্স লেনে চিত্তবাবুর চায়ের দোকানের ঐতিহ্য। যা আজও বহন করে চলেছে আড্ডা তর্কের ইতিহাসকে। বঙ্গভঙ্গের পর সুদুর বাংলাদেশ থেকে কলকাতার টিবোর্ডের কাছে আস্তানা করেছিলেন চিত্তরঞ্জন রায়। রুজির টানে সেখানেই চায়ের দোকান দিয়েছিলেন চিত্তবাবু। সময়ের ঘষায় সেই চায়ের দোকান চলে যায় ডেকার্স লেনে। আর সেখানেই সারাদিন ধরে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপটা এগিয়ে দিচ্ছেন চিত্তবাবু। তেলচিটে ছাদে নিয়নের ফ্যাকাসে আলো। দোকানের গ্রীলের ঝুলকালি জানান দেয় বহু যুগের ব্যস্ততার দিনলিপি। পুরনো কাঠের তাকে সাজানো রয়েছে পাউরুটি। দশ ফুট বাই পাঁচ ফুট চওড়া দোকানের মধ্যে কোনোক্রমে পিঠে পিঠ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে তিন কর্মচারী, কেউ ক্রেতার দিকে এগিয়ে দিচ্ছে চা। কেউ পাউরুটিতে মাখন লাগিয়ে বাটার টোস্টের অর্ডার সার্ফ করছেন। ঝড় জল বৃষ্টিতে জৌলুসহীন কলেবর নিয়ে এভাবেই দাঁড়িয়ে আছে চিত্তবাবুর দোকান। এখানে যে মেলে চায়ের- সঙ্গে নির্ভেজাল আড্ডা। ৭৫ বছরের পুরনো মধ্য কলকাতার এই চায়ের দোকানে চা, টোস্ট আর ঘুগনি দিয়ে ব্যাবসা শুরু করলেও যুগের তালে এখন এই দোকানে পাওয়া যায় মটন, চিকেন স্টু। আমিষ-নিরামিশ মিলিয়ে নানা রকম সুস্বাদু খাবার, আজও তাই চায়ের টানে ছুটে আসেন রসিকরা। প্রৌঢ়দের জন্য রয়েছে পৃথক বেঞ্চের ব্যবস্থা।