Date : 2020-10-30

নিয়ম ভেঙেই আগুনের গ্রাসে ট্রেডার্স এসেম্বলি বিল্ডিং…

কলকাতা: বগড়ি মার্কেটের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের শহরে জ্বলে উঠল আরও একটি জতুগৃহ। গড়িয়াহাট মার্কেটের গুরুদাস ম্যানসন বহুতলটি চার ভাগে বিভক্ত। শনিবার রাতে আগুন লাগে ১৬১এ ও ১৬১বি রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের অংশটিতে। আগুন প্রথমে নিচের দিকে লাগলেও ক্রমশ বহুতলের পাঁচ তলায় পৌঁছে যায়। দমকল বাহিনীর চেষ্টায় কোন রকমে আবাসিকদের উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রাসবিহারী এভিনিউয়ের দিকে ফুটপাথের উপর থাকা অস্থায়ী দোকানগুলিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, ফুটপাথের কোণের একটি অংশে প্রথমে আগুন দেখতে পাওয়া যায়। পরে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাকি অংশে। আগুন দেখেই স্থানীয় লোকজন খবর পাঠান দমকলে। খবর যায় কয়েক মিটার দূরেই গড়িয়াহাট থানায়।

দমকল আসার আগেই চিৎকার চেঁচামেচি শুনে অনেক আবাসিক রাস্তায় নেমে আসেন। আটকে পড়েছিলেন এক বৃদ্ধা। পরে অসুস্থ বৃদ্ধাকে দমকলকর্মীরা উদ্ধার করেন। কিন্তু ফুটপাত জুড়ে প্লাস্টিক আর হোর্ডিংয়ের গেরোয় দমকলকর্মীরা পাইপ নিয়ে আগুনের উৎসে পৌঁছতে হিমশিম খেয়ে যান। অনেক জায়গায় দমকল কর্মীরা গ্যাস কাটার দিয়ে হোডিং কেটে জল দেয়। শনিবার সারারাত আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে অবশেষে ভোরের দিকে হাইড্রোলিক ল্যাডার নিয়ে জল দিতে থাকে গোটা বিল্ডিং-এ। বিল্ডিং-এর সামনের দিকের আগুন নিয়ন্ত্রনে আসলেও পিছনের দিকে আগুন জ্বলতে থাকে। আদি ঢাকেশ্বরী, ট্রেডার্স অ্যাসেম্বলির মতো ১৬টি দোকান ৯০ শতাংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

রবিবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছান দমকল মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। দোকানে এসি চালিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, ” এটি মার্কেট নয়, বাড়ির নিচের দোকান। মার্কেট হলে ফায়ার সেফ্টির বিষয়টা দেখতাম। তবুও এক্ষেত্রেও সেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। শহরের সব দোকান ও মার্কেটে নিয়ম মেনে ফায়ার অডিট করতে হবে। দমকল ও পুলিশের থেকে ঘটনার ফরেন্সিক রিপোর্ট পেলে তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে কলকাতা পুরসভা।” কলকাতার হকারদের সঙ্গে বৈঠকদের আশ্বাস দেন মেয়র। ঘটনার দিন সকালে উপস্থিত হন মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার, তিনি বলেন, ” অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ব্যবসায়ীরা। তবে গড়িয়াহাট মোড় হওয়ায় দমকল আগুন নেভানোর অনেকটাই সুবিধা পেয়েছে। তবে ফুটপাতের হকারদের এভাবে ত্রিপল ও প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধজ্ঞা জারি করেছে পুরসভা। ” প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দাহ্যবস্তুতে পরিপূর্ণ বিল্ডিং-এ হাকাররাজ চলছে বহুদিন ধরে। দমকল সূত্রে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়,দোতলার বারান্দায় জেনারেটর চালানোর জন্য ড্রাম ভর্তি ডিজেল ছিল। তাতেও আগুন ছড়িয়েছে দ্রুত এবং তা আয়ত্তে আনতে বেগ পেতে হয়েছে দমকলকর্মীদের