Date : 2020-12-01

ঘাটতি কমাতে স্কুলে এবার ইন্টার্ন শিক্ষকের ভাবনা রাজ্যের…

কলকাতা: স্কুল কলেজে শিক্ষক শিক্ষিকাদের শূন্যপদ নিয়ে অনেক সময় রাজ্য সরকারের শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। এই সমস্যা সমাধানে আজ নবান্নে উচ্চ-শিক্ষা দফতরের সঙ্গে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন নিয়ে বৈঠক হয়। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বৈঠকে অংশ নেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, রাজ্যের উচ্চশিক্ষা সচিব সহ বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগন৷ স্কুল কলেজে শিক্ষকের সমস্যা সমাধানে এবার বহু কলেজ ও ইউনিভার্সিটি পাশ পড়ুয়াদের স্কুলে ইন্টার্ন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হতে পারে বলে আজকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া পঞ্চম শ্রেনীকে প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসা হতে পারে বলে জানা গেছে। স্কুলে উচ্চ-প্রাথমিকে পড়ানোর জন্য ইন্টার্ন শিক্ষকদের দু বছরের জন্য নিয়োগ করা হবে এবং কম করে দু হাজার টাকা ভাতা ও দশম ও দ্বাদশ পর্যায়ে যারা পড়বেন তাদের মাসিক ভাতা আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে৷ স্কুলে শিক্ষাকতায় ইন্টার্নশিপ করলে পরবর্তীকালে তাদের চাকরি ক্ষেত্রে সুবিধা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বৈঠকে রাজ্যে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয়ে সঠিক তথ্যের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির শীর্ষে রাখা হয়েছে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, রাজ্যের শিক্ষাসচিব, প্রেসিডেন্সি ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে। বিভিন্ন জেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নয়নে সেন্ট জেভিয়ার্স মডেল অনুসরণ করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কীভাবে রাজ্যে বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলি জেলার বিশ্ববিদ্যালয়গুলির দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে সে বিষয়েও আলোচনা হয় এই বৈঠকে।
বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘রাজ্যে শিক্ষার ব্যাপ্তি বাড়ছে৷ জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে৷ সেখানে কী পড়ানো হবে, কীভাবে চলবে বিশ্ববিদ্যালয়, তাতে সাহায্য করবে ঐতিহ্যশালী, নামজাদা বিশ্ব বিদ্যালয়গুলি৷’’ বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ২০১১ সাল পর্যন্ত রাজ্যে ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তা বেড়ে হয়েছে ২৮টি। এখনো পর্যন্ত আরও ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে কলেজের সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বেড়ে হয়েছে ৫০টি। স্কুল শিক্ষায় ভর্তি ১৩ লক্ষ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ লক্ষ৷ এদিনের বৈঠক ফলপ্রসু হলেও, টাকা না দেওয়ায় বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী৷