Date : 2020-06-02

দিল্লিতে গর্ধ শিক্ষিত- মুখ্যমন্ত্রীর উপমা

রামপুরহাট: লোকসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে রাজ্যে তৃণমূল ও বিজেপির সম্পর্ক ততই যুযুধান হচ্ছে।  মঙ্গলবার কাঁথিতে অমিত শাহর জনসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একের পর অভিযোগ তুলতে শুরু করেন বিজেপি সভাপতি। বিজেপির সভা শেষে কাঁথি তীব্র রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুরু হয় তৃণমূল ও বিজেপির পরস্পরের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার। বুধবার রামপুরহাটের জনসভা থেকে এই ঘটনার পাল্টা উত্তর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে এদিন সরকারি প্রকল্প ঘোষণার সভামঞ্চ থেকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহকে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, ”দিল্লির ওই কিছু নেতা আছে। সেগুলো অর্ধশিক্ষিত, না গর্ধ-শিক্ষিত আমি জানি না। তারা বাংলার সংস্কৃতি জানেন না। শুধু মিথ্যে কথা বলে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছেন।” মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ২টো নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার নামে রামপুরহাট কিসানমান্ডির হেলিপ্যাডে। তাঁকে স্বাগত জানান জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মন্ডল, কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু, পুলিশ সুপার শ্যাম সিংহ সহ অন্য সরকারি আধিকারিকেরা। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, সভামঞ্চে চার জন চাষির কাছ থেকে প্রায় ৮০ কুইণ্টাল ধান কেনেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া কুশুম্বা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ জন ছাত্রীর হাতে সবুজসাথী প্রকল্পের সাইকেল তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। দু’জন উপভোক্তা পান ডিজেল পাম্পসেট। রামপুরহাট থানার বড়শাল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক তাপস ভট্টাচার্য পান হাইজাম্প সেট। জিতেন্দ্রলাল পৌরমন্দিরের সম্পাদক সন্দীপ মণ্ডলের হাতে টেবিল টেনিস বোর্ড তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাঁচ জন লোকসঙ্গীতর শিল্পীর হাতে তুলে দেওয়া হয় একতারা, খোল, ধামসা-মাদল। দুর্গাপুজো, সরস্বতী পুজো প্রসঙ্গে অমিত শাহর কটাক্ষের জবাব দিয়ে তিনি বলেন, ” বাংলায় পুজো হয়না অভিযোগ করছে। বাংলার ঘরে ঘরে পুজো হয়।” এদিন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে কন্যাশ্রী প্রকল্প, নির্মল বাংলা প্রকল্প মোদী জমানার আগেই শুরু হয়েছে বলে জানান। কন্যাশ্রী প্রকল্প থেকে নকল করে “কেন্দ্র বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও প্রকল্প চালু করে বলে তাঁর অভিযোগ।” এদিন নোটবন্দির জন্য ফের বিজেপিকে আবারও একবার কঠাগড়ায় তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপিকে গান্ধীহত্যাকারী বলে তোপ দেগে তিনি বলেন, ” গান্ধীজীর হত্যাকারীরা বহাল তবিয়াতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাংলা দেশের আগামীদিনের পথ দেখায়, আমাদের বিচ্ছিন্ন করতে আসলে লড়াই করব।” এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ” প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাফাল যুদ্ধবিমান, জিএসটি, নোটবন্দি, গ্যাস কেলেঙ্কারি সহ একাধিক বিষয়ে দুর্নীতি হয়েছে।”