Date : 2020-10-24

এক টুকরো দোকান যেন রামধনুর সাম্রাজ্য

কলকাতা: সাধারণ মানুষ হয়েও তিনি অন্যরকম। জীবন রঙ তুলি দিয়ে রঙিন করার পাশাপাশি ফ্রেম বন্দি করতেও ভোলেন না। ফুটপাথ থেকে এবার আর্ট এক্সিবিশনের পথে শিল্পী স্বপন চক্রবর্তী। সংসারের অনটনে ভঙ্গ দিতে হয়েছে পড়াশুনোয়। বিধান সরণি ধরে স্কটিশচার্চ স্কুলের দিকে যেতে ফুটপাথের ধারে ছোট্টো দোকান ফ্যান্সি ফটো সেলার, যেখানে স্বপন বাবুর কেটে গেছে জীবনের ৩৬ টা বছর।

দোকান বড্ড ছোট, তাই তাঁর বাঁধানো ছবি দোকান ছেড়ে নেমে এসেছে পথে। ৬ ফুট বাই ১০ ফুট ঘরে উপচে পড়ছে বিভিন্ন আকৃতির বাঁধানো ছবি। সেই ছবির ভিড়ে উজ্বল বিভিন্ন ধরনের ফটো ফ্রেম।

কোনটায় পরম যত্নে বাঁধানো কবিগুরুর ছবি, আবার কোনটায় শোভা পাচ্ছে অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের ছবি। তবে ছবি বাঁধানোর সঙ্গে সঙ্গে দুষ্প্রাপ্য ছবির সংগ্রহ করা তার নেশা হয়ে গেছে। বর্তমানে এই দোকানের বয়স ১০৬ বছর। এখানেই গড়ে উঠেছে তার ছবি সংগ্রহশালাটি।

ছোট থেকেই একটু আলাদা ভাবে চিন্তাভাবনা করতে ভালোবাসতেন স্বপন বাবু। মাত্র ২৫ বছর বয়সে প্রথম অন্নদা মুন্সির ছবি বাঁধান এই শিল্পী। তারপর কর্মের মধ্যে দিয়ে তাঁর প্রতিভার বিকাশ হয়েছে ক্রমশ।

ছবি বাঁধাই থেকে ছবি আঁকার উৎকর্ষতা ক্রমশ বেড়েছে তাঁর। বর্তমানে তার আঁকা ছবি যাচ্ছে আর্ট গ্যালারির এক্সিবিশনে। তাঁর আঁকা মোট ২৮ টি ছবি ফ্রেমিং করা অবস্থায় নির্বাচিত হয়েছে এক্সিবিশনে যাওয়ার জন্য।

বর্তমানে বাজারে ফাইবারের সিন্থেটিক ফ্রেম এসে গেলেও কাঠের ফ্রেমের চহিদা এখনো যথেষ্ট আছে বাজারে। কলকাতার রাস্তায় ৬ ফুট বাই ১০ ফুট ঘরে দোকনটিতে নানা ধরনের ছবি দেখে মনে হবে যেন অনামী কোন আর্ট গ্যলারিতে এসে উপস্থিত হয়েছেন।

জীবনে কোন বাঁধা বিপত্তি যে শেষ পর্যন্ত শিল্পীর মনের রঙ মুছে দিতে পারে না তা স্বপন বাবুর দোকান দেখলে বোঝা যায়। রামধনু রঙে গোটা দোকানের স্বর্গীয় ছবি নেমে এসেছে রাস্তায়। শহরের আনাচে কানাচে এভাবেই ছড়িয়ে রয়েছে কত প্রতিভা।