Date : 2020-10-29

শহরে দূষণ নিয়ন্ত্রণে বৈঠকে রাজ্য ও পর্ষদের

কলকাতা : শহরে বাতাসে দূষণের মাত্রা ক্রমশ বেড়ে যাওয়ায় শ্বাসপ্রশাস নেওয়া ও সুস্থ ফুসফুসের অধিকারী থাকা বড় দায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শহরে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ বায়ু দূষণের কারণে ফুসফুস জনিত সমস্যায় ভোগে। শীতের দিনে ভারি বাতাসে এই সমস্যা আরোও বাড়তে থাকে। কলকাতা ও পার্শবর্তী এলাকাগুলোতে দূষণ মাত্রার পরিমাপ করতে  রাজ্যের পরিবেশ ও পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সম্পাদক নীরাজ সিঙ্গল এবং বোর্ডের অন্যান্য আধিকারিকদের সাথে একটি বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পরিবেশ মন্ত্রী জানান, নভেম্বরের শুরু থেকে মার্চের শেষে এইসময়ে বাতাসে দূষণের মাত্রা ক্রমশ বাড়ে। পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড এবং পরিবেশ দপ্তরের তরফ থেকে যৌথভাবে কতগুলি নিয়ম পালনের কথা বলেন, ১.এস টু থেকে এন আই  পর্যন্ত নটা কম্পনেন্ট এখনো পর্যন্ত আন্ডার কন্ট্রোল আছে। তবে  কলকাতা শহরে যান-বাহন ঘটিত দূষণ অনেক বেশি। শীতের সময় সকালের দিকে দূষণের প্রবনতা বাড়ে। ২. দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্ট এর তরফ থেকে পুরনো কমের্সিয়াল প্যাকেজ গুলোকে বন্ধ রাখা হচ্ছে। ১৫ বছরের পুরনো কমার্শিয়াল ভেহিকেল গুলোকে কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলাতে ঢুকতে বন্ধ করা হয়েছে। ৩.ওয়েস্ট বেঙ্গল পল্লিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের ইপি অ্যাক্ট ১৯৮১ এবং ইপি অ্যাক্ট ১৯৮৬ ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ৪.যেসব জায়গায় কনস্ট্রাকশনের কাজ হচ্ছে সেখানে দূষণ আইন মেনে কাজ করতে হবে। বিধাননগর পৌরসভা, কলকাতা পৌরসভা ও হাওড়া পৌরসভা একই নির্দেশ দিয়েছে সমস্থ নির্মাণ সংস্থাকে। ৫.এর পাশাপাশি দশটি জায়গায় পলিউশন কন্ট্রোল মেশিন লাগানো হবে। যাদবপুর এবং ডানলপে পরীক্ষামূলকভাবে এই মেশিন লাগিয়ে বাতাসের দূষণের মাত্রা মাপা হয়। ৬. বাতাসে তিনটি কম্পনেন্ট ৩০ শতাংশের মতো বেশি আছে সেগুলিকে কমাতে হবে এছাড়াও ডাবলু.বি.টি.সি-র আওতায় ৫৫টি চার্জিং স্টেশন তৈরী করতে হবে। দেশের মধ্যে রাজধানী দিল্লি দূষণের দিক তেকে শীর্ষে আছে। প্রতি বছর দীপাবলির পর থেকে বাতাসে দূষণ মাত্রা ব্যপক হারে বাড়তে থাকে রাজধানী দিল্লিতে। দূষণের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে থেকেও সেই তুলনায় কলকাতা অনেকটাই সুরক্ষিত বলে মনে করে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। এখনও পর্যন্ত শহরের বাতাসে পিএম-১০ ,পিএম-২.৫ এবং এনওটু নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকায় দূষণের ভয়াবহতা দিল্লির তুলনায় অনেকটাই কম বলে মনে করছে পশ্চিম বঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ।