Date : 2019-08-26

ক্যালেন্ডারের পাতায় ঠাঁই পেল তাহাদের কথা..

কলকাতা: সমান ভাবে বেঁচে থাকার অধিকার পেয়েও পর্দার আড়ালে চোখ মোছে ওরা। সমাজে এখনও অমর গাঁথা হতে পারেনি  ” আর একটি প্রেমের গল্প “। কিন্তু নিজেদের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করতে অনেক লড়াই করতে হয়েছে ওদের। আইন স্বীকৃতি দিলেও এই সমাজে এখনও বাঁকা দৃষ্টির নিচেই থাকতে হয়। সেই চিন্তা ভাবনাকে বদলে দিতে নিরন্তর প্রচেষ্টা করে চলেছে ওরা। যদিও এখনও পথ চলা অনেকটাই বাকি। আর সেই যাত্রা নেহাত সহজ নয়। সমকামি বা রূপান্তরকামীদের লড়াইটা যেমনই কঠিন, নিজেদের পরিচয় নিয়ে তেমনই উত্থান পতনের জীবন যাপন করতে হয় তাদের। নিজেদের পরিচয়কে সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে অভিনব সব চিন্তা ভাবনা করে চলেছে রূপান্তরকামীরা।

নতুন বছরে তেমনই এক অভিনব উদ্যোগ নিল সন্দীপ্তা ছেত্রী ও তার টিম। নতুন ক্যালেন্ডারের উদ্বোধন, না তবে এ কোন সাধারন ক্যালেন্ডার নয়। প্রচলিত রোল মডেলের ছবির জায়গায় নতুন বছরের ক্যালেন্ডারে একঝাঁক রূপান্তরকামীর মুখ দেখা যাবে। ফটোশ্যুটে কাজ করেছেন তারাই। ইতিমধ্যেই তৈরী হয়ে গিয়েছে ক্যলেন্ডারের কভারফটো। পরিকল্পনা অনেকদিনের হলেও অর্থের অভাবে থমকে যায় এই অভিনব উদ্যোগ।

সংবাদ মাধ্যমের কাছে সন্দীপ্তা ছেত্রী বলেন, এই ক্যালেন্ডার শুধু রূপান্তরকামীদের ছবি নিয়ে তৈরী ক্যালেন্ডার নয়। বরং এলজিবিটির আইকিউ নিয়ে। অর্থাৎ লেসবিয়ান, গে, ট্রান্সজেন্ডার, বাইসেক্সুয়াল, ইন্টারসেক্স, কুয়ের এই ছয় রকম বিষয় নিয়ে ক্যালেন্ডারের প্রত্যেকটা মাসের পাতায় বিস্তারিত ভাবে লেখা থাকবে। সমাজে নিজেদের পরিচয় এবং জীবনের ধারাকে আরও বেশি পরিচিত করতে এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। অন্যান্য ক্যালেন্ডারের মতো ঝা-চকচকে ফটোশ্যুট না থাকলেও ক্যালেন্ডারটি একদম ভিন্ন স্বাদের।

তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অনেকেই। এই ক্যালেন্ডারের ফটোগ্রাফার শুভজিৎ নস্কর তার সামান্য প্রয়াসকে সম্বল করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। রূপান্তরকামীরা যে সমাজে অন্য আর সকলের মতোই কাজের অভিজ্ঞতা দিয়ে সেই কথাই বোঝালেন শুভজিৎ। নিরন্তর পাশে থেকে তাদের জীবনশৈলীর সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন তিনি। এখন এই অভিনব ক্যালেন্ডার খুব সামান্য কয়েকজন মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েই খশি হয়েছেন তিনি। এই ক্যালেন্ডারে রয়েছেন মোট ৩০জন রূপান্তরকামী মডেল। তাদের ছবির সঙ্গে থাকছে সমাজের তাদের প্রতিদৃষ্টি ভঙ্গির কথা। ক্যালেন্ডারে পাতায় হয়তো বছর গড়িয়ে আসবে নতুন বছর। পুরনো হবে বিগত বছরের দিনগুলি। কিন্তু সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে তাদের প্রতিদিনের উদ্যোগগুলি হবে আরও রঙিন। এমন আশায় বুক বেঁধে তাদের পথচলাকে কুর্ণিশ জানাতেই হয়।