Date : 2020-11-01

একরাতের জন্য নেতাজির সান্নিধ্য পেয়েছিল এই পরিবার…

পুরুলিয়া: পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ এক পরিবার। কিন্তু ২৩ জানুয়ারি দিনটায় এলাকার মানুষের কাছে চট্টোপাধ্যায় পরিবার ঐতিহাসিক মহিমামন্ডিত। এলাকার সব মানুষ এই দিনে বাড়ির দরজায় করজোরে নেতাজির পদধুলি সংগ্রহ করতে উপস্থিত হয়। একরাতের জন্য সময়টা ১৯৩৯ সালের ৯ ডিসেম্বর, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু পুরুলিয়ায় আসেন তাঁর নব গঠিত ফরওয়ার্ড ব্লক দলের সাংগঠনিক শক্তির বিকাশ ও প্রসারের কাজে। পরাধীন ভারতের স্বাধীনতার অন্যতম কান্ডারি জাতীয় নায়ক সুভাষ চন্দ্র বসুর সান্নিধ্যে থাকতে চেয়ে ছুটে এসেছিলেন অনেকেই।

ওই সময় তখন পুরুলিয়া শহরের নামোপাড়ার বাসিন্দা প্রখ্যাত আইনজীবী এবং পুরুলিয়া পুরসভার প্রথম পুরপ্রধান নীলকণ্ঠ চট্টোপাধ্যায়ের বিশাল নাম ডাক ছিল। পুরুলিয়ায় এসে তার বাড়িতেই পদার্পণ করেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস। তাঁকে স্বাগত জানিয়ে সমাদরে বাড়িতে নিয়ে যান নীলকন্ঠ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর দুই ছেলে অর্ধেন্দু শেখর চট্টোপাধ্যায় এবং সুধাংশু ধর চট্টোপাধ্যায়। বাড়ির উঠোনে বসে সেই কথাই শোনালেন নিলকন্ঠ চট্টোপাধ্যায়ের নাতি বছর পঁচিশের প্রদ্যুৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, নেতাজিকে একবারের জন্য চাক্ষুস করতে সেদিন ছুটে এসেছিলেন পুরুলিয়া অসংখ্য মানুষ। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বহু গন্যমান্য ব্যক্তিত্ব। কিছুটা দূরে রামচন্দ্রপুরে দাতব্য চক্ষু স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছিলেন নেতাজি। আজ সেই সেই ফলক রয়েছে উজ্জ্বল হয়েই।

অসম্ভব শারীরিক ধকলের কারণে প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নেতাজি সেদিন চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে রাত কাটান। পরদিন ভোর হতেই সামান্য জলযোগ সেরে তিনি রওনা দেন। মাত্র একরাতের জন্য নেতাজির সান্নিধ্য পেয়েছিল এই ভাগ্যবান পরিবারের সদস্যরা, আর তখন থেকেই নেতাজির স্মৃতি বিজড়িত পুরুলিয়া শহরের ‘নীলকণ্ঠ নিবাস’-এ আজও মর্যাদার সঙ্গে তাঁর জন্মদিন পালন করে আসছে। প্রতি বছর দেশ নায়ক নেতাজির আবক্ষ মূর্তির সামনে প্রদীপ প্রজ্জলনের মধ্য দিয়ে দুপুর ১২ টার পর জন্মক্ষণের মূহুর্তে মহামানবকে স্মরণ করবে পুরুলিয়ার শহরের নামোপাড়ার নীলকণ্ঠ চট্টোপাধ্যায়ের পরিবার।

প্রদ্যুৎ বাবুর স্ত্রী পুর্ণিমা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এই বাড়ির বউ হিসেবে আমি গর্বিত। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর মতো জগত্‍ বিখ্যাত বিশাল ব্যক্তিত্ব পদার্পণ করেছিলেন আমাদের বাড়িতে। তাঁর জন্মদিনে প্রতিবছর নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শ্রদ্ধা জানাই। তাঁকে না দেখলেও তাঁর স্মৃতি বিজড়িত নানা ছবি, আসবাবপত্র আজও অমলিন হয়ে রয়েছে।’

স্মৃতির সরণিতে এই বিশেষ দিনটিতে পুরুলিয়ার চট্টোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যদের দ্বারা স্থাপিত নেতাজির আবক্ষ মুর্তিতে মাল্যদান করে নানা দেশাত্মবোধক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দিনটিকে পালন করেন এলাকার সাধারণ মানুষ। তাই প্রতিবছর ২৩ জানুয়ারি দিনটি চট্টোপাধ্যায় পরিবারের কাছে উৎসবের দিন হয়ে গেছে।